বালাগঞ্জে আট মাসে তিন গাড়ি চালক খুন
প্রকাশিত হয়েছে : ২৮ মে ২০১৫ ইং, ১২:৩২ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ৬৭৪ বার পঠিত
শামিম আহমদ,বালাগঞ্জ:: সিলেটের বালাগঞ্জে আট মাসে তিন গাড়ি চালক দুস্কৃতিকারীদের হাতে খুন হয়েছেন। গত বছরের শেষের দিকে নিজ এলাকায় একজন এবং চলতি বছরের এপ্রিল থেকে মে মাস পর্যন্ত আরও দুইজন নির্মম ভাবে হত্যাকান্ডের স্বীকার হন। তাছাড়া অপহরণকারী চক্র আরও কয়েকজন চালককে কৌশলে আটক করে বড় অঙ্কের মুক্তিপন আদায় করে তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে। গাড়ির চালকরা বারবার দুর্বৃত্তদের হাতে খুন এবং গাড়ি ছিনতাইয়ের ঘটনায় চালক-মালিক ও এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এসব ঘটনায় সমাজের বিভিন্ন মহলের লোকজন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
সংশি¬ষ্ট সুত্রে জানা গেছে, গত ১৮ মে রাত দশটার পর থেকে নিখোঁজ হন অটোরিকশা চালক ইকবাল হোসেন (২৬)। নিখোঁজের বিষয়ে পরদিন বালাগঞ্জ থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করেন অটোরিকসা গাড়ির মালিক উপজেলার তিলকচাঁনপুর গ্রামের বাসিন্দা নুর উদ্দিন। নিখোঁজের পাঁচ দির পর সুনামগঞ্জ জেলার দক্ষিন সুনামগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের ডাবর নামক এলাকায় মহাশিং নদীর ব্রীজের উত্তর পার্শ্বে পানিতে ভাসমান অবস্থায় ইকবাল হোসেনের অর্ধ গলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। বালাগঞ্জ থেকে ভাড়ায় নিয়ে চালক ইকবাল হোসেনকে খুন করে তার ব্যবহৃত অটোরিকশা ছিনতাই করে
চলিত বছরের গত ৫ এপ্রিল বালাগঞ্জ থেকে নোহা গাড়ী (মাইক্রোবাস) ভাড়ায় নিয়ে গাড়ির চালক বিশ্বজিৎ দাস বিষুকে খুন করে হবিগঞ্জ জেলার সায়েস্থাগঞ্জ উপজেলায় লাশ ফেলে দিয়ে গাড়ি ছিনতাই করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। ওই রাত থেকে বিষুর কোনো সন্ধান না পেয়ে পরদিন সকালে বালাগঞ্জ থানায় জিডি করেন নোহা গাড়ির মালিক শফিকুল ইসলাম আরক। গত ৬ এপ্রিল ভোরে বিষুর মৃতদেহ অজ্ঞাত অবস্থায় উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠায় সায়েস্তাগঞ্জ থানা পুলিশ। লাশের ময়না তদন্ত শেষে আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলাম হবিগঞ্জ শাখায় লাশটি হস্তান্তর করা হয়। আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে অজ্ঞাত অবস্থ্য়া লাশটি (দাহ না করে) আংশিক ভাবে সমাহিত করে রাখা হয়।
এদিকে ৬ এপ্রিল সন্ধার দিকে বালাগঞ্জ থানার ওসি তরিকুল ইসলাম তালুকদার সায়েস্তাগঞ্জ থানার একটি অজ্ঞাত লাশের ছবি ফেইসবুকে দেখতে পেয়ে নোহা গাড়ীর মালিক শফিকুল ইসলাম আরক এবং স্থানীয় চালকদেরকে দেখালে তারা বিষুর লাশ শনাক্ত করেন। হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসকের অনুমতিক্রমে ৮এপ্রিল বিষুর লাশ বালাগঞ্জে এনে বিকেলে চাঁনপুর স্মশ্বান ঘাটে তার অন্তেষ্টিক্রীয়া সম্পন্ন করা হয় হয়। এই ঘটনায় ১২ এপ্রিল নিহত বিষুর পিতা মন্টু দাস সায়েস্থাগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। বিষু হত্যা এবং নোহা গাড়ী ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত থাকায় গাড়ীর মালিক শফিকুল ইসলাম আরকের শালা ওসমানীনগরের নুর উদ্দিন ও বালাগঞ্জের খারমাপুর গ্রামের মাইক্রো চালক আহমদ আলীসহ চারজনকে আটক করেছে সায়েস্থাগঞ্জ থানা পুলিশ।
গত বছরের ১৮ অক্টোবর রাতে বালাগঞ্জ থেকে অন্যত্র স্থানে যাওয়ার সময় নিখোঁজ হন বালাগঞ্জ পূর্ব বাজার জামে সমজিদের ইমাম ও খতিব হাফিজ আবদুল হামিদ শুকুর ওরফে কালা হাজুর ও অটোরিকশা চালক আরশ আলী। নিখোঁজের পাঁচদিন পর ২৩ অক্টোবর তাদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। বালাগঞ্জ সদর ইউপির বড়চর গ্রামে ইমাম কালা হুজুরের নিজ শালিকার স্বামী ফিরোজ মিয়ার বশত ঘরের বাথরুমের ভিতর থেকে ইটের ঢালাই ভেঙে লাশ দু’টি উদ্ধার করা হয়। খুনের দায়ে ইমামের শালিকা আফিয়া ও শালিকার পুত্র মারজানুল আলম শিমুলকে আটক করে পুলিশ। বালাগঞ্জের গাড়ি চালকরা বার-বার এ ধরনের পরিস্থিতির স্বীকার হওযায় এলাকাবাসীসহ চালক এবং গাড়ীর মালিকদের মধ্যে এক ধরনের অজানা আতঙ্ক বিরাজ করছে। চালকরা গাড়ী নিয়ে রাস্তায় বের হলেই গাড়ীর মালিকরা চালকদের সাথে মোবাইলে সব সময় খোঁজ-খবর রাখছেন বলেও জানা গেছে।


