বিশ্বনাথে চুরি-ডাকাতি-ছিনতাইয়ের আতংকে মানুষ
প্রকাশিত হয়েছে : ২২ মে ২০১৫ ইং, ৯:৫৩ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ১০৭৮ বার পঠিত
নিজস্ব সংবাদদাতা:: প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটের বিশ্বনাথে চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাই’র আতংকে উপজেলাবাসী রয়েছেন এমন খবর পাওয়া গেছে। চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের শিকার হয়ে লাখ লাখ টাকা হারাতে হচ্ছে এলাকার প্রবাসীর পরিবার ও ব্যবসায়ী’সহ গ্রামের জনসাধারণকে। বেশীর ভাগই ডাকাত ও চোরদের নজরে পড়ছে প্রবাসীদের বাড়ি, কৃষকের গোয়ালঘর ও ব্যবসায়ীদের ব্যবসা প্রতিষ্টান। তবে পুলিশ প্রতিদিন ডাকাত গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রাখলেও দুই-একজন ডাকাতকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হলে অধরা রয়ে যাচ্ছে অনেক ডাকাত। অনেক ডাকাতির ঘটনা রহস্যজনক বলে পুলিশ বিভিন্ন গনমাধ্যমকর্মীকে জানায়।
ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার সূত্রে জানাগেছে, ডাকাতরা অত্যাধুনিক যন্ত্র দিয়ে ঘরের সামনের গেটের তালা ভেঙ্গে ও দরজা লকার ভেঙ্গে ঘরে প্রবেশ করে পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রেমুখে জিম্মি করে হাত-পা বেধে লুটপাট চালায়। অনেক বাড়িতে ডাকাতির সময় ডাকাতরা দেশীয় অস্ত্র’সহ আগ্নেয়াস্ত্র সঙ্গে থাকতে দেখছেন বলে গৃহককর্তারা জানান। ডাকাতদের হামলায় অনেক লোকজন আহতও হচ্ছেন। রাতে অনেক বাড়িতে ডাকাতির খবর পেয়ে গ্রামের লোকজন এগিয়ে আসলে ডাকাতরা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে ফাঁকা গুলি চালিয়ে পালিয়ে যাওয়া কথাও শোনা গেছে। উদ্ধার করা হচ্ছেনা ডাকাতদের ব্যবহৃত হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রও। গত কয়েক মাসের ভেতরে উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ও বাজারে বেশ কয়েকটি চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে।
অনুসন্ধানে জানাযায়, উপজেলার বিশ্বনাথ ইউনিয়নের ইমিদপুর গ্রামের লন্ডন প্রবাসী জিতু মিয়া, জানাইয়া গ্রামের ব্যবসায়ী আকবর হোসেন কিসমত, দেওকলস ইউনিয়নের আলাপুর গ্রামের লন্ডন প্রবাসী আব্দুল মতিন, রামপাশা ইউনিয়নের চকরামপ্রসাদ (লামারচক) গ্রামের সৌদি আরব প্রবাসী জামাল হোসেন, খাজান্সি ইউনিয়নের নোয়ারাই গ্রামের লন্ডন প্রবাসী ছমক আলী, বাওয়ানপুর গ্রামের বিশ্বনাথ-রশিদপুর জনবহুল সড়কের নিকটস্থ যুক্তরাজ্য প্রবাসী আব্দুল হাই বাবুল, গুমরাগুল গ্রামের সৌদি প্রবাসী আলা উদ্দিন ও সর্বশেষ গত বুধবার উপজেলার হিমিদপুর গ্রামের বাবুল খানের বাড়িতে ডাকাতি সংগঠিত হয়েছে।
থানার প্রধান গেটের সামনে থাকা শিফা কম্পিউটার, আল-হেরা শপিং সিটির নিউ হেপী জুয়েলার্সে, এনজিও সংস্থা ব্র্যাক’র ব্র্যাঞ্চ অফিস, উপজেলার কোর্ট পয়েন্ট নামক স্থানে বদরুল ভেরাইটিজ ষ্টোরের চুরি সংগঠিত হয়েছে। ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন বিশ্বনাথ পুরানবাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও ব্যবসায়ী জয়নাল মিয়া।
এলাকায় ডাকাতি ঘটনা ঘটলে এ বিষয়ে থানা পুলিশের বক্তব্য জানতে চাইলে পুলিশ অধিকাংশ ডাকাতি রহস্যজনক বলে স্থানীয সংবাদকর্মীদের অবহিত করে।
এব্যাপারে সেচ্ছাসেবকলীগ নেতা শহিদুল ইসলাম সাহিদ বলেন, ডাকাত আতংকে এলাকায় প্রতি রাতে আমরা কয়েকজন ডাকাত প্রতিরোধ করার জন্য পাহারা দেই।
উপজেলা শাখার মানবাধিকার কমিশনের সভাপতি ছয়ফুল হক বলেন,পুলিশি তৎপরতা না থাকায় চুরি,ছিনতাই ও ডাকাতি বৃদ্ধি পেয়েছে।
এডভোকেট সিরাজুল ইসলাম বলেন, উপজেলা সদরের মানুষ যেখানে নিরাপদ নয়, সেখানে গ্রামাঞ্চলের মানুষ কিভাবে নিরাপদ থাকবে। আইশৃংঙ্খলার অবহিতর কারণে ডাকাতি বৃদ্ধি পেয়েছে।
উপজেলা সদরের পুরান বাজার বণিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি মনির হোসেন বলেন, বিগত দিনের চেয়ে বর্তমানে আইনশৃংঙ্খলার অবনতি হয়েছে।
উপজেলা কমিউনিটি পুলিশের সভাপতি শাহ আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, আইনশৃংঙ্খলার চরম অবনিতর কারণে চুরি-ডাকাতি বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে এলাকাবাসী আতংকে রয়েছেন।
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সুহেল আহমদ চৌধুরী বলেন, উপজেলার আইনশৃংঙ্খলার বিষয়টি পরিষদের আইনশৃংঙ্খলা সভায় গুরুত্ব সহকারে আলোচনা করা হবে।


