বালাগঞ্জ-ওসমানীনগরে লক্ষাধিক মানুষ পানি বন্দি
প্রকাশিত হয়েছে : ৩০ আগস্ট ২০১৫ ইং, ৩:১৬ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ৯১১ বার পঠিত

শামীম আহমদ ও শিপন আহমদ:: সিলেটের ওসমানীনগর-বালাগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর ডাইক ভেঙে ও টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে দুই উপজেলার শত শত পরিবারের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। ইতিমধ্যে তলিয়ে গেছে দুই উপজেলায় আবাদকৃত ১১ হাজার হেক্টর রোপা আমনের অধিকাংশ। কুশিয়ারা ডাইকের বালাগঞ্জ ও বেতরিমুখ ¯¬ুইস গেইট দিয়ে বিপদসীমার ওপর দিয়ে পানি এলাকায় প্রবেশ করছে। তাছাড়া বালাগঞ্জের পূর্বপৈলনপুর ইউনিয়নের ফাজিলপুর ও ওসমানীনগরের সাদীপুর ইউনিয়নের লামাতাজপুরে কুশিয়ারা ডাইক ভেঙে পানি প্রবেশ করেছে। ইতিমধ্যে পানিতে ভেসে গেছে পুকুরের মাছ। সংকট দেখা দিয়েছে গবাদি পশুর খাদ্য।
গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে পানি বৃদ্ধিতে সিলেটের বালাগঞ্জ ও ওসমানীনগর দুই উপজেলায় বন্যায় নিম্নাঞ্চল প¬াবিত হয়েছে। ইতিম্যে নিন্মঞ্চলের গ্রামের বাসিন্দারা পানির কারনে কেউ গৃহহারা হয়ে পড়েছে। নিজ ঘরেই পানিবন্দি হয়ে লক্ষাধিক মানুষজন মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। গো-খাদ্যের সংকটে গবাদিপশু নিয়ে তারা পড়েছে মহাবিপাকে। কচুরিপানাই এখন একমাত্র সম্বল। হালচাষের গরু বাঁচাতে না পারলে শুষ্ক মৌসুমে অনিশ্চিত হয়ে পড়বে জমিচাষ। এছাড়া জলবদ্ধতার স্বীকার হয়ে পড়ছে দুই উপজেলার অধিকাংশ গ্রাম। জলাবদ্ধতার স্বীকার হয়ে কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডেও বন্যা পূর্বাভাস ও সতকীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী কুশিয়ারা নদীর পানি গত শনিবার বিকাল ৩টায় বিপদ সীমার ১.৬৭ এর উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে বালাগঞ্জ-ওসমানীনগর উপজেলা রয়েছে মারাতœক বন্যা ঝুঁকিতে।
সরজমিনে দেখা গেছে, গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে কুশিয়ারাসহ বিভিন্ন খাল-বিল নদীর পানি দিগুন হারে বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কুশিয়ারা ডাইকের একাধিক স্থানে স্থানে ভেঙে বাঁধের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে দুই উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রামে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন যে ভাবে পানি ঢুকছে এভাবে আরও এক দুই দিন বাঁধের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হলে গোটা উপজেলা বন্যা আক্রান্ত হয়ে উঠবে। জলাবদ্ধতার কারনে বালাগঞ্জ ওসমানীনগর উপজেলার অধিকাংশ রাস্তা-ঘাট এখন মরন ফাঁদে পরিণত হয়েছে। লোকজন পানি ডিঙিয়ে দূর্ভোগের মধ্যে চলাফেরা করে যাচ্ছে। হাওর গুলিতে বন্যার পানিতে থৈ থৈ করছে। রুনিয়ার হাওর, লেংগুরার হাওর, ছনিয়ার হাওর, পেকুয়া, বড় মাইজাইল, গোরা পুরে হাওর, বানাইয়া হাওর, মুক্তার পুরের হাওর, ছোট ছাতল, বড় চাতল, কালাসা, সহ ছোট বিল ডোবা গুলোতে এখনো পানি বিপদসীমার উপরে রয়েছে। প্লাবিত গ্রামগুলো হচ্ছে, ওসমানীনগরের দক্ষিন তাজপুর, লামা তাজপুর, পূর্ব তাজপুর, ইসলামপুর, আব্দুল¬াপুর,সম্মানপুর, তাহিরপুর, বালাগঞ্জের জালালপুর, কৃত জালালপুর, সাদেকপুর, ভঙ্গপুর, জালালপুর বাজারসহ নিম্ন অঞ্চলের গ্রামগুলো।
পাউবি সূত্রে জানা যায়, বিগত ২০০৯-১০ এবং ২০১০-১১ অর্থবছরে কুশিয়ারা নদী সংশি¬ষ্ট গ্রাম গুলো বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য ওসমানীনগরের দক্ষিণ কালনীচর থেকে বালাগঞ্জের পূর্ব গৌরীপুর পর্যন্ত প্রায় ৩৪ কি.মি. এলাকায় নির্মিত হয় কুশিয়ারা ডাইক। পরবর্তী সময়ে ওসমানীনগর এলাকার ডাইকে একাধিক স্থানে ভাঙ্গন এবং একাধিক স্থান ওয়াটার লেভেলের নিচে থাকলেও তা সংস্কার করা হয়নি দীর্ঘ দিন।
বালাগঞ্জে পূর্বপৈলনপুর ইউপি চেয়ারম্যান সান উল্যা জানান, গত ক’দিনে উজান থেকে নেমে আসা কুশিয়ারা নদীর পানিতে তলিয়ে গেছে ইউনিয়নের বেশির ভাগ গ্রাম। গ্রামের অধিকাংশ বাড়িঘর প্লাবিত হয়েছে।
বালাগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা আলী আছগর জানান, উপজেলার হামছাপুর এলাকায় কুশিয়ারা ডাইকের প্রায় দুই ফুট ওপর দিয়ে গ্রামের ভেতরে পানি প্রবেশ করছে। এলাকার হাজার হাজার বাড়িঘরের মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছেন।
বালাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুর রহমান বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে প্রতি দিনই আমরা বন্যায় আক্রান্ত এলাকার গুলোর খোজ খবর রাখছি।
ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শওকত আলী বলেন,সাদীপুর ইউনিয়নের গ্রামগুলো সহ ভাঙ্গনকৃত কুশিয়ারা ডাইক এলাকা পরিদর্শন করেছি। পানি বন্দি মানুষ ও কুশিয়ারা ডাইকের ভাঙ্গনকৃত এলাকার ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ উধ্ধর্তন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।


