বিশ্বনাথে মারামারির মামলায় ১০ জনের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড
প্রকাশিত হয়েছে : ২৭ আগস্ট ২০১৫ ইং, ৯:১৫ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ১১৬৮ বার পঠিত
নিউজ ডেস্ক:: সিলেটের বিশ্বনাথে মারামারির মামলায় ১০ জনের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার সিলেটের অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের (ভারপ্রাপ্ত) বিচারক কাজী আবদুল হান্নান এ রায় ঘোষণা করেন।
দন্ডপ্রাপ্ত আসামীরা হচ্ছে-বিশ্বনাথ উপজেলার অলংকারী ইউনিয়নের বেতসান্দি (সালামপুর) গ্রামের মৃত হারিছ আলীর পুত্র ইলিয়াছ আলী (৪২), তার ভাই সিরাজ মিয়া (মামলা চলাকালিন সময়ে মারা যান), সাইস্তা মিয়া (৪৮), ফারুক আহমদ (৩২) ও ফয়জুল মিয়া (৩০), একই এলাকার উস্তার আলীর পুত্র আনছার আলী (৩৫), তার ভাই জবা মিয়া (৪০), সবুজ আলী (৩০), একই এলাকার মৃত কুদরত আলীর পুত্র ও তবারক আলী (৬৫) এবং তার ছেলে ইসলাম মিয়া ওরফে বাবুল (৩৬)। রায় ঘোষনার সময় সাজাপ্রাপ্ত আসামী ইলিয়াছ আলী, জবা মিয়া ও ফয়জুল মিয়া আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত না থাকলেও অপর সাজাপ্রাপ্ত আসামীরা উপস্থিত ছিলেন।
আদালত সুত্রে জানা গেছে, ২০০০ সালের ২৭ জানুয়ারী রাত ৮ টার দিকে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে বিশ্বনাথ উপজেলার অলংকারী ইউনিয়নের বেতসান্দি (সালামপুর) গ্রামের মোঃ আব্দুল জব্বারের পুত্র ক্ষুদ্র সবজি ব্যবসায়ী সায়েক আহমদকে (২২) বিয়ে ও ভিডিও দেখার কথা বলে একই এলাকার আনছার আলী তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। ওইদিন রাতে বেতসান্দি বাবনগাঁওয়ে পৌছামাত্র পূর্ব থেকে ওৎপেতে থাকা দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্রে নিয়ে আনছারসহ তার লোকজন সায়েক আহমদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় দুর্বৃত্তরা সায়েককে কুপিয়ে আহত করে তার ডান কান কেটে নিয়ে তার পকেটে থাকা ব্যবসায়ীক ৫ হাজার টাকা লুট করে পাশ্ববর্তী মঠাইখালে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। তার আত্মচিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় আহত সায়েককের পিতা আব্দুল জব্বার বাদি হয়ে ১০ জনকে আসামী করে বিশ্বনাথ থানায় একটি মারামারি মামলা দায়ের করেন। নং-২ (০৪-০৩-২০০০)। দীর্ঘ তদন্ত শেষে একই বছরের ৮ এপ্রিল বিশ্বনাথ থানার এসআই আব্দুর রাজ্জাক ১০ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে এ মামলার চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন এবং ২০০৩ সালের ১৫ জানুয়ারী থেকে এ মামলার বিচারকার্য্য শুরু হয়।
দীর্ঘ শুনানী ও ৯ সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত আসামী ইলিয়াছ আলী ও আনছার আলীকে ৩২৬/৩০৭/৩৪ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে প্রত্যেককে ৫ বছরের কারাদন্ড ১০ হাজার করে জরিমানা অনাদায়ে আরো ২ মাসের বিনাশ্রমে কারাদন্ড এবং ৩০৭ ধারায় প্রত্যেককে দোষী সাব্যস্ত করে তাদেরকে ৭ বছরের কারাদন্ড ১৫ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে ৩ মাসের কারাদন্ড ও সিরাজ মিয়া, জবা মিয়া, ইসলাম উদ্দিন, সাইস্তা মিয়া ও ফারুক আহমদকে ৩২৪ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে প্রত্যেককে ২ বছর কারাদন্ড ৫ হাজার টাকা জরিমান অনাদায়ে বিনাশ্রমে ২ মাসের এবং ৩০৭/৩৪ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে প্রত্যেককে ৭ বছরের কারাদন্ড ১৫ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে বিনাশ্রমে ৩ মাসের কারাদন্ড ও তবারক আলী, সবুজ আলী ও ফয়জুল মিয়াকে ৩০৭/৩৪ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে প্রত্যেককে ৭ বছর করে কারাদন্ড ১৫ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরো ৩ মাসের কারাদন্ড প্রদান করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে এপিপি এডভোকেট খোকন কুমার দত্ত ও বাদিপক্ষে এডভোকেট এ.কে.এম শমিউল আলম এবং আসামীপক্ষে এডভোকেট গফুর মিয়া মামলাটি পরিচালনা করেন। সূত্র সিলেটের সকাল


