বালাগঞ্জ-ওসমানীনগরের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী কাম প্রহরীরা পাঁচ মাস ধরে বেতন পাচ্ছেনা
প্রকাশিত হয়েছে : ১২ মে ২০১৫ ইং, ৮:১৪ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ৭১৪ বার পঠিত
শিপন আহমদ,ওসমানীনগর :: সিলেটের বালাগঞ্জ-ওসমানীনগর উপজেলায় দীর্ঘ পাঁচ মাস ধরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী কাম প্রহরীরা বেতন পাচ্ছে না। ফলে দুই উপজেলায় দপ্তরী পদে নিয়োগকৃত ৯২ জন ব্যাক্তিরা মানবেতর ভাবে জীবন-যাপন করছে। এ ব্যাপারে উপজেলায় কর্মরত দপ্তরীরা সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর সুপারিশ সম্মেলিত লিখিত অভিযোগ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বরাবরে প্রেরণ করেছেন।
জানা যায়,সরকারি বিধি মোতাবেক অনুসারে বালাগঞ্জ-ওসমানীনগর উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে ৯২জন দপ্তরী কাম প্রহরী পদে কর্মচারী নিয়োগ দেয় উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা। চাকুরীতে যোগদানের পর থেকে দপ্তরীরা নিষ্ঠার সহিত দায়িত্ব পালন করে আসছেন। কিন্তু নিয়োগের প্রথম দিকে তাদের বেতন প্রদান করা হলেও চলতি বছরের জানুয়ারী মাস থেকে অধ্যাবধি পর্যন্ত বেতন পাচ্ছে না। এ বিষয়ে উপজেলার কর্মরত দপ্তরী কাম প্রহরীরা গত ৬ মে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, প্রাথমিক ও গনশিক্ষা মন্ত্রণালয়, বিভাগীয় কমিশনার সিলেট, বিভাগীয় উপ-পরিচালক প্রাথমিক শিক্ষা,সিলেট বিভাগসহ প্রশাসনের বিভিন্ন সেক্টরে লিখিত অভিযোগ প্রদান করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে বেতন না পাওয়ায় অনেক কর্মচারী তাদের পরিবারের বরণ পোষণসহ অসুস্থদের চিকিৎসা করাতে পারছেন না। আবার অনেকে অর্ধহারে দিন কাটাচ্ছে।
উপজেলার আলীপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী ইসলাম খান জানান, আমার পিতা অসুস্থ টাকার অভাবে অপারেশন করাতে পারছি না। উপজেলা শিক্ষা অফিসে একাধিকবার যোগাযোগ করে বিগত পাঁচ মাস ধরে বেতন পাচ্ছি না। আমার মতো আরও ৯১জন দপ্তরীরা বেতন না পাওয়ায় মানবেতর জীবন-যাপন করছে।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুজ্জামান বলেন, বাজেট বরাদ্ধ না হওয়ায় দপ্তরীদের বেতন দেয়া হচ্ছে না। বাজেটের জন্য লিখিত ভাবে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বরাদ্ধ আসলেও বেতন দেয়া হবে।
সিলেট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম বলেন, দপ্তরীদের বেতনের জন্য যথেষ্ট বরাদ্ধ রয়েছে। সিলেটের অন্যান্য উপজেলায় দপ্তরীরা বেতন পাচ্ছে। উপজেলা শিক্ষা অফিস সংশ্লিষ্টদের গাফলাতির কারণে বালাগঞ্জ-ওসমানীনগরে দপ্তরীরা বেতন পাচ্ছেনা। তবে শীগ্রই দপ্তরীরা বেতন ভাতা পেয়ে যাবেন।


