বিশ্বনাথ উপজেলা আওয়ামীলীগের কারা হচ্ছে কান্ডারী?
প্রকাশিত হয়েছে : ০৮ জুন ২০১৫ ইং, ১১:৪৩ পূর্বাহ্ণ | সংবাদটি ৮২৫ বার পঠিত
তজম্মুল আলী রাজু:: ৮টি ইউনিয়ন ৭২টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত প্রবাসী অধ্যূষিত বিশ্বনাথ উপজেলা। ওই উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন আজ সোমবার অনুষ্ঠিত হবে। ইতিমধ্যে সম্মেলনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। অন্যদিকে বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্তরাও তাদের অতীতের সফলতা তুলে ধরে নতুনদের চ্যালেঞ্জ করছেন। কাউন্সিলরদের মন জয় করতে নেতৃস্থানীয়দের প্রচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে উপজেলা আওয়ামী রাজনীতির মাঠ। তবে এবারের সম্মেলন কোনো মন্ত্রী আসছেনা বলে দলীয় সূত্রে জানাগেছে।
বেলা ২টায় ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন উপজেলা পরিষদ মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিছবাহউদ্দিন সিরাজ।
উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি লুৎফুর রহমান। প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখবেন সিলেট-২ আসনের সাবেক সাংসদ ও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখবেন, জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি মাসুক আহমদ, অ্যাডভোকেট শাহ ফরিদ আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহ মোশাহিদ আলী, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন কুমার দত্ত, সদস্য অ্যাডভোকেট আজমল আলী, শাহাতাৎ রহিম চৌধুরী, জেলা আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সদস্য এস.এম.নুনু মিয়া। অতিথির বিষয়টি নিশ্চিত করেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার।
দলীয় সূত্রে জানাযায়, ২০০৪ সালে সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী মরহুম আবদুস সামাদ আজাদ উপস্থিততে উপজেলা পরিষদ মাঠে উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন এবং একটি কমিউনিটি সেন্টারে কাউন্সিল অধিবেশের মাধ্যমে সম্মেলন সম্পন্ন হয়। ২০০৪ সালে সেপ্টেবর মাসে মজম্মিল আলীকে সভাপতি ও বাবুল আখতারকে সাধারণ সম্পাদক করে উপজেলা আওয়ামী লীগের ৬৭ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। ইতি মধ্যে উপজেলার আটটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলন শেষ হয়েছে।
উপজেলা আওয়ামীলীগের বর্তমান কমিটির সভাপতি মজম্মিল আলী, ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ও আল-হেরা শপিং সিটি চেয়ারম্যান, আওয়ামীলীগ নেতা মো. পংকি খান, আওয়ামীলীগ নেতা ফখরুল আহমদ মতছিন, সাধারণ সম্পাদক পদে বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার, বর্তমান কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক আহমদ ও আওয়ামীলীগ নেতা অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম সিরাজ। তৃণমূলের মতামতকে গুরুত্ব দিতে ভিন্ন পদ্ধতিতে এবার আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে ১৮৩ জন কাউন্সিলর তাদের পছন্দের প্রার্থীকে গোপন ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতে, রাজনৈতিক ক্লিন ইমেজ ধারীদের নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তারা বলছেন, এবার আ’লীগের সৎ-যোগ্য, দক্ষ-সাহসী এবং ত্যাগী ব্যক্তিদের নেতৃত্বে দেখতে চান তারা। যারা দল এবং নেতাকর্মীদের সুখে-দুঃখে এগিয়ে এসেছেন তাদের প্রতি তৃণমূলের সমর্থন থাকবে।
দীর্ঘ বিরতী কাটিয়ে সোমবার অনুষ্ঠিতব্য এই সম্মেলনকে ঘিরে বেশ নড়েচড়ে উঠেছেন নেতৃত্ব প্রত্যাশিরা। তারা তাদের ‘ভোট ব্যাংক’ ভারির প্রত্যাশায় জৈষ্ঠের রোদ-বৃষ্টি গায়ে মেখে আর রাতের আঁধার মাড়িয়ে সপ্তাহের সাতদিন রাতদিন উপজেলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত চষে বেড়াচ্ছেন। কাউন্সিলে তালিকাভূক্ত উপজেলার ১৮৩ জন ভোটারকে টার্গেট করে তাদের বাসা-বাড়ী ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রার্থীদের বিরামহীন আনা-গোনা এখন চোখে পড়ার মতো।
প্রার্থীদের ব্যাপক কর্মতৎপরতা ও নিজেদের বিজয় নিশ্চিত করতে দলের উপর মহলে লবিং আর তৃণমূলে ভোট আদায়ের নানামূখী কৌশল সম্মেলনকে উপজেলাবাসীর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছে। আলোচনার সিংহভাগ অংশজুড়েই উঠে আসছে ভোটাররা নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনকে প্রাধান্য দেবেন, নাকি পুরোনোতেই আস্থা রাখবেন? তবে অনেক ভোটারদের সাথে কথা বলে এই আলোচনার কিছুটা ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও সঠিক নেতৃত্ব নির্বাচনের দিকটাই তাদের কাছে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে বলে ধারণা করা গেছে।
