বিশ্বনাথ আ.লীগের সম্মেলনের টুকি-টাকি
প্রকাশিত হয়েছে : ০৮ জুন ২০১৫ ইং, ৯:১৫ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ১৭৯৮ বার পঠিত
মোহাম্মদ আলী শিপন:: অতিথির জন্য কাঠের চেয়ার :: আ.লীগের সম্মেলনে অতিথির জন্য কাঠের চেয়ার রাখা হয়। সম্মেলনের অনুষ্ঠানে স্থলের প্রথম সারিতে রাখা হয় ৮টি কাঠের চেয়ার। দ্বিতীয়-তৃতীয় সারিতে রাখা হয়েছে পরিষদের হল রুমের কালো রঙ্গের বেশ কয়েটি চেয়ার। সম্মেলন উপলক্ষে পরিষদে হল রুম ভাড়া করা হয়েছিল। সেখানে কাউন্সিলনার ভোট প্রদান করেন।
অনেক প্রার্থী মুজিব কোর্ট পড়েননি : বিশ্বনাথ উপজেলা আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে গতকাল সোমবার অনুষ্ঠিত হয়। এবারের সম্মেলনে দুটি পদে ছয়জন প্রার্থী অংশগ্রহন করেন। তারা হলেন-সভাপতি পদে মজম্মিল আলী, পংকি খান, ফখরুল ইসলাম মতছিন, সাধারণ সম্পাদক পদে বাবুল আখতার, ফারুক আহমদ, সিরাজুল ইসলাম সিরাজ। তবে এরই মধ্যে ফখরুল ইসলাম, বাবুল আখতার ও ফারুক আহমদ মুজিব কোর্ট পড়ে সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
অতিথিরা পুলিশি হেফাজতে অনুষ্ঠান স্থলে : সম্মেলনে অতিথিরা পুলিশি হেফাজতে গতকাল সোমবার বেলা ৩.১৫মিনিটে সভাস্থলে উপস্থিত হন। এসময় তাদের করতালির মাধ্যমে বরণ করেন সম্মেলনে আসা নেতাকর্মীরা। এসময় জেলা আওয়া মীলীগের শীর্ষস্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
কাউন্সিলারদের গলায় কার্ড : সম্মেলন উপলক্ষ্যে প্রত্যেক কাউন্সিলর-ভোটাদের গলায় ছিল কার্ড। তারা সম্মেলন স্থলে গলায় কার্ড ঝুলিয়ে চলাফেরা করতে দেখা যায়। অনেকে আবার কার্ড সাটের পকেটে রেখে ঘুরতে লক্ষ করা যায়। কার্ডের সঙ্গে ফিতাও ছিল।
অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প : সম্মেলন উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠান স্থলের ৫০ গজ দূরে অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। এর পাশে রয়েছে খারাব ক্যাম্প। তবে মেডিকের ক্যাম্পে ডাক্তার না থাকলেও আওয়ামীলী ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীদের বসে থাকতে দেখা যায়। তবে কেউ অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
খাবার কার্টুনের সঙ্গে পানি ফ্রি : সম্মেলন উপলক্ষে আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়। এর দায়িত্ব পান উপজেলা আ.লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আমির আলী। সোমবার বেলা ২টায় শুরু হয় আপ্যায়নের ব্যবস্থা। মোরগ দিয়ে করা হয় আখনি। এসময় দায়িত্বপ্রাপ্ত আ.লীগ নেতাকে হিমশিম খেতে হয়। প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে আসা নেতাকর্মীদের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হয়। কার্টুনের সঙ্গে পানির বোতলও দেয়া হয়।
কার্টুন-বোতল কুড়িযে নেয়ার হিড়িকঃ আপ্যায়নের পর উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন স্থান পড়ে থাকে খালি কাটুর্ন ও পানির বোতল। কিন্তু এগুলো কুড়িয়ে নেয়ার হিড়িক পড়ে। উপজেলা সদরের অবস্থিত টুকাই শিশুরা পাটের বস্তায় করে এগুলো তুলে নিতে দেখা যায়। এসময় প্রায় আট-দশ শিশুকে এগুলো বহন করতে দেখা গেছে। তাদের মধ্যে আনন্দ-উৎসব লক্ষ করা যায়।
আলাদা মঞ্চ : সম্মেলনের মূল ষ্ট্রীইজের বাম পাশে নির্মাণ করা হয়েছে উপজেলার ইউপি আ.লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের জন্য আলাদা মঞ্চ। কিন্তু ওই মঞ্চে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ছাড়াও অন্য নেতাকর্মীরাও বসতে দেখা যায়। এনিয়ে কেউ তেমন বলাবলি করতে দেখা যায়নি।
এক প্রার্থীর পোষ্টার : এবারের সম্মেলনে সভাপতি পদে তিনজন ও সাধারণ সম্পাদক পদে তিনজন অংশ গ্রহন করেন। কিন্তু সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী এডভোকেট সিরাজুল ইসলাম সিরাজের পোষ্টার দেখা গেলেও অন্য প্রার্থীদের পোষ্টার দেখা যায়নি। সম্মেলনের স্থলে পাশে পরিষদ হল রুমের বারিন্দায় সাটানো হয়েছে ওই প্রার্থীর পোষ্টার। তবে অন্য প্রার্থীদের বিলবোর্ড ও ব্যানার ছিল অনুষ্ঠান স্থলে চার পাশে।
আযানের সময় মাইক বন্ধ : সোমবার সকাল ১১টা থেকে সম্মেলনের কাজ শুরু হয়। কিন্তু যোহর-আসর ও মাগরিবের আযানের সময় মাইক রাখা হয় বন্ধ। অনেকেই নামাজ আদায় করতে মসজিদে গেলে অধিকাংশ নেতাকর্মীরা অনুষ্টান স্থলে ঘোরা ফেরা করতে দেখা যায়। তবে অনেক প্রার্থীকে নামাজে যেতে দেখা যায়নি।
পাইঞ্জাবী পড়ে সম্মেলনে : যারা অনেক সময় পাঞ্জাবি পড়েনি,তারা সম্মেলন উপলক্ষে নতুন পাঞ্জাবি পড়ে সম্মেলনে আসাতে দেখা যায়। দলের শীর্ষ পর্যায়ে নেতা থেকে শুরু করে ওয়ার্ড পর্যায়ে অনেক নেতার গায়ে শুভা পায় পাঞ্জাবী। তবে এর মধ্যে সাদা পাঞ্জাবির সংখ্যা ছিল বেশি। পায়জামা-পাঞ্জাবি থাকলে মাথায় ছিলনা বেশির ভাগ নেতাকর্মীর টুপি!
