আজ ওসমানীনগরের বুরুঙ্গা গণহত্যা দিবস
প্রকাশিত হয়েছে : ২৬ মে ২০১৫ ইং, ১১:২৫ পূর্বাহ্ণ | সংবাদটি ১১০৭ বার পঠিত
ওসমানীনগর প্রতিনিধি:: আজ সিলেটের ওসমানীনগরের বুরুঙ্গা গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের ২৬ মে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে এ দিনে ৭৮ জন নিরীহ মানুষের রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল বুরুঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ। ২৫ মে পাকহানাদার বাহিনী ও স্থানীয় কিছু রাজাকার বুরুঙ্গায় প্রবেশ করলে চারদিকে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। ঐদিন পাকবাহিনী ও রাজাকাররা মিলে এলাকায় বৈঠক করে। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয় ২৬ মে শান্তি কমিটি গঠন করা হবে। উপস্থিত সবাইকে শান্তি কার্ড দেয়া হবে। জানানো হয় সভায় সকলের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। সিদ্ধান্ত মোতাবেক স্বাধীনতা বিরোধীরা মিলে সভায় উপস্থিতি নিশ্চিত করতে গ্রামে জোর প্রচারণা চালায়।
২৬ মে সকালে মৃত্যু ভয় নিয়ে শান্তি কার্ড দেয়া হবে জেনে অনেকেই হাজির হন সেখানে বিদ্যালয়ের মাঠে। সকাল ৯টার দিকে রাজাকার আব্দুল আহাদ চৌধুরী (ছাদ মিয়া), ডাঃ আব্দুল খালিকসহ পাক বাহিনীর ক্যাপ্টেন নূর উদ্দিনের নেতৃত্বে একদল পাক সেনা জীপে চড়ে বুরুঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ে অবস্থান নেয়। রাজাকার ও হানাদারদের একটি দল গ্রামে ঢুকে পুরুষদের মিটিং-এ আসার তাগিদ দিতে থাকে। সকাল ১০ টায় সমবেত লোকদের মধ্যে হিন্দু-মুসলমানকে আলাদা করে কয়েক শ মুসলমানকে কলেমা পড়িয়ে ছেড়ে দিয়ে হিন্দুদের আটকে রাখা হয়। দুপুর ১২ টার দিকে বিদ্যালয়ের মাঠে ৩টি এলএমজির সামনে আটককৃতদের বেঁধে লাইনে দাঁড় করায়। এক সময় ক্যাপ্টেন নূর উদ্দিনের ইশারায় এলএমজি গুলো এক সাথে গর্জে উঠলে, মুহূর্তেই মানুষের তাজা রক্তে রঞ্জিত হয়ে উঠে সবুজ মাঠ, মাটিতে লুঠিয়ে পড়ে অনেক গুলো দেহ। আহতদের চিৎকারে ভারি হয়ে উঠে বুরুঙ্গার চারদিক। মৃত্যু নিশ্চিত করতে ২টিন কেরোসিন ঢেলে দেহ গুলোর ওপর আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। পরদিন সকালে আবার কয়েকজন পাক সৈন্য বুরুঙ্গায় এসে মৃত দেহ গুলোকে বুুরঙ্গা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে বর্তমান গণকবরে একটি গর্ত খুঁড়ে মাটি চাঁপা দেয়। পাক বাহিনীর এই ধ্বংসযজ্ঞ থেকে শিক্ষক প্রীতি রঞ্জন চৌধুরী ও নিবাস চক্রবর্তী এবং রানু মালাকার, দিনেশ বৈদ্যসহ কয়েক জন ভাগ্য ক্রমে বেঁচে যান। পাকবাহিনীর নির্মম বর্বতার কালের স্বাক্ষি হয়ে দাড়িয়ে আছে বুরুঙ্গা গণকবর।
সিলেট-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান সাংসদ থাকা কালে গণকবরের মধ্যে একটি স্মৃতি সৌধ নির্মাণ করে দেন।