কাউন্সিলরদেরকে নিজেদের দিকে টানতে প্রতিনিয়ত তাদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন পদপ্রার্থীরা। তাদের অনুসারীরাও গ্রুপ-উপ গ্রুপে বিভক্ত হয়ে কাউন্সিলরদের কাছে ধরনা দিচ্ছেন। তাই সম্মেলনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে সর্মথন জানিয়ে আসছেন কাউন্সিলরদের কাছে নিজ পছন্দের প্রার্থীদের জন্য ভোট চাইছেন। ইতিমধ্যে প্রার্থীদের পক্ষে সর্মথন জানিয়ে উপজেলা সদরে বিপুসংখ্যক বিলবোর্ড ও ব্যানার লাগিয়েছেন নেতাকর্মীরা।
এব্যাপারে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মজম্মিল আলী বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বনাথ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি হিসেবে সততা ও ন্যায়-নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছি। দলের দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের পাশে থেকেছি। আশা করি আমার নেতৃত্বের যোগ্যতা বিবেচনা করে ভোটাররা আমাকে পূণরায় নির্বাচিত করবেন।
সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার বলেন, দলীয় নেতাকর্মীদের চাপে আমি এবারও সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়েছি। আমার শতভাগ বিশ্বাস আছে ভোটাররা আমাকে আবারও নির্বাচিত করবেন। বিশ্বনাথ উপজেলা আওয়ামীলীগের কাউন্সিল দীর্ঘতর হওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ওয়ান ইলিভেন, আ’লীগ বিরুধী দলে থাকা এবং নানাবিধ আন্দোলন-সংগ্রামের কারণে সম্মেলন বিলম্বিত হয়েছে। তিনি আরো বলেন, আওয়ামীলীগ দেশের বৃহত্তর রাজনৈতিক দল হওয়ায় জেলা এবং উপজেলাগুলোতে সব সময় গঠনতন্ত্র মোতাবেক কাউন্সিল সম্পন্ন করা সম্ভব হয়ে উঠেনা। আজ কাউন্সিলের সকল প্রস্তুতি ইতোপূর্বে সম্পন্ন করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক, আ’লীগ নেতা পংকি খান বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়ন ও তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে এবং দেশব্যাপী আওয়ামীলীগের উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখতে বিশ্বনাথ উপজেলা আওয়ামীলীগের কাউন্সিলে প্রার্থী হয়েছি। আমার দৃঢ় বিশ্বাসÑমুক্তিযুদ্ধের একজন সংগঠক হিসেবে সম্মানিত কাউন্সিলাররা আমাকে মূল্যায়ন করবেন। আমি সারা জীবনই জনগণের কল্যাণ তথা মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করেছি। আমি যদি বিশ্বনাথ আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে আসতে পারি, তাহলে দলের নেতাকর্মীদের সুখ-দুঃখের অংশিদার হওয়ার পাশাপাশি উপজেলাবাসীর সার্বিক উন্নয়নে আমি অতীতে যেভাবে ভূমিকা রেখেছি; ভবিষ্যতেও সেই ধারা অব্যাহত রাখবো। তাছাড়া নির্বাচিত হলে পরে আমার জনসেবার কাজ আরো তরান্বিত হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
দেওকলস ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, আ’লীগ নেতা ফখরুল আহমদ মতছিন বলেন, বিশ্বনাথ উপজেলা আ’লীগের নেতৃত্বে একটা গুণগত পরিবর্তনের দাবী তৃণমূল নেতাকর্মীদের দীর্ঘদিনের চাওয়া। তাদের এই চাওয়ার প্রতিফলন ঘটাতেই আমি সভাপতি পদে প্রার্থী হয়েছি। আশা করছি ভোটাররা চলমান নেতৃত্বের ব্যর্থতা, দল নিয়ে ব্যবসা, বিএনপি-জামায়াতের সাথে সখ্যতা ও দলছুট নেতাদের দলবাজির দাঁতভাঙ্গা জবাব এবার ব্যালটের মাধ্যমেই দেবে।
উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, ২০০৪ সালে বিশ্বনাথ আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিলো। সম্মেলনের পর থেকেই বর্তমান সাধারণ সম্পাদকের অনৈতিক কর্মকান্ড, নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন এবং বিএনপি-জামায়াতের সাথে গোপন আঁতাতের ফলে দলের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুন্ন হয়েছে। তাই দলের ভাবমূর্তি পূণরুদ্ধার, নীতি-আদর্শ বাস্তবায়ন ও জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে এবং দলকে টিকিয়ে রাখার স্বার্থে আমি প্রার্থী হয়েছি। আশা করি দলের বৃহত্তর স্বার্থে ভোটাররা আমাকে মূল্যায়ন করবেন।
দৌলতপুর ইউনিয়ন আ’লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম সিরাজ বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ এবং শেখ হাসিনার নেতৃত্বে প্রকৃত আওয়ামীলীগ ও সুস্থধারার রাজনীতিকে এগিয়ে নেবার লক্ষ্যেই আমি প্রার্থী হয়েছি। বর্তমান সাধারণ সম্পাদকের কর্মকান্ডে অসম্পূর্ণতা বিরাজমান। তাঁর নেতৃত্বে স্থানীয় নেতাকর্মীরা ত্যাক্ত, অসন্তুষ্ট। তাছাড়া সাংগঠনিক সম্পাদকও তেমন একটা সক্রিয় নন বিধায় তাঁর প্রতিও আস্থা নেই। তাই এই দুই নেতার অসম্পূর্ণতা আমি পূর্ণ করতে চাই।


