বিশ্বনাথে দিনমজুর বৃদ্ধকে হত্যার অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের
প্রকাশিত হয়েছে : ৩১ মে ২০১৫ ইং, ৮:৩১ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ৬৪৭ বার পঠিত
নিজস্ব সংবাদদাতা:: বিশ্বনাথে দিনমজুর বৃদ্ধ আব্দুল মনাফকে হত্যার অভিযোগ এনে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত ২৫ মে সিলেট জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৩ নং আমলী আদালতে এই মামলাটি দায়ের করে নিহত আব্দুল মনাফের ভাই ও উপজেলার খাজাঞ্চী ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামের মৃত জবান আলীর পুত্র আব্দুল হাশিম (৪৫)। মামলায় ৫ জনের নাম উল্লেখ করে আরো ৪/৫জনকে অজ্ঞাতনা আসামী করা হয়েছে। বিশ্বনাথ সি.আর মামলা নং- ১৪১/২০১৫। এবিষয়ে আগামী ৭জুন পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য থানা পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাদি পক্ষের আইনজীবী এডভোকেট মো.আতিকুর রহমান।
মামালার অভিযুক্তরা হলেন- হরিপুর গ্রামের উস্তার আলীর পুত্র টিটু মিয়া (২৫), তার পিতা উস্তার আলী (৫৫), ভাই মিন্টু মিয়া (২২), লুৎফুর (৩২) ও একই গ্রামের মৃত মজর আলীর পুত্র কবিরুল (৩৫)।
বাদি এজাহারে উল্লেখ করেন, তার ভাই আব্দুল মনাফ কে প্রবাসে (উমান) পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার (মনাফ) কাছ থেকে দেড় লক্ষ টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করে আসামী টিটু মিয়া। ফলে আত্মীয় স্বজনদের কাছে আব্দুল মনাফ বিচার প্রার্থী হইলে তার উপর আক্রোশান্বিত হয় অভিযুক্ত টিটু ও তার পিতা উস্তার আলী এবং ইতিপূর্বে মনাফকে হত্যার হুমকিও প্রদান করে টিটু। এ বিষয়ে গত ১৫ মে রাতে এক শালিস বৈঠকে বসেন গ্রামের মুরব্বিগণ। ঐ বৈঠকে টিটু টাকা নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করলে মুরব্বিগণ স্বাক্ষী হাজির করার জন্য আব্দুল মনাফকে বলেন এবং পরবর্তি বৈঠক গত ১৭ মে বাদ এশা নির্ধারন করেন। কিন্ত এই বৈঠকের আগের দিন ১৬ মে বিকেল থেকে আব্দুল মনাফ নিখোঁজ হয়ে যান। ফলে ১৭ মে রাতে পূর্ব নিধারিত বৈঠকে আব্দুল উপস্থিত না থাকায় অভিযুক্ত টিটু ও তার পিতা উস্তার আলী বিষয়টি নিয়ে নানান মুখরোচক ও টাট্রা বিদ্রোপাত্মক কথাবার্তা বলে। পরদিন ১৮ মে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বাদির বসত ঘরের সম্মুখের গোয়াল ঘরে র্দুগন্ধ পেয়ে নিখোঁজ আব্দুল মনাফের স্ত্রী তথায় গিয়ে দেখতে পান তার স্বামীর গলায় দঁড়ি হাটু ভাঁজ করা অবস্থায় বেড়ার সাথে টেস দেয়া ও ১টি কাটের তক্তা দিয়ে আড়াল করে রাখা। তখন তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন এবং খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে এসে লাশ উদ্ধার করে।
অভিযোগে বাদি আরো উল্লেখ করেন-তিনি পরবর্তিতে জানতে পারেন, ভাই আব্দুল মনাফকে নিখোঁজের দিন রাত আনুমানিক ১১টায় অভিযুক্ত টিটুর বাড়ির দক্ষিণ পূর্ব দিকের রাস্তার মোড়ে টিটু ও কবিরুলসহ ৪জন লোককে আলাপরত অবস্থায় দেখতে পান হরিপুর গ্রামের আহমেদ রেজা ইদ্রিস ও কবির।
বাদি আরো উল্লেখ করেন, নিহত মনাফের সুরতহাল রিপোর্ট পুলিশ করার সময় তার (মনাফ) পায়ূপথে বাঁশের গর্ছি ঢুকানো রয়েছে এবং লাশের গলায় রশি বাঁধা ও লাশ গোয়াল ঘরের দেয়ালের সাথে টেস দিয়ে মাটিতে বসা অবস্থায় দেখতে পান। টিটু মিয়ার সাথে পাওনা টাকা আদায় নিয়ে বিরোধের জের ধরেই আব্দুল মনাফকে পরিকল্পিতভাবে অভিযুক্তরা হত্যা করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
গত ১৮ মে তিনি মানষিকভাবে স্বাভাবিক না থাকায় প্রকৃত বিষয় না জেনে থানা কর্তৃপক্ষের কথায় তাৎক্ষণিকভাবে একটি দরখাস্ত করেন। যাহা বিশ্বনাথ থানায় অপমৃত্যু জিডি (জিডি নং-০৭) হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হয়। এই খুনের ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রামবাসী অভিযুক্ত উস্তার আলী ও তার ছেলে মিন্টু মিয়াকে আটক করে থানা পুলিশে সোপর্দ করেন। বর্তমানে আটককৃতরা জেল হাজতে রয়েছে।


