বিশ্বনাথে শাহজিরগাঁও গ্রামে দু-পক্ষের মারামারির ঘটনায় পাল্টা-পাল্টি মামলা
প্রকাশিত হয়েছে : ২৮ জুলাই ২০১৫ ইং, ৭:২১ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ১৩৭৯ বার পঠিত
নিজস্ব সংবাদদাতা:: বিশ্বনাথ উপজেলার বিশ্বনাথ ইউনিনের শাহাজিরগাঁও গ্রামে দু-পক্ষের মারামারির ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এক পক্ষ থানায় ও অপর পক্ষে আদালতে মামলা দায়ের করেন।
জানা গেছে, গত ২৫ জুলাই রাত সাড়ে ৯টায় উপজেলার শাহজিরগাঁও গ্রামের যুক্তরাজ্য প্রবাসী আব্দুন নুর এর বাড়িতে গ্রামের মসজিদের জায়গা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত বৈঠকে কথাকাটাকাটির জের ধরে শাহজিরগাঁও গ্রামের রফিক আলী ও মানিক মিয়া লোকজনের মারামারির ঘটনা ঘটে। এসময় মানিক মিয়া সহ তাদের পক্ষের আহত হন দুদু মিয়া, সোনাফর আলী, রুপ আলী। রফিক মিয়াসহ তাদের পক্ষে আহত হন কুদ্দুছ আলী, চান্দ আলী, আকলিছ আলী, জামাল মিয়া।
এঘটনায় গতকাল সোমবার রাতে বিশ্বনাথ থানায় মানিক মিয়ার পক্ষে শাহজিরগাঁও গ্রামের সোনাফর আলীর পুত্র ফয়জুল ইসলাম জয় বাদি হয়ে ১৩জনের নাম উল্লেখ করে আরো অজ্ঞাতনামা ৭/৮জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ২০।
মামলার এজাহারে বাদি উল্লেখ করেন, বিবাদী রফিক মিয়া বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে টাকা আত্মসাৎ করেন। গত গত শনিবার রাতে প্রবাসী আব্দুন নুরের বাড়ি মসজিদের জায়গা সংক্রান্ত বিষয়ে অনুষ্ঠিত পঞ্চায়েতে বৈঠকে জগন্নাথপুরের গড়গড়ি গ্রামের ফজলুর রহমান, বিশ্বনাথের কাসিবপুর গ্রামের রুহেল খান ও ওসমানীনগরের গোয়ালাবাজরের রাহিম আহমদ উপস্থিত হয়ে রফিক মিয়ার বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করেন। এনিয়ে পঞ্চায়েতের লোকজন কথাবার্তা শুরু করলে রফিক মিয়াসহ অভিযুক্তরা গ্রামের মুরব্বিদের উপর অতর্কিতভাবে হামলা করেন।
এদিকে, এঘটনায় মঙ্গলবার সিলেট জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী আদালত-৩ এ রফিক মিয়া বাদি হয়ে মানিক মিয়াসহ প্রতিপক্ষের ৯জনের নাম উল্লেখ করে আরো ৭/৮জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করে একটি সি.আর মামলা দায়ের করেছেন (২০৪/২০১৫)।
মামলা এজাহারে বাদি রফিক মিয়া উল্লেখ করেন, গ্রামের সমজিদের জায়গা নিয়ে অনুষ্ঠিত পূর্ব নির্ধারিত বৈঠকে মসজিদের মূল্যবান জমি বিনিময়ের প্রস্তাব করেন আব্দুল লতিফের পুত্র জামাল মিয়া। এতে আসামী মানিক মিয়া ও দুদু মিয়া সম্মতি জানান এবং বাদি রফিক মিয়া অসম্মতি জানালে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে মানিক মিয়া গংরা বাদি পক্ষের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। ঘটনার পরদিন রবিবার অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বাদির বাড়িতে হামালা চালায় এবং তার (রফিক) গোয়াল ঘরে থেকে ৪/৫টি গরু অভিযুক্তরা নিয়ে যায় এবং ঘটনার দিন ও পরদিন রাতে আসামীরা বাড়িতে আতংক ও ত্রাস সৃষ্টি করে ঘরের দরজা-জানালা ভাংচুর করে গৃহস্থালী কাজের লোকদের হত্যার হুমকি দিয়ে বাড়ি থেকে বিতারিত করে। আসামীদের বয়ে বাড়িঘরে মহিলারাও নিরাপদে থাকতে পারছেন না বলে তিনি এজাহারে উল্লেখ করেন।


