প্রধানমন্ত্রীর কাছে বালাগঞ্জের নিহত মাইক্রো চালক বিষুর পিতার আকুতি!
প্রকাশিত হয়েছে : ১৪ জুন ২০১৫ ইং, ১:০৩ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ১০৫৮ বার পঠিত
শামীম আহমদ, বালাগঞ্জ:: দৃস্কৃতিকারীদের হাতে নির্মম ভাবে খুন হওয়া বালাগঞ্জের নোহা (মাইক্রো) গাড়ীর চালক বিশ্বজিৎ দাস বিষুর পিতা মন্টু দাস তার পুত্রের হত্যাকারীদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবী জানিয়ে প্রধান মন্ত্রীর নিকট লিখিত আবেদন দিয়েছেন। তাছাড়া আবেদনের কপি নৌপরিবহনমন্ত্রী, স্ব-রাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, আই,জি,পি, র্যাবের মহাপরিচালক, প্রধান মন্ত্রীর পিএস-১, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার, সিলেটের জেলা প্রশাসক, হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক, সিলেটের ডি,আই,জি, সিলেটের সুপার, হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার ও সিলেট র্যাব ৯ এর কার্যালয়ে প্রেরন করা হয়েছে।
লিখিত আবেদনে নিহত বিষুর পিতা মন্টু দাস উল্লেখ করেছেন, প্রধানমন্ত্রী সহ সংশ্লিষ্ট সকল উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের নিকট আকুল আবেদন আমার একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলে বিশ্বজিৎ দাস বিশু খুনের ঘটনায় জড়িত আসামীদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সঠিক তথ্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে। বিশেষ করে গাড়ীর মালিক শফিকুল হক আরক ও তার শ্যালক শেখ নূর উদ্দিনই বিষুর আসল খুনী উল্লেখ করে তাদের সহযোগীদের দন্ডবিধির সর্বোচ্চ আইনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়ার দাবীও আবেদনের মাধ্যমে জানানো হয়েছে। মন্টু দাস স্বাক্ষরীত আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, একমাত্র ছেলে ও মেয়ে এবং স্ত্রীকে নিয়ে ইস্ত্রির (কাপড় ধোলাইর কাজ) কাজ করে কোন ভাবে সংসার চালিয়ে আসছিলেন বিষুর পিতা মন্টু দাস। তার একমাত্র ছেলে বিশ্বজিৎ দাস বিশু (২৫) প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার পর থেকে ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ সমাপনান্তে প্রথমে লাইটেস (মাইক্রোবাস) পরে বালাগঞ্জ উপজেলাধীন হাসামপুর গ্রামের মৃত সিদ্দিক আলীর পুত্র শফিকুল হক আরকের নোহা (যার নং- সিলেট ছ-১১-০৭২১, ইঞ্জিন নং-৭ক০৮২৪৪৪৮ (চেসিস নং কজ৪২-৫০৫৮৩০১) দীর্ঘদিন ধরে চালিয়ে আসছিল।
গত ৫ এপ্রিল দুপুর বারটার দিকে বালাগঞ্জ উপজেলার ওসমানীনগর থানাধীন গোয়ালাবাজার থেকে শ্রীমঙ্গলের উদ্দেশ্যে অজ্ঞাতনামা যাত্রীদের বহন করে ট্রিপ নিয়ে যায় বিশু। ঐদিন রাত আটটার পর থেকে বিষুর অবস্থান জানার জন্য তার ব্যবহৃত মোবাইলে (০১৭৩৭-৪১০৯২৬, ০১৭১১০৬২১৯৩) কল দিলে মোবাইলের দুটি সিমই বন্ধ পাওয়া যায়। নোহা গাড়ীর মালিক শফিকুল হক আরক সহ বিভিন্ন স্থানে বিষুর সন্ধান করা হয়। আবেদনে উলে¬খ করা হয়, গত ৬এপ্রিল হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ থানাধীন শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের দেউন্দি এলাকায় ঢাকা সিলেট মহাসড়কের পার্শ্বে একটি অজ্ঞাতনামা লাশ সকাল সাতটার দিকে উদ্ধার করে শায়েস্তাগঞ্জ থানা পুলিশ। লাশটি উদ্ধার করে হবিগঞ্জে ময়নাতদন্ত শেষে কাল বিলম্ব না করে খুব দ্রুত সময়ে আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে লাশের দাফন-কাফন সম্পন্ন করা হয়।
এই ঘটনার সংবাদ পেয়ে সাথে-সাথে লোকজনকে সাথে নিয়ে দ্রুত শায়েস্তাগঞ্জ থানায় গিয়ে মৃত দেহের ছবি, পরনে জিন্সের প্যান্ট দেখে বিশুর লাশ সনাক্ত করেন তার পিতা। পরবর্তীতে বিজ্ঞ আদালতের অনুমতিক্রমে ৮ এপ্রিল লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে বালাগঞ্জে এনে সৎকার করা হয়। বিশু হত্যার সাথে জড়িত সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের মধ্যে একজন হচ্ছে বালাগঞ্জ উপজেলার খারমাপুর গ্রামের মৃত আব্দুল মন্নানের ছেলে মাইক্রো চালক আহমদ আলী। কিন্তু বিশু হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী নোহা গাড়ীর মালিক শফিকুল হক আরকের শ্যালক ওসমানীনগর থানার নিজ বুরুঙ্গা গ্রামের মৃত শেখ নাজিম উদ্দিনের ছেলে শেখ নূর উদ্দিন বলে আবেদনে উলে¬খ করা হয়েছে। তাছাড়া শেখ নূর উদ্দিন পুলিশেরে হাতে আটক হওয়ার পরেই তার ভগ্নিপতি গাড়ির মালিক শফিকুল হক আরক রাতের অন্ধকারে সৌদি আরবে পালিয়ে গেছেন বলেও আবেদনে উলে¬খ করা হয়েছে।


