জগন্নাথপুরে অর্থ আত্মসাতকে কেন্দ্র করে মারামারি কর্মকর্তাসহ আহত-৬
প্রকাশিত হয়েছে : ২৯ জুন ২০১৫ ইং, ৮:২৪ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ১০১৪ বার পঠিত
মো. আব্দুল হাই, জগন্নাথপুর : চলে যায় যদি জুন মাস বলিস- স্যারকে ভাই ভাঙ্গা গড়ার এ জীবনে লুটে পুটে খাই জগন্নাথপুরে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের হরিলুটের টাকা ভাগভাটোয়ারাকে কেন্দ্র করে অফিস কক্ষে কর্মকর্তা ও মাঠ কর্মীদের ভয়াবহ মারামারির ঘটনায় অফিসের কর্মকর্তাসহ ৬জন আহত হয়েছেন। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা পরিষদ ক্যাম্পাস এলাকায় পুরাতন কোর্ট বিল্ডিংয়ের পাশে নির্মিত প্রকল্পের নতুন ভবনে ঘটে যাওয়া মারামারির ঘটনার সময় শত শত জনগনের পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীরা সেখানে জড়ো হয়।অফিসের ভেতরে চেয়ার ভাঙ্গাভাঙ্গি একজন আরেকজনকে অকথ্য ভাষায় গাল মন্দ খুন করার হুমকি এমন পরিস্থিতিতে সাহস করে কেউ অফিস কক্ষে ঢুকে মারামারি থামাতে সাহস পায়নি। প্রায় আধ ঘন্টা পর ইউএনও কার্যালয় থেকে ছুটে আসা অফিস সহকারী ফয়ছল চৌধুরীর নেতৃত্বে অন্যন্য সরকারি কর্মচারীদের সহযোগিতায় অফিস কক্ষে প্রবেশ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে এবং তালাবদ্ধ করে রাখা প্রকল্পের উপজেলা সমন্বয়কারী দেবাশীষ ঘোষকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। সরকারের নিয়ম অনুযায়ী ৩০ জুনের মধ্যে সকল সরকারি দপ্তরের আয় ব্যায়ের হিসাব সমাপনী করতে হয়। কাজ হউক আর নাই হউক ৩০জুন মধ্যে রাতের মধ্যেই বিল জমা দিয়ে সরকারের হিসাব বিবরনী থেকে টাকা সরিয়ে নিতে হয় নতুবা যে কোন সরকারী দপ্তরের টাকা ফেরত চলে যায়। এমন পরিস্থিতিতে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের সমন্বয়কারী দেবাশীষ ঘোষ বিভিন্ন সমিতির সভাপতি ও ম্যানেজারদের সম্মানীর অর্থ জুন মাসের শুরুতেই উত্তোলন করে বিতরন না করেই সমন্বয়কারী দেবাশীষ ঘোষ আত্মসাতের উদ্যেশ্যে টাকা বিতরনে কাল ক্ষ্যাপক করায় অর্থ প্রাপ্তিরা ক্ষুব্দ হয়ে উঠেছেন বলে মারামারিতে জড়িত থাকা মাঠকর্মীরা জানান।
দীর্ঘ আধঘন্টাব্যাপী প্রকল্প অফিসে মারামারি, তছনছ ও ভাংচুরের ঘটনায় গুরুতর আহত প্রকল্পের সমন্বয়কারী কর্মকর্তা দেবাশীষ ঘোষ (৩৬) ও মাঠ কর্মী কাম কম্পিউটার অপারেটর নাছির উদ্দিন (২৮)কে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্ের ভর্তি করা হয়েছে এবং অন্যান্য আহত প্রকল্পের ফিল্ড সুপার ভাইজার আজিম উদ্দিন (৩০), মাঠ কর্মী শামছুল ইসলাম (২৬), হাবিবুর রহমান (২৭), রাধা কান্ত দাশ (২৮) কে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
প্রকল্পের ফিল্ড সুপার ভাইজার আজিম উদ্দিন জানান, প্রকল্পের বিভিন্ন সমিতির সভাপতি ও ম্যানেজারদের প্রায় ৫লক্ষ টাকা পরিমানের অর্থ জুন মাসের শুরুতে প্রকল্পের সমন্বয়কারী দেবাশীষ ঘোষ উত্তোলন করেন। কিন্তু টাকাগুলো বিতরন করার কথা থাকলেও তা বিতরন করেননি। গতকাল সোমবার অর্থ প্রাপ্তির উদ্যোশ্যে মাঠকর্মীরা অফিসে জড়ো হয় এবং সম্মানী অর্থ প্রদানের জন্য প্রকল্পের সমন্বয়কারী কর্মকর্তা দেবাশীষ ঘোষকে জানালে উভয়ের মধ্যে উত্তপ্ত বাক-বিতন্ডা এক পর্যায়ে হাতাহাতি, কিল, ঘুষি, লাতি মুড়া ও হাতের কাছে থাকা অফিসে ব্যবহৃত বিভিন্ দ্রব্যদি দিয়ে শুরু হয় মারামারি। তবে মারামারির ঘটনায় প্রকল্পের সমন্বয়কারী কর্মকর্তা দেবাশীষ ঘোষ প্রতিবেদককে জানান, প্রকল্পের ফিল্ড সুপারভাইজার আজিম উদ্দিন উর্ধতন কর্তৃপক্ষের আদেশ অমান্য, মাঠ সহকারীদের তদারকি এবং সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন না করায় তাকে ২৮জুন কারন দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়। এ কারনে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে অন্যান্য মাঠ কর্মীদের নিয়ে আমাকে মারধোর করে গুরুতর আহত অবস্থায় হত্যার উদ্দেশ্যে একটি কক্ষে দরজা বন্ধ করে পুনরায় নির্যাতন চালায়। এদিকে বিভিন্ন সূত্রে জানাগেছে জগন্নাথপুরে একটি বাড়ি একটি প্রকল্পের মাধ্যমে নাম মাত্র সমিতি গঠন করে সরকারের লক্ষ লক্ষ টাকা লুটপাঠের কারনেই মারামারির ঘটনা সংঘঠিত হয়েছে। জগন্নাথপুর উপজেলা প্রশাসনের সরকারি দপ্তরে এ ধরনের মারামারির ঘটনা এটা চতুর্থ দফা। ইতিপূর্বেও অন্যান্য দপ্তরেও সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে ভাগভাটোয়ারা নিয়ে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প জগন্নাথপুর অফিসে সংগঠিত মারামারির ঘটনার বিষয়ে জানতে ইউএনও কার্যালয়ে গেলে অফিস সূত্র জানায় ইউএনও হুমায়ুন কবির সরকারি কাজে সুনামগঞ্জ জেলায় অবস্থান করছেন


