বিশ্বনাথে লন্ডনী তাহির হত্যা মামলা ফের তদন্তে সিআইডি
প্রকাশিত হয়েছে : ০১ জুলাই ২০১৫ ইং, ৯:০৫ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ১৩৯৮ বার পঠিত
নিউজ ডেক্স:: ‘খুন হওয়া শেখ তাহির আলীর সঙ্গে ইউনুস আলীর জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। মামলার অন্যতম সাক্ষী আজাদ মিয়ার জবানবন্দি ১৬৪ ধারায় রেকর্ড করা হয়নি। নালিশি দরখাস্তে ১৫ জনের নাম উল্লেখ থাকলেও চার্জশিটে মাত্র ৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। সন্দেহজনক আসামিকে কোন কর্মকর্তাই গ্রেপ্তার করেননি। আলামত উদ্ধার হলেও আসামি চিহ্নিত করতে ব্যর্থ হয়েছে তদন্ত কর্মকর্তারা। সিলেটের বিশ্বনাথে লন্ডন প্রবাসী বিএনপি নেতা শেখ তাহির আলী খুনের মামলার দু’দফা তদন্ত রিপোর্টের প্রেক্ষিতে দেওয়া এক আদেশে আদালত এসব চার্জশিট ত্রুটির খুঁটিনাটি তুলে ধরেন। অথচ ডিবি কিংবা সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তারা এসব বিষয় এড়িয়ে গেছেন সহজেই। দুই দফা তদন্ত শেষে চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হয়েছিল। কিন্তু বাদী নারাজি দেওয়ায়ও সেটি আমলে নেয়নি আদালত। ফের তদন্তে পাঠানোর পর এখন মামলাটি তদন্ত করছেন সিআইডির সিলেট জোনের এএসপি মেহেরুন্নেছা পারুল। তদন্তভার পাওয়ার প্রায় চার মাস পর তিনি ঘটনাস্থলে তদন্তে গেছেন। সিলেটের বিশ্বনাথের প্রবাসী তাহির আলী হত্যা মামলার সুষ্ঠু তদন্ত দীর্ঘ ৪ বছরে শেষ হয়নি। আলোচিত এ মামলা নিয়ে ‘তদন্ত খেলা’ খেলছেন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তারা। আর মামলাটি নিয়ে পুলিশ, ডিবি ও সর্বশেষ সিআইডির তদন্তের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন ও আসামিদের নাম না আসায় ক্ষুব্ধ প্রবাসী তাহির আলীর পরিবারও। বিশ্বনাথের নতুন বাজার এলাকায় তাহির আলী খুন হন ২০১১ সালে ২৫শে জুন। বিশ্বনাথ থানা থেকে ৪০০ গজ দূরে অবস্থিত নিজ বাসাতেই খুন হন তাহির আলী। ১৫-২০ জন জনের ডাকাত ঘরে ঢুকে তাহির আলীর স্ত্রী ও পুত্রকে নিজ কক্ষে বেঁধে ফেলে। এ সময় তাহির আলী ২-৩ জন ডাকাতকে চিনে ফেলায় ডাকাতরা নির্মমভাবে কুপিয়ে খুন করে প্রবাসী তাহির আলীকে। এ সময় গুরুতর আহত হন তাহির আলীর পুত্র আজাদসহ কয়েকজন। এ ঘটনায় বিশ্বনাথ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতারসহ ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় এজাহার দিয়েছিলেন তাহির আলীর পরিবার। কিন্তু পুলিশ সেটি গ্রহণ না করায় শেষে আদালতে এ মামলা করা হয়। এদিকে, ঘটনার পর বিশ্বনাথ পুলিশের ভূমিকা রহস্যময় হয়ে ওঠে। থানা পুলিশ ঘটনাকালীন সময়ে রেকর্ড করা একটি ভিডিও ক্লিপ তাদের হেফাজতে নিয়ে নেয়। এ সময় তারা তাহির আলীর স্ত্রীর কয়েকটি স্বাক্ষর সাদা কাগজে নিয়ে নেয়। ওই ভিডিও ক্লিপটি ছিল ঘটনাকালীন সাক্ষী। কিন্তু পুলিশ সেটি নিয়ে গায়েব করে ফেলে। আর ঘটনার পর তাহির আলীর বাড়ির সামনে একটি মোটরসাইকেল ও চাবি পাওয়া যায়। কিন্তু প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ এগুলো সব তামাদি করে ফেলে। এদিকে, তাহির আলী যুক্ত রাজ্যপ্রবাসী হওয়ার কারণে এই খুন নিয়ে আলোচনা চলে সিলেটজুড়ে। যুক্তরাজ্যের বাঙালি কমিউনিটিতে নাড়া দেয় ঘটনাটি। প্রতিবাদের ঝড় উঠে সবখানে। যুক্তরাজ্য সরকার ও প্রবাসীদের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সরকারের কাছে বিচার দাবিও করা হয়। এর ফলে ঘটনার এক সপ্তাহের মধ্যে খুনিদের গ্রেপ্তার করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেয়া হয়। বিশ্বনাথ থানা পুলিশ জানিয়েছে, খুনের ঘটনার পর বিশ্বনাথ পুলিশের এসআই আবদুল আহাদ ঘটনার তদন্ত করেন। এরপর মামলার অধিকতর তদন্তের জন্য সিলেটের গোয়েন্দা পুলিশের দেয়া হয়। কিন্তু ডিবি পুলিশের দেওয়া তদন্ত রিপোর্টে ৫ জনকে দায়ী করায়। পরে সিআইডির দেয়া রিপোর্টেও দায়ী করা হয় ৫ জন। এ কারণে দুটি তদন্ত রিপোর্টই বাদীপক্ষের মনমত হয়নি। অনেক কিছু বাদ দেয়ার কারণে মামলাটি ফের একজন সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্মকর্তা দিয়ে তদন্ত করানোর নির্দেশ দেয় আদালত। এর ফলে বর্তমানের মামলাটি তদন্ত করছেন সিআইডির সিনিয়র এএসপি মেহেরুন্নেছা পারুল। গত ২৭শে এপ্রিল তিনি এ মামলার তদন্ত করতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। গতকাল সিআইডির সিনিয়র এএসপি মেহেরুন্নেছা পারুল জানিয়েছেন, তদন্ত চলছে। কবে নাগাদ তদন্তকাজ শেষ হবে সেটি বলা যাবে না। তবে, ঘটনাকেন্দ্রিক সব দিকেই তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এদিকে, আলোচিত এ মামলায় পুলিশ ও সিআইডির দুর্বল রিপোর্টের পর আদালত ২০১৪ সালের ৮ই ডিসেম্বর শুনানি শেষে আদেশে বলেছেন, ‘শেখ তাহির আলীর সঙ্গে দৌলতপুর গ্রামের ইউনূস আলীর জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। কিন্তু তদন্তকারী কর্মকর্তা এ বিষয়টি গুরুত্ব দেননি। মামলার অন্যতম সাক্ষী আজাদ মিয়ার জবানবন্দি ১৬৪ ধারায় রেকর্ড করা হয়নি। নালিশি দরখাস্তে ১৫ জনের নাম উল্লেখ থাকলেও চার্জশিটে মাত্র ৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। সন্দেহজনক আসামিকে কোন কর্মকর্তাই গ্রেপ্তার করেননি, অনেক আলামত উদ্ধার হলেও আসামি চিহ্নিত করতে ব্যর্থ হয়েছে তদন্ত কর্মকর্তারা। আদালত আদেশে আরও বলেন, ‘মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তারা আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় উল্লেখ করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। যা অপ্রত্যাশিত ও অনাকাঙ্খিত।’ এদিকে, খুন হওয়া তাহির আলীর শ্যালক মো. হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, ন্যায় বিচারের জন্য তাহির আলীর পরিচার দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। কিন্তু পুলিশ ও সিআইডি সত্য আড়াল করে রিপোর্ট জমা দিয়েছে। আদালত ফের মামলাটি তদন্তে দিয়েছেন। এই তদন্ত কর্মকর্তা পূর্বের কর্মকর্তাদের মতো ঘুমের ঘোরে না থেকে সত্য উদঘাটন করে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। সূত্র মানবজমিন


