বিশ্বনাথে এক কিলোমিটার রাস্তা পাকা না হওয়ায় তিন উপজেলাবাসির দুভোর্গ
প্রকাশিত হয়েছে : ১৮ আগস্ট ২০১৫ ইং, ৭:৪৩ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ১৩৭৫ বার পঠিত
তজম্মুল আলী রাজু ::১৯৫৩ সালে বিশ্বনাথ-পুরকায়েস্থবাজার-কুরুয়াবাজার রাস্তার মাটি কাটা কাজের উদ্বোধন করেন মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক এম.এ.জি ওসমানীর পিতা মরহুম মফিজ আলী। সেই সময় থেকে রাস্তা পাকা করণের দাবি জানিয়ে আসছেন এলাকাবাসি। ১৯৯৬ সালে সিলেট ২ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন শাহ আজিজুর রহমান। ওই সাংসদ প্রায় দেড় কিলোমিটার রাস্তা পাকা করণ করে। ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এম. ইলিয়াস আলী। তাঁর সময়েও প্রায় দেড় কিলোমিটার রাস্তা পাকা করণ হয়। ২০০৮ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন শফিকুর রহমান চৌধুরী। তাঁর সময়ে প্রায় দেড় কিলোমিটার রাস্তা পাকা করেন। এরপরও গুরুত্বপূর্ন ওই রাস্তার মধ্যখানে প্রায় ১ কিলোমিটার রাস্তা কাঁচা রয়েছে আজোও। ফলে বিশ্বনাথ-বালাগঞ্চ-ওসমানীনগর উপজেলার হাজার হাজার মানুষ চলাচলে মারাত্বকভাবে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। রাস্তাটির উভয় দিকে পাকা করা হলেও মধ্যখানে মাত্র ১ কিলোমিটার রাস্তা পাকা না হওয়ায় ৩ উপজেলাবাসি সীমাহিন কস্টে রয়েছেন। রাস্তার পাশে একটি মহিলা কলেজ, দুটি হাই স্কুল, তিনটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ছয়টি মসজিদ, একটি মন্দির রয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা সময়মত গাড়ি না পাওয়ায় বিড়ম্বনায় পড়েন। নির্দিস্ট সময়ে ক্লাসে যেতে পারে না। এতে শিক্ষা গ্রহনে ব্যঘাত ঘটে। এছাড়া অনেক সময় অজান্তে ট্রাক, মিনিবাস, লাইটেস গাড়ি নিয়ে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ১০ মাইল কুরুয়াবাজারে যেতে চাইলে মধ্যখানের এক কিলোমিটার কাঁচা রাস্তায় গিয়ে সমস্যায় পড়েন।
সৌদি আরব প্রবাসী, পশ্চিম শ্বাসরাম নিবাসী মো. শামীম আহমদ বলেন, দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি বিশ্বনাথ-পুরকায়েস্থবাজার-কুরুয়াবাজার রাস্তা পাকা করার। কিন্তু আজ পর্যন্ত রাস্তাটি পাকা হয়নি। যার কারণে খুব কষ্টে আছেন দক্ষিণ বিশ্বনাথসহ তিন উপজেলার হাজার হাজার মানুষ। তিনি জরুরী ভিত্তিতে রাস্তাটি পাকা করণ করে মানুষের দুর্ভোগ লাগব করার জন্য সরকারের প্রতি জোরদাবী জানান।
মামুন আহমদ বলেন, মাত্র এক কিলোমিটার রাস্তা পাকা করলে সমস্যা সমাধান হয়। কিন্তু সেই বিষয়টি গুরুত্ব না দেয়ায় সারা বছর কষ্ট করে মানুষ চলাচল করেন। তিনি মধ্যখানে এক কিলোমিটার রাস্তা পাকা করণ করার জন্য সংসদ সদস্য ইয়াহইয়া চৌধুরীর কাছে জোরদাবী জানিয়েছেন।
শিক্ষার্থী দিলোয়ার হোসেন বলেন, সময়মত গাড়ি পাওয়া যায় না। নির্দিষ্ট সময়ে ক্লাসে যাওয়া যায়নি ফলে আমাদের ক্ষতি হয়।
ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান লিলু বলেন, পুরনো একটি রাস্তা। এই রাস্তা সব রাস্তার আগে করা দরকার ছিল। মানুষ অনেক কষ্ট করে চলাচল করে। তিনি জরুরীভাবে অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করার জন্য সংসদ সদস্যের কাছে দাবি জানান।
অটোরিসকা চালক নূর ইসলাম বলেন, মধ্যখানে সামান্য রাস্তা পাকা না হওয়ায় বিশ্বনাথ-কুরুয়াবাজার সরাসরি যেতে পারেননি। মধ্যখানের রাস্তা পাকা হলে সরাসরি বিশ্বনাথ থেকে কুরুয়াবাজার যাওয়া যাবে। তিনি এ সমস্যা সমাধান করার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান।
বিশ্বনাথ সদর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. ছয়ফুল হক বলেন, অল্প জায়গা পাকা হলে সব সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে। ১কিলোমিটার রাস্তা পাকা হলে তিন উপজেলাবাসি ওই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে পারত। তিনি অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করার জন্য ইয়াহইয়া চৌধুরী প্রতি অনুরোধ জানান।
এ ব্যাপারে সিলেট ২ আসনের সংসদ সদস্য ইয়াহইয়া চৌধুরী এহিয়া বলেন, আমার জন্য রয়েছে। আমি অবশ্য অসমাপ্ত কাজ শেষ করব।


