বালাগঞ্জে ৪০ দিনের কর্মসৃজন প্রকল্পের টাকা হরিলুট!
প্রকাশিত হয়েছে : ৩০ জুন ২০১৫ ইং, ৭:২৭ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ১০৮৯ বার পঠিত
শিপন আহমদ,ওসমানীনগর :: সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার বোয়ালজুর ইউনিয়নের অতি-দরিদ্রদের কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় ৪০ দিনের কর্মসূচিতে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। প্রকল্প কমিটিতে যে মহিলা ইউ/পি সদস্যকে সেক্রেটারী করা হয়েছে তিনি এ ব্যাপারে অবগত নন বলে সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়,২০১৪-২০১৫ অর্থ বছরে অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় বালাগঞ্জ উপজেলার বোয়ালজুর ইউনিয়নে ৬৬ জন দরিদ্র লোকের ৪০ দিনের কর্মসূচির জন্য প্রায ৬ লাখ ৬৮ হাজার টাকা সরকার বরাদ্দ দেয়। গত মে মাসে অত্র ইউনিয়নের ৪০ দিনের কর্মসূচির কাজ শুরু করেন ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো: আছাব আলী। এ কাজে শ্রমিকদের নাম থাকলেও প্রকল্প সভাপতি আছাব আলী কাটার মিশিন দিয়ে একদিনে মাটি ভরাট কাজ শেষ করেন। প্রকল্পের টাকা নিজের উত্তোলন করতে কৌশলে নিজস্ব বলয়ের লোকদের শ্রমিক বানিয়ে সরকারকারী টাকা আতœসাৎ করে নিয়েছেন বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। প্রকল্প কমিটিতে যে মহিলা ইউ/পি সদস্য কে প্রকল্পের সেক্রেটারী করেছেন সেই মহিলা সদস্যও প্রকল্প কমিটি সর্ম্পকে অবগত নন। অভিযোগ রয়েছে ইউপি মহিলা সদস্য শ্রিবানী রানী দেব কাছ থেকে কৌশলে স্বাক্ষর নিয়ে আছাব আলী উক্ত প্রকল্প কমিটি দিয়েছেন।
সূত্রে জানা যায়, বোয়ালজুর ইউনিয়নের রাজাপুর-খারমাপুর রাস্তার খালবাটের সামন হইতে আজির উদ্দিনের বাড়ির, খারমাপুর মসজিদ হইতে আজির উদ্দিনের বাড়ির সামন পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৫শত মিটার কাজে ৪০ দিনের কর্মসূচির আওতায় প্রতিদিন কাজ করার জন্য ৬৬ জন শ্রমিকে কাগজে কলমে নিয়োগ দেন ইউ/পি সদস্য আছাব আলী। বোয়ালজুর ইউনিয়নে ৮৮জন শ্রমিক থাকলেও এ প্রকল্প কাজে ৬৬ জন শ্রমিক কাজ পান মর্মে উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তার কার্যালয়ে দাখিল করা হয়। প্রকল্পের নিয়ম অনুসারে সেক্রেটারী নিজ ওয়ার্ডের মহিলা সদস্য থাকার বিধান হলেও অন্য ওয়ার্ডের মহিলা সদস্য শ্রীবানী রানী দেবকে সেক্রেটারী করা হয়। কিন্তু শ্রীবানী রানী দেব বোয়ালজুর ইউনিয়নের রাজাপুর-খারমাপুর রাস্তার খালবাটের সামন হইতে আজির উদ্দিনের বাড়ির, খারমাপুর মসজিদের সামন পর্যন্ত সেক্রেটারী করা হলেও তিনি জানেন না এ প্রকল্পের সেক্রেটারীকে। সরকারী নিয়ম অনুযায়ী নিবন্ধনকৃত অনুমোদিত উপকারভোগীদের পাওনা শ্রম মজুরি উত্তোলনের সুবিধার্থে ১০ টাকার বিনিময়ে প্রত্যেক শ্রমিকের নামে ব্যাংকে হিসাব খোলা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে প্রকল্প সভাপতি বিএনপি নেতা আছাব আলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাকের পাটির নেতা নুর মিয়ার শে¬টারে শ্রমিক দিয়ে ৪০ দিনের কাজ না করিয়ে কাটার মিশিন (মাটি উত্তোলন করার গাড়ি) দিয়ে একদিনে কাজ শেষ করেন।
