বালাগঞ্জ-ওসমানীনগরে বন্যা, ন্ম্মিঞ্চাল প্লাবিত
প্রকাশিত হয়েছে : ২৫ জুলাই ২০১৫ ইং, ৯:৪৭ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ২১৭২ বার পঠিত
শিপন আহমদ,ওসমানীনগর:: সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার জালাল পুরের সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধা মরিয়ম বিবি জানেন না এখন তার ঠাঁই কোথায় হবে। ইতিমধ্যে তার বসত ঘর পানিতে ভেসে যাওয়ায় তিনি দিশেহারা প্রায়। স্বামী হারা মরিয়মের এক সন্তান নিয়ে তার সংসার। ভিক্ষে ভিত্তিতেই করতেন জীবিকা নির্বাহ। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ কেউ এগিয়ে আসছে না বানবাসী মানুষের কাছে। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে অন্যেও বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন করছেন তিনি। শুধু মরিয়ম বিবিই না, এ রকম অভিজ্ঞতা এখন বালাগঞ্জ-ওসমানীনগর উপজেলার নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের। গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ী ঢলে পানি বৃদ্দিতে সিলেটের এ দুই উপজেলায় বন্যা শুরু হয়। ইতিমধ্যে নিম্নাঞ্চলের গ্রামের বাসিন্দারা পানির কারনে কেউ গৃহহারা, আবার কেউ নিজ ঘরেই পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। গো-খাদ্যের সংকটে গবাদিপশু নিয়ে তারা পড়েছে মহাবিপাকে। কচুরিপানাই এখন একমাত্র সম্বল। হালচাষের গরু বাঁচাতে না পারলে শুষ্ক মৌসুমে অনিশ্চিত হয়ে পড়বে জমিচাষ। ইতিমধ্যে এ দুই উপজেলায় নিম্মাঞ্চল প্লাবিত হয়ে গেছে। প্রায় অধিকাংশ এলাকার আউশ ও রোপা আমন ফসল পানির নিচে ডুবু ডুবু অবস্থায় রয়েছে। জলবদ্ধতার স্বীকার হয়ে পড়ছে উপজেলার ২ শতাধিক গ্রাম। এভাবে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে উপজেলার অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশংঙ্কা বিরাজ করছে। বিগত বছর গুলোর ভয়াবহ বন্যার ক্ষতি এখনো এ দুই উপজেলার নিম্নাঅঞ্চলের বাসিন্দারা পুষিয়ে উঠতে পারছেন না। এমনি হুহূত্বে এবারও বন্যার পদধ্বনি শোনায় উপজেলা বাসীর মনে গভীর শংঙ্কার মধ্যে রয়েছেন।
সরজমিনে শনিবার দুপুরে দেখা গেছে, গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে কুশিয়ারাসহ বিভিন্ন খাল-বিল নদীর পানি দিগুন হারে বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কুশিয়ারা ডাইকের একাধিক স্থানে স্থানে ভেঙ্গে বাঁধেঁর উপর দিয়ে গত দুই দিন ধওে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে দুই উপজেলার ১৪ টি ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রামে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন যে ভাবে পানি ঢুকছে এভাবে আরও এক দুই দিন বাঁধের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হলে গোটা উপজেলা বন্যা আক্রান্ত হয়ে উঠবে। জলাবদ্ধতার কারনে বালাগঞ্জ –ওসমানীনগর উপজেলার অধিকাংশ রাস্তাগুলি এখন মরন পাঁদে পরিণত হয়েছে। হাওর গুলিতে বন্যার পানিতে থৈ থৈ করছে। রুনিয়ার হাওর, লেংগুরার হাওর, ছনিয়ার হাওর, পেকুয়া, বড় মাইজাইল, গোরা পুরে হাওর, বানাইয়া হাওর, মুক্তার পুরের হাওর, ছোট ছাতল , বড় চাতল, কালাসা, সহ ছোট বিল ডোবা গুলোতে এখনো পানি বিপদসীমার উপরে রয়েছে। ইতিমধ্যে প¬াবিত গ্রামগুলো হচ্ছে, ওসমানীনগরের দক্ষিন তাজপুর,লামা তাজপুর, পূর্ব, তাজপুর,ইসলাম পুর,আবদ্দূল¬াপুর,সম্মান পুর,তাহিরপুর, বালাগঞ্জের জালাল পুর,কৃত জালালপুর,সাদেকপুর,হামছা পুর ভঙ্গপুর,জালাল পুর বাজার,সহ নিম্নঅঞ্চলের গ্রামগুলো।
গত দুইদিন ধরে কুশিয়ার ডাইকের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় জলাবদ্ধতার স্বীকার হয়েছে লামা গাভুর টিকি ধরখা,ইসলামপুর,আদম পুর বকশি পুর গৌরীপুর, ধরখাঁ,লামাতাজপুর, বামনপুর, খুরপুর, আলীপুর, চানপুর, সৈয়দপুর,সাদীপুর,গাভুটিকি, মোবারকপুর, মশাকলা, বল্বভপুর, খিয়ামপুর , চাতলপার, কালনিচর,সুন্দিকলা, কারিকোনা, তিলাপাড়া, জটিকোনা, জহিরপুর, মিঠাবরাং, মুক্তার পুর, মাদব পুর,তিলা পাড়া, মান্দারুকা, চর ইসবপুর, চর সিকন্দরপুর, তিলক চানপুর , সোনাপুর ,রোপাপুর , কলুমা, চানপুর, সিরাজ নগরসহ আরও প্রায় দুই শতাধিক গ্রামের লোকজন পানির কারনে জলাবদ্ধার মধ্যে বসবাস করছেন।
বন্যায়
কবলিতরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান,স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা সরকারী বরাদ্ধ এনে নিজের পকেট ভারি করতে বাঁধ নির্মাসে অনিয়ম কওে থাকেন আর এর ফল আমরা ভোগ করতে হয়। গত দুইদিন ধরে কুশিয়ারা ডাইক ভেঙ্গে পানি বৃদ্দি পেয়ে বন্যার সৃষ্টি হলেও বানবাসী মানষকে দেখার প্রয়োজন মনে করছেন না চেয়ারম্যান ও মেম্বার রা। উনারা এখন ব্যস্থ ডাইক নির্মানের জন্য টাকা এতে আবারও কিভাবে লুটপাটের নির্মান কায়েম করতে। এ পর্য়ন্ত বানবাসি মানুষের কাছে সরকারী ও বেসরকারী কোন ত্রান পৌছায় নি।
দক্ষিণ তাজপুর গ্রামের শরিফ আলী বলেন, পানি হরার কোনো পথ আছেনি। হকলতা তো ভরি গেছে। আগর-গাং আর নাই। পানি বন্দি হয়ে ছেলে মেয়েদের নিয়ে না খেয়ে আছি।
এব্যাপারে ওসমানীনগর উপজেলা নবনিযুক্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শওকত আলী বলেন, ইতিমধ্যে বন্যা কবলিত সাদীপুর ইউনিয়নের গ্রামগুলোসহ ভাঙ্গনকৃত কুশিয়ারা ডাইক এলাকা পরিদর্শন করেছি। বানবাসী মানুষ ও কুশিয়ারা ডাইকের ভাঙ্গনকৃত এলাকার ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ উধ্ধর্তন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। শ্রীঘই এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।


