ওসমানীনগরে বিদ্যুৎতায়নের নামে আ’লীগ নেতার টাকা আত্বসাতের অভিযোগ
প্রকাশিত হয়েছে : ০৫ জুন ২০১৫ ইং, ৬:১৬ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ৬৫২ বার পঠিত
ওসমানীনগর প্রতিনিধি::সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার সাদীপুর ইউনিয়নের পূর্ব সুন্দিকলা গ্রামে পল্লীবিদ্যুতের লাইন নির্মান নিয়ে আওয়ামীলীগ নেতা চুনু মিয়া ও পল্লীবিদ্যুতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুনীতির অভিযোগ উঠেছে। লাইন নির্মানে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে হযরত বেলাল (রা:) হাফিজিয়া নুরানী কিন্ডার গার্টেন মাদসার এবং একাধিক বাড়ির ওপর দিয়ে বিদ্যুতের খুঁটি লাইন বাঁকা করে নির্মানের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিয়ে গ্রামবাসীর মধ্যে চাপা ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এ ব্যাপারে এলাকাবাসীর পক্ষে প্রধান মন্ত্রীর জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্ঠা ও সিলেট পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-১ এর জিএমসহ বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের বিভিন্ন দপ্তরে গতকাল বৃহস্পতিবার লিখিত অভিযোগ দিয়েছন গ্রামবাসী।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামীলীগ নেতা সাদীপুর গ্রামের চুনু মিয়া খছরুপুর গ্রামের মহিম মিয়া ও পূর্ব সুন্দিকলা আফাজ উদ্দিনের মাধ্যমে গত ৬ মাস পূর্বে বিদ্যুৎ লাইনের প্রদানের আশ্বাসে পূর্ব সুন্দিকলা গ্রামের ৯২টি পরিবারের কাছ থেকে ৬ লক্ষাধিক টাকা চাঁদা আদায় করেন। বর্তমানে এলাকাবাসী সম্পন্ন সরকারি ভাবে গ্রামে বিদ্যুৎতায়ন হচ্ছে বিষয়টি জানার পর নিরিহ মানুষের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য গ্রামবাসী চুনু মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি উল্টো গ্রামের লোকজনকে হুমকি দিয়ে বলেন এসব নিয়ে আলোচনা করলেও আগামী একশ বছরের মধ্যে তোমাদের গ্রামে বিদ্যুৎ আসবে না। বিদ্যুৎ লাইন সংযোগ সরকারী ভাবে হয় না,তোমাদের টাকাই লাইন নির্মান হচ্ছে বলে গ্রামের সহজ সরল মানুষকে ধোকা দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা আদায় করেন। গ্রামে বিদ্যুৎতায়নের স্বার্থে গ্রামবাসী এসব অনিয়মের প্রতিবাদ না করলেও গত এক সপ্তাহ থেকে পূর্ব সুন্দিকলা গ্রামের খুটি স্থাপনের অনিয়মের মাধ্যমে লাইন নির্মানের কাজ করে যাচ্ছেন। গ্রামের পূর্ব পাশ দিয়ে বিদ্যুতের লাইন নির্মানের কথা থাকলেও চুনু মিয়া ও তার সহযোগীরা পল্লীবিদ্যুতের কিছু অসাধু কর্মকর্তাকে হাত করে গ্রামের মধ্যে দিয়ে বসত ঘরের পাশাপাশি বিদ্যুতের খুটি বসিয়ে যাচ্ছেন। এভাবে বিদ্যুতের লাইন নির্মান করা হলে বিদ্যুৎ স্পর্শ হয়ে বড় ধরণের দুঘটনাসহ অনাকাংখিত ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়ে কেউ প্রতিবাদ করলে উল্টো চুনু মিয়ার লোকজন গ্রামের প্রতিবাদকারীদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয় দিয়ে আসছেন।
এদিকে মিটার প্রতি চুনু মিয়া ৩ হাজার ১শ টাকা হারে আদায় করে যাচ্ছেন। এছাড়া গ্রামের আরও ২২টি পরিবারের লোকজনের কাছে আওয়ামীলীগ নেতা চুনু মিয়া বিদ্যুৎ দেয়ার নামে আরও দেড় লক্ষ টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে ঐ পরিবারগুলো বিদ্যুৎ দেয়া হবে না বলে জানিয়ে যাচ্ছেন গ্রামবাসীদের। সরকারের নির্দেশ অনুয়ায়ী বিদ্যুৎ বিহীন গ্রামে বিদ্যুতের আলো পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে সম্পূন্ন সরকারী ভাবে পূর্ব সুন্দিকলা গ্রামে বিদ্যুৎতায়ন হচ্ছে। বিদ্যুৎ লাইন নির্মানের পূর্বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিবির পর্যবেক্ষন করে সাধারণ মানুষের ক্ষতি যাহাতে না হয় এই মর্মে নদীর পশ্চিম পাড় থেকে সংযোগ দিয়ে পূর্ব সুন্দিখলা গ্রামের পূর্ব পাশ দিয়ে খুঁটি স্থাপন ও লাইনের ম্যাপ তৈরি করে।
গত এক সপ্তাহ থেকে হযরত বেলাল (রা:) হাফিজিয়া নুরানী কিন্ডার গার্টেন মাদাসার এবং একাধিক বাড়ির উপর দিয়ে বিদ্যুতের খুঁটি লাইন বাঁকা করে নির্মানের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। ফলে সাধারণ মানুষের গাছ পালা ও বসত ঘরের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হচ্ছে।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আওয়ামীলীগ নতা চুনু মিয়ার সাথে মোবাইল ফোনে আলাপ কালে তিনি অভিযোগ গুলো অস্বীকার করে বলেন, এগুলো সম্পূর্ন মিথ্যা। তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১এর জিএম মাহবুবুল আলম কাছে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, তদন্ত ক্রমে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