এদিকে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী মাষ্টার রুলের মাধ্যমে ব্যাংক থেকে নিজের মনোনীত শ্রমিকের নাম দিয়ে শ্রম মজুরি সংশি¬ষ্ট উপজেলা প্রকল্প বাস্থবায়ন কর্মকর্তার যোগসাজসে কৌশলে ভূয়া শ্রমিকদের মাধ্যমে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করে হরিলুট করছেন প্রকল্প সভাপতি স্থানীয় ইউপি সদস্য আছাব আলী ।
স্থানীয়দের অভিযোগ ৪০ দিনের কর্মসূচিতে অত্র ইউনিয়নের কোন শ্রমিক কাজে অংশ গ্রহণ করে নাই। তা ছাড়া তালিকায় অবৈধভাবে ব্যবসায়ী, চাকরিবীজি ও ছাত্রসহ এলাকার ভিত্তবানদের নাম অর্ন্তভুক্তও করা হয়েছে যারা কখনো কাজে অংশ গ্রহণ করে নাই। তাদের নামে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিত্বে সরেজমিনে এলাকায় গেলে এক সাথে কয়েকজন সাংবাদিকদের এলাকায় দেখে গ্রামবাসীরা জরো হতে থাকেন। এ সময় সাংবাদিকরা রাস্তার কাজ সর্ম্পকে গ্রামবাসীর কাছে জানতে চাইলে উপস্থিত এলাকাবাসী জনান এ রাস্তায় ৬ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা কাজ হয়েছে, এটা আপনাদের কাছ থেকে প্রথম শুনলাম। এই রাস্তায় যদি এত টাকার কাজ হয়ে থাকলে তাহলে রাস্তার অস্তিত্ব কোথায় আপনারা দেখেন। আমাদের জানা মতে এ রাস্তায় মেম্বার নিজের পকেট থেকে একদিন মেশিন দিয়ে ২০/৩০ হাজার টাকার মাটি কাটিয়েছেন। এখানে এক সাথে ৪০ জন শ্রমিকের কাজ করতে আমরাও কখনও দেখিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শ্রমিকরা জানান,আমরা এ রাস্তায় কোন কাজ করিনি,যে দিন মেশিন দিয়ে মাটি কাটানো হয়েছি সেদিন মেম্বার কথা অনুযায়ী আমরা সেখানে উপস্থিত ছিলাম আমাদেরকে ১০০০ টাকা করে দিয়ে ঐ দিন প্রকল্পের কাগজে স্বাক্ষর নেয়া হয়েছে।
ইউ/পি সদস্য শ্রিবানী রানী দেব জানান, আমি এ প্রকল্পের সেক্রেটারী অথচ আমিই জানিনা। এসময় প্রকল্প কমিটিতে আপনার স্বাক্ষর রয়েছে এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন আছাব আলী মেম্বার কয়েকদিন পূর্বে একটি জরুরী কাজ আছে বলে কৌশলে আমার একটি স্বাক্ষর নিয়েছিলেন। এটা যদি জাল করে প্রকল্পটিতে আমাকে সেক্রেটারী বানিয়ে থাকেন তাহলে আমি এর কিছুই এখন বলতে পারব না।
প্রকল্প সভাপতি মো: আছাব আলী সাথে মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি বলেন, শ্রমিক দিয়ে এ কাজ করিয়েছি। এসময় আপনি ছয় লক্ষ পছাওর হাজার টাকার কাজ করালেন তাহলে রাস্তার কোন অস্থিত্ব পাওয়া যায় নাই কেন? এমন প্রশ্ন করা হলেও তিনি রাগান্তি হয়ে ফোন কেটে দেন।
বোয়ালজুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুর মিয়া এ ব্যাপারে এখনও আমার কাছে কোন অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত ক্রমে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা মো: হাবিবুর রহমান বলেন, আমাদের জানা মতে শ্রমিক দিয়ে কাজ করানো হয়েছে। শ্রমিকের একাউন্টের মাধ্যমে টাকা দেয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে মেম্বার যদি মেশিনের মাধ্যমে মাটি কাটিয়ে কৌশলী অবস্থানের মাধ্যমে টাকা হরিলোট করে থাকে তাহলে তদন্ত ক্রমে প্রকল্প কমিটির লোকজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।


