কমিউনিটি পুলিশিং কমিটিতে বিতর্কিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভূক্ত করা যাবে না —ডিআইজি মিজানুর রহমান
প্রকাশিত হয়েছে : ২৬ মে ২০১৫ ইং, ৮:৩৫ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ৬৩২ বার পঠিত
নিউজ ডেক্স:: সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মিজানুর রহমান পিপিএম বলেছেন, পুলিশ ও জনগনের মধ্যে বন্ধুত্বের সেতুবন্ধন গড়ে তুলতে হবে। কমিউনিটি পুলিশের মাধ্যমে কমিয়ে আনতে হবে পুলিশ-জনতার দূরত্ব। ছাতকে ৮ বছরের মধ্যে কমিউনিটি পুলিশিং কমিটি পুনর্গঠন না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আগামী ১৫দিনের মধ্যে থানা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের নতুন কমিটি গঠন করতে হবে। কোনভাবেই রাজাকার ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের এ কমিটিতে অন্তর্ভূক্ত করা যাবে না। শিক্ষক, সাংবাদিক, ইমাম ও সমাজের গ্রহনযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে গঠন করতে হবে কমিউনিটি পুলিশিং কমিটি।
অপরাধ প্রবনতা রোধ করতে পুলিশকে আরো দায়িত্বশীল ভুমিকা রাখার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, মাদকের ভয়াবহতা রোধে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে মাদক বিক্রেতা ও মাতালদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। পুলিশের ফরোয়ার্ডিং শক্তিশালী হলে হত্যা ও ডাকাতি মামলার আসামীরা সহজে জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার সুযোগ থাকবে না। প্রতি মাসে একটি করে ওপেন হাউজ ডে করারও পরামর্শ দেন তিনি।
মঙ্গলবার সকালে ছাতক থানা পুলিশের উদ্যোগে গোবিন্দগঞ্জের তানজিনা কমিউনিটি সেন্টারে কমিউনিটি পুলিশিং বিষয়ক মতবিনিময় ও সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদের সভাপতিত্বে ও ছাতক থানার ওসি(তদন্ত) দেলোয়ার হোসেনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, উপজেলা চেয়ারম্যান অলিউর রহমান চৌধুরী বকুল, গোবিন্দগঞ্জ অনার্স ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ সুজাত আলী রফিক, সুনামগঞ্জের সহকারী পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম সরকার, ছাতক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আবু সাদাত লাহিন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাছিমা আক্তার খান ছানা, প্রবীন রাজনীতিবিদ লুৎফুর রহমান সরকুম, ছাতক পৌরসভার প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুল ওয়াহিদ মজনু, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আনোয়ার রহমান তোতা মিয়া, ডেপুটি কমান্ডার স্বরাজ কুমার দাস, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সুন্দর আলী, উপজেলা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সদস্য সচিব হাজী হেলাল উদ্দিন, আ.লীগ নেতা ছানাউর রহমান ছানা ।
উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন, ছাতক প্রেসক্লাবের সভাপতি সৈয়দ হারুন-অর রশীদ, ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মছব্বির, আফজাল আবেদীন আবুল, বিল্লাল আহমদ, মুক্তিযোদ্ধা রজব উদ্দিন, কবির উদ্দিন লালা, আলতাব আলী, প্রভাষক নাজমুল হক, শিক্ষক নাসির উদ্দিন, শিক্ষক আশিকুর রহমান, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান গয়াছ আহমদ, এড. ছায়াদুর রহমান, রাজনীতিবিদ আফতাব উদ্দিন, সাজ্জাদুর রহমান, পীর মোহাম্মদ আলী মিলন, মঞ্জুর আলম, তৈয়বুর রহমান, আব্দুল খালিক, ইজ্জাদুর রহমান, রশিদ আহমদ, বোরহান উদ্দিন, জমির উদ্দিন, তৈয়ব আলী ও কেডিএস এনামুল হক। মুক্ত আলোচনায় বক্তারা গোবিন্দগঞ্জে পুলিশ ফাঁড়ি নির্মান, ছাতক থানা ও জাউয়াবাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের জন্য আরো একটি করে গাড়ি প্রদানের দাবী জানান। এ ছাড়া মাদক ব্যবসা, জুয়া খেলা, ইভটিজিং রোধে ব্যবস্থা গ্রহনের দাবীও জানান বক্তারা। আগামী ৪মাসের মধ্যে গোবিন্দগঞ্জে পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের ঘোষনা দেন প্রধান অতিথি ডিআইজি মিজানুর রহমান পিপিএম। সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, ছাতক থানার অফিসার্স ইনচার্জ হারুনুর রশীদ চৌধুরী। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন হাফিজ আক্তার হোসেন। সভায় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, পেশাজীবি, এনজিওসহ কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


