প্রেমের মূল্য ৫০ হাজার : মামলার আসামিরা অধরা
প্রকাশিত হয়েছে : ১৭ জুন ২০১৫ ইং, ৫:৩৩ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ৯৪০ বার পঠিত
বালাগঞ্জ প্রতিনিধি:: বালাগঞ্জে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকা পাঁচ দিন অনশন করার পর জোরপূর্বক অভিভাবকদের হাতে তুলে দেয়ার ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের এক মাস অতিবাহিত হলেও এখন আসামিদের গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। অভিযোগ উঠেছে আসামীরা পুলিশের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে প্রকাশ্যে চলাফেরা করছে ও মামলা তুলে নেয়ার জন্য বাদি ও তার পরিবারের লোকজনকে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে, এ ব্যাপারে জনির মা বাদি হয়ে চলিত বছরের ৩ মার্চ নওশিরপুর গ্রামের সাদ্দাম হোসেন,চেরাগ আলী, রফাত উল্যা,নুর মিয়া ও বাবলা মিয়ার নাম উল্লেখ করে বালাগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেও পুলিশ রহস্যজনক কারনে তাৎক্ষনিক মামলা রুজু না করলেও গত মাসের ১৩ মে এ ব্যাপারে থানায় ধর্ষন মামলা রুজু করে। মামলা নং ৮।
অন্যদিকে চার্জশীটে অভিযুক্ত নুর মিয়া, রফাত মিয়া ও বাবলা মিয়াকে বাদ দিয়ে আদালতে চার্জশীট প্রদানের পায়তারা করে আসছেন তদন্ত কারী কর্মকর্তা।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নওশিরপুর গ্রামের হতদরিদ্র পরিবারের ছদ্ধ নাম জনির সঙ্গে গত ১ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে একই গ্রামের তৈমুছ আলীর পুত্র সাদ্দাম হোসেনের। এক পর্যায়ে উভয় পরিবারের অভিভাবকরা জানতে পেরে বিষয়টি নিয়ে গ্রামে একাধিকবার সালিশ বৈঠক বসে। প্রেমিক সাদ্দামের ভাই চেরাগ আলী কোনো ভাবেই এ সম্পর্ককে মেনে না নেয়ায় চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারী সাদ্দাম হোসেন কৌশলে প্রেমিকাকে তার বাড়িতে নিয়ে যায়। সাদ্দামের ভাই চেরাগ আলী জনিকে তার বাড়ি থেকে বের করে দিতে চাইলে প্রেমিকা জনি বিয়ের দাবিতে চেরাগ আলীর বাড়িতে অনশন করে বসে। অবশেষে সাদ্দাম হোসেন জনিকে বিয়ের প্রলোভনে তিনদিন তার বাড়িতে রাখার পর তার ভাই চেরাগ আলী বিষয়টি নিয়ে গ্রামের সালিশ বসিয়ে ৩ মার্চ গ্রামের নুর মিয়া,রফাত উল্যা ও তাদের সহযোগীরা জোরপূর্বক জনিকে তার মায়ের কাছে দিয়ে আসেন। কিছুদিনে মধ্যে মেয়ের ক্ষতিপূরন বাবত চেরাগ আলীর কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা দেয়া হবে তারা বলেন আসেন। এই টাকা দিয়ে মেয়েকে অনত্র বিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়।
ছদ্ধ নাম (জনির) মা কান্নাজনিত কন্ঠে বলেন,গরীব বলে আমাদের কোনো মান-সম্মান নেই। প্রথমে থানা পুলিশ মামলা নেয়নি। অবশেষে মামলা নিলেও রহস্যজনক কারণে এখন আসামিদের গ্রেফতার করছে না। আসামিরা প্রকাশ্যে চলাফেরা করে, তারা মামলা তুলে নেয়ার জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি একাধিকবার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে অবহিত করেন বলে তিনি জানান।
এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা থানার এস আই অরুপ কুমার চৌধুরী কাছে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বাদিকে আসামী কর্তৃক হুমকি অভিযোগ পেয়েও আসামীদের বাড়িতে একাধিকবার অভিযান চালিয়েছি কিন্তু আসামীরা পলাতক থাকায় তাদের গ্রেফতার করা যাচ্ছে না বলে তিনি জানান। পুলিশের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগগুলো সঠিক নয় বলে তিনি দাবি করেন।


