ওসি বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ডিআইজির বরাবর সাংবাদিকদের আবেদন
প্রকাশিত হয়েছে : ১৬ আগস্ট ২০১৫ ইং, ৭:২২ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ১৬০২ বার পঠিত
বালাগঞ্জ প্রতিনিধি:: বালাগঞ্জ থানার সাবেক ওসির বিরুদ্ধে দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ করায় বালাগঞ্জ-ওসমানীনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি দৈনিক যুগান্তরের বালাগঞ্জ উপজেলা ও ডেইলি বিশ্বনাথ ডটকম এর বিশ্বনাথ প্রতিনিধি শামীম আহমদকে রাজধানীর চক বাজার থানার তিনটি নাশকতার মামলায় জড়িয়ে হয়রানী করা হচ্ছে। রবিবার বালাগঞ্জ-ওসমানীনগর উপজেলা কর্মরত সাংবাদিক নেতারা সিলেটের ডিআইজির বরাবর একটি লিখিত আবেদন দিয়েছেন।
আবেদনে সাংবাদিক নেতারা সাংবাদিক শামীম আহমদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়রানীমুলক মামলা গুলো তদন্ত সাপেক্ষে প্রত্যাহার এবং বালাগঞ্জ থানার সাবেক ওসি (বর্তমানে মোৗলভী বাজার সদর মডেল থানায় কর্মরত) আব্দুছ ছালেকের বিরুদ্ধে তদন্ত পুর্বক ব্যবস্থা গ্রহনের জোর দাবী জানান।
ডিআইজির দেয়া লিখিত আবেদন ও সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালে বালাগঞ্জ থানার বেপরোয়া ওসি ছালেকের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী মানুষদের অভিযোগের অন্ত ছিলনা। তাই ভুক্তভোগীদের সু-নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে বিভিন্ন ঘটনার ফিরিস্থি উল্লেখ করে পত্রিকা কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মোতাবেক সাংবাদিক শামীম আহমদ সংবাদ পরিবেশন করেন। ২০১৩ সালের ১০-১১ জুলাই ‘দৈনিক সিলেট সুরমা’ পত্রিকায় “বালাগঞ্জ থানায় চলছে প্রকাশ্য চাঁদাবাজি, অফিসার থেকে ঝাড়–দার ইচ্ছেমত আদায় করছেন টাকা” শিরোনামে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ধারাবাহিক প্রকাশিত হয়। একই বিষয়ে দৈনিক যুগান্তর সহ বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিক এবং ‘সাপ্তাহিক সিলেট প্রান্ত’ পত্রিকার জুলাই-আগষ্ট সংখ্যায় সংবাদ পরিবেশন করা হয়। পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর ওসি ফোনে সাংবাদিক শামীম আহমদকে জেল কাটানোর হুমকী দিয়ে বলেছিলেন, “দেশের বিভিন্ন থানায় তার নামে বিভিন্ন ধরনের মামলা দিয়ে তাকে জেল কাটাবেন”। ওসি সাংবাদিক শামীমকে আরও বলেছিলেন “তুই কত বড় সাংবাদিক হয়েছিস্, আমি তোকে দেখে নেব”। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৩ সালের ১২ জুলাই সাংবাদিক শামীম আহমদের বিরুদ্ধে তার থানার চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারীকে দিয়ে (ঝাড়–দার) ভিত্তিহীন একটি জিডি এন্টি করেন। পরবর্তীতে থানার ঝাড়–দারের এক আত্মীয়কে দিয়ে ৩০৭ ও ৩২৬ ধারাসহ মোট নয়টি ধারা অর্ন্তভূক্ত করে সম্পুর্ন সাজানো ঘটনা দিয়ে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেছিলেন। মামলায় সাংবাদিক শামীম আহমদকে প্রধান আসামী করে তার পরিবারের আরো ৫ সদস্যকে জড়ানো হয়েছিল। ঝাড়ুদার দিয়ে করানো জিডি (পরবর্তীতে পুর্নাঙ্গ মামলা হিসেবে অগ্রগতি) এবং ঝাড়ুদারের আত্মীয়কে দিয়ে করানো মামলা দুটোই সাংবাদিক শামীম আহমদের পক্ষে রায় হয়েছিল। হয়রানীমুলক মামলার স্বীকার সাংবাদিক শামীম আহমদ এখন চরম নিরাপত্তহীনতায় বাড়ী-ঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ওসি ছালেকের দায়িত্বকালীন সময়ে বালাগঞ্জে আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনতি হয়েছিল। ওসির লাগামহীন ঘুস-দুর্নীতি, চাদাবাজি, অনিয়ম ও সেচ্ছাচারিতায় সাধারন মানুষ ছিল অতিষ্ট। তখন বালাগঞ্জ পুলিশ প্রসাশনকে নিয়ে প্রকাশিত ধারাবাহিক প্রতিবেদন উঠে আসে ওসি আব্দুছ ছালেকের সাধারণ মানুষকে হয়রানী করার লোমহর্ষক কাহিনী। ঘুস বানিজ্যের অভিনব এবং নজির বিহীন সকল পন্থা। উম্মুক্ত হয়ে যায় ওসি ছালেকের ‘মুখোশ’। সিলেটে পোষ্টিং পাওয়ার জন্য বিভিন্ন জায়গায় তদবির বানিজ্যসহ নানা কাহিনী প্রকাশ পাওয়ায় পুলিশ প্রশাসনের ভিতকে নাড়িয়ে দেয়। এতে করে ওসি ছালেক সাংবাদিক শামীম আহমদেও বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে মরিয়া হয়ে উঠেন। সাংবাদিক শামীম আহমদের উপর উদ্দেশ্য প্রনোদিত ভাবে মামলা করায় ওসির শাস্তির দাবীতে উত্তাল হয়ে উঠেছিল পুরো বালাগঞ্জ। ওসি আব্দুছ ছালেক বালাগঞ্জ থানায় যোগদান করার পর থানাকে তিনি অনিয়মের “স্বর্গরাজ্য” হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন। থানার অন্যান্য সকল পুলিশ অফিসারদের অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘোষ বানিজ্যে করতে সুযোগ করে দিয়েছিলেন। তখন পুলিশ বিভাগের এই গুনধর কর্মকর্তা তার ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, সাংবাদিক শামীম আহমদ এখন ওসি ছালেকের ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকারে পরিনত হয়েছেন। আর বার-বার মিথ্যা হয়রানীমুলক মামলা দায়ের করে পুলিশ প্রশাসনে এক অনন্য নজির স্থাপন করছেন এই ওসি।