প্রার্থীদের কানাকানি : সম্মেলনে আসা কাউন্সিলর ও ভোটাদের সঙ্গে প্রার্থীদের কানাকানি করতে দেখা যায়। সম্মেলন স্থলে যেখানে কার্ডধারী ভোটার প্রার্থীদের চোখে পড়েছেন,সেখানেই প্রার্থীরা এক বারও হলেও কানাকানি করার জন্য ছুটে যেতে দেখা যায়। তবে ধারণা করা হয় ভোট যাওয়ার জন্য এ কানাকানি।
দুই নারীর বক্তব্য : সম্মেলনে অতিথি ছাড়াও জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে অনেক নেতাকর্মী বক্তব্য দেয়ার সুযোগ দেয়া হয়। বিকেল ৫টা ২৩ মিনিটে এক মহিলাকে বক্তব্য দেয়ার জন্য আমন্ত্রন জানানো হয়। পরে অন্যজন বক্তব্য রাখেন। তাদের নাম ঘোষনার পর অনেক নেতাকর্মী উকি মারতে দেখা যায়। তারা হলেন-রাজধানী ঢাকা সিটি মহিলা কাউন্সিলর ডেইজি সারোয়ার ও জেলা মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা বেগম নাজনিন হোসেন।
বিএনপি-জাপা নেতারা নেই : দীর্ঘ একযুগ পর উপজেলা আ.লীগের সম্মেলন সোমবার অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু ওই সম্মেলনে বিএনপি কিংবা আ.লীগের শরিক দল জাপা কোনো নেতা উপস্থিত ছিলেন না। তবে তাদের সম্মেলনে আমন্ত্রন করা হয়নি বলে বিএনপি-জাপা নেতারা জানান। এনিয়ে রাজনীকতবিদদের মধ্যে কানাঘোষা করতে শুনা যায়।
দুই প্রার্থীর মিছিল : সম্মেলনে উপস্থিত হওয়ার জন্য সভাপতি প্রার্থী পংকি খান ও সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার সোমবার বেলা সাড়ে তিনটায় আল হেলা শপিং সিটির সামন থেকে মিছিল সহকারে সম্মেলন স্থলে হাজির হন। মিছিলে তাদের সর্মথিত নেতাকর্মীরা ছিলেন। সম্মেলন স্থল যাওয়ার পর করতালির মাধ্যমে তাদের স্বাগত জানান নেতারা।
বক্তব্যের মাঝে মাঝে স্লোগান : সম্মেলনে শীর্ষ পর্যায়ে নেতারা বক্তব্য দেয়ার জন্য চেয়ার থেকে উঠার পরই প্রথমে এক স্লোগান দিতে দেখা নেতাকর্মীরদের । বক্তব্যে দেয়ার মাঝ খানে আবার স্লোগান ও হাতের তালিও কেউ কেউ দেন। এতে বক্তিতা দেয়া নেতার কণ্ঠস্বর আরও বেশি হয়।
বক্তব্য দেয়ার সুযোগ পাননি যারা : সম্মেলনে উপজেলা আ.লীগের সহযোগি সংগঠনের দুই-একজন করে বক্তব্য দেন। কিন্তু ইউনিয়ন পর্যায়ে আ.লীগের কোনো নেতাকর্মীকে বক্তব্য দেয়া হয়নি। ফলে অনেক নেতাকর্মীর মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করে। তবে এই কোনো হট্রগোল হয়নি।
প্রার্থীর পক্ষে স্লোগান নিষেধ : বেলা সাড়ে ১২টায় সম্মেলনের সভাপতি মজম্মিল আলী হঠাৎ করে মাইক হাতে নিয়ে কথা বলতে শুরু করেন। এসময় তিনি নেতাকর্মীর প্রতি দৃষ্টি করে বলেন, আমরা আ.লীগের পরিবার সদস্য। তবে সম্মেলন হওয়ায় কেউ কেউ প্রার্থী হয়েছি। আমার পক্ষে হয়ত পাঁচজন অন্যজনের পক্ষ হয়ত দশজন রয়েছেন। তবে দোয়া করে কেউ যেন কোনো প্রার্থীর পক্ষে স্লোগান না দেন।


