ঈদকে সামনে রেখে মৌসুমি ভিক্ষুকদের বিশ্বনাথে হানা!
প্রকাশিত হয়েছে : ১০ জুলাই ২০১৫ ইং, ৩:২৪ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ১১৩৬ বার পঠিত
জামাল মিয়া:: প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচত সিলেটের বিশ্বনাথ। ঈদ আসলেই ভিক্ষুকের সংখ্যা এলাকায় বৃদ্ধি পায়। সিলেট জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে চলতি রমজান মাসের শুরুতে ভিক্ষুদের উপস্থিত লক্ষনীয়। প্রতিদিন সকাল কিংবা বিকেলে তারা হানা দিয়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ও হাটবাজারে। ঈদকে সামনে রেখে শুক্রবার উপজেলা সদরের ভিক্ষুকের সংখ্যা বেশি লক্ষ করা যাচ্ছে। তারা বিভিন্ন মার্কেটের সামনে কিংবা রাস্তার পাশে বসে থাকে। প্রবাসী কাউকে দেখা মাত্রই দূরে ছুটে যায় ভিক্ষুকরা। এতে অনেকেই বিরক্ত হলেও অনেকেই তাদের টাকা দিয়ে সাহায্য করেন। অনেক ভিক্ষুক উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে বাড়ি বাড়ি গিয়ে যাকাতের টাকা আনার জন্য ছুটে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে এলাকার লোকজন নিজদের গরীব মানুষের মধ্যে যাকাতের টাকা বিলিয়ে দেয়ার পর অবশিষ্ট টাকাগুলো মৌসুমি ভিক্ষুদের দিয়ে দেন। সকাল হলেই ভিক্ষুকরা প্রবাসীদের ঘরে সামনে গিয়ে হাজির হতে দেখা যায়। তবে বিশ্বনাথ এলাকার ভিক্ষুকদের চেয়ে অন্য থানার ভিক্ষুকরা বেশি। উপজেলা সদরের সকাল থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত ভিক্ষুকদের আনাগোনা দেখা যায়। এতে মহিলা ভিক্ষুকের সংখ্যা বেশি।
এলাকাবাসী জানান, ঈদ কিংবা রমজান মাস আসলেই ভিক্ষুকদের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। সকাল হলেই ঘুম থেকে উঠে দেখা যায় ভিক্ষুরা দরজার সামনে। এসময় তারা তাদের (ভিক্ষুকরা) বিভিন্ন সম্যাসার কথা বলতে থাকে। প্রতিদিন কয়েক শতশত ভিক্ষুক এলাকায় চুষে বেড়ায়। অন্যান্যা এলাকার চেয়ে আমাদের এলাকায় ভিক্ষুকের সংখ্যা অনেক কম। বাসা-বাড়ি ছাড়াও তারা উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে ঘুরে বেড়ায়। তবে নিজ নিজ সাধ্য মতে এলাকার মানুষ তাদের টাকা দিয়ে আসছেন। তবে খুব কম ভিক্ষুক খালি হাতে ফিরতে হয়।
উপজেলার দশদল গ্রামের গৃহিন চন্দ্রবান বিবি বলেন, প্রথম রমজান থেকে শুরু করে আজ ২০ পর্যন্ত ভিক্ষুকরা প্রতিদিন বাড়ি সাহায্যে জন্য আসে। কিন্তু গত বারের চেয়ে এবার ভিক্ষুকের সংখ্যা বেশি।
যুক্তরাজ্য প্রবাসী মানিক মিয়া বলেন, দেশে থাকা আত্বীয় স্বজনের সাথে ঈদ করার জন্য গত সপ্তাহে দেশে আসি। কিন্তু প্রতিদিন সকালেই ভিক্ষুককারীরা বাড়িতে হানা দেয়। তবে নিজের সাধ্যমতে তাদের সহযোগিতা করার চেষ্টা করে আসছি।
ভিক্ষুক হরমুজ আলী বলেন, যাকাতের টাকাই আমাদের একমাত্র ভরসা। ঈদ আসলেই আমরা বিভিন্ন গ্রামে ছুটে বেড়াই। ভিক্ষা করাই আমার মূল পেশা। ছয় সদস্য পরিবার নিয়ে রয়েছি বিপাকে। ভিক্ষা ছাড়া আমার কোনো উপায় নেই।
অপর ভিক্ষুক খালিক মিয়া বলেন, দীর্ঘ এক যুগ ধরে বিশ্বনাথে ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছি। তবে ঈদ আসলে নতুন নতুন ভিক্ষুক এলাকায় প্রবেশ করে। এতে আমাদের অনেক ক্ষতি হয় বলে তিনি জানান।
মহিলা ভিক্ষুক রুপজান বিবি বলেন, ভিক্ষার টাকা পেলেই ঈদের কেনা-কাটা করা হয়। যার ফলে প্রতিদিন সকালে ঘর থেকে বের হই। বিশ্বনাথে প্রচুর টাকা পাওয়া যায়। ফলে প্রতি বছর ঈদ আসলে ওই এলাকায় ছুটে আসি।


