‘জীবন দিব তবুও খাজাঞ্চীর এক ইঞ্চি মাটি অন্য ইউনিয়নে যেতে দিব না’
প্রকাশিত হয়েছে : ১৩ আগস্ট ২০১৫ ইং, ১:৩৭ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ১৩১৯ বার পঠিত
নিজস্ব সংবাদদাতা:: সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার খাজাঞ্জী ইউনিয়নের ‘কর্মকলাপতি’ গ্রামটি দক্ষিণ সুরমা উপজেলার কামাল বাজার ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের সাথে সংযুক্ত করার প্রতিবাদে গতকাল বুধবার রাতে এক কর্মকলাপতি গ্রামবাসীর উদ্যোগে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বক্তরা বলেন, প্রয়োজনে জীবন দিব তবুও বিশ্বনাথ উপজেলার খাজাঞ্চী ইউনিয়নের এক ইঞ্চি মাটি অন্য ইউনিয়নে যেতে দিব না।কর্মকলাপতি গ্রামের বিশিষ্ট মুরব্বী আব্দুর রউফ এর সভাপতিত্বে ও মুয়াজ্জিন আহমরে পরিচালনায় অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন গ্রামের প্রবীণ মুরব্বী ফজলুল করিম ফজল, সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল মুহিত আমির, গ্রামের মুরব্বী হাজী মোতাহির আলী, আব্দুল মালিক, আব্দুল খালিক, আব্দুস শহীদ সুন্দর, আব্দুল লতিফ, মকদ্দুছ আলী, আজর আলী, ময়না মিয়া, সোয়েবুর রহমান, আব্দুন নুর, মানিক মিয়া, আব্দুল মনাফ, শওকত আলী, আব্দুল জলিল, দিলওয়ার হোসেন, লালা মিয়া, ছাদিক মিয়া, শানুর আলী, ছালিক আহমদ, রমিজ উল্লাহ, আব্দুল মালেক, মাহমদ আলী, সফিক আলী, বারি মিয়া, গিয়াস উদ্দিন, ভলাই মিয়া, ভেড়াই মিয়া, আহমদ আলী, আখল মিয়া, আব্দুল খালিক, তেরা মিয়া, আব্দুল আহাদ প্রমূখ।
সভায় বক্তারা বলেন কর্মকলাপতি গ্রামটি বিশ্বনাথ উপজেলার খাজাঞ্জী ইউনিয়নের একটি ঐতিহ্যবাহী গ্রাম। এই গ্রামের নামে একটি মৌজা রয়েছে এবং ভৌগলিক অবস্থান ৯ নং ওর্য়াডের মধ্যখানে। যাতায়াতের ক্ষেত্রে দক্ষিণ সুরমা উপজেলা পরিষদে যেতে হলে সিলেট সিটি করপোরেশন এর মধ্যে দিয়া প্রায় ২৫/৩০ কিঃমিঃ দুরবর্তী অবস্থান। অন্যদিকে বিশ্বনাথ উপজেলা সদরে যেতে কর্মকলাপতি গ্রামের সাথে এল.জি.ই.ডি’র ২ টি সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা বিদ্যমান রয়েছে। যার দুরত্ব মাত্র ৬/৭ কিঃ মিঃ এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৪/৫ কিঃ মিঃ দুরত্বে। স্কুল, কলেজ, লিডিং ইউনির্ভাসিটি ও মাদ্রাসাসহ কর্মকলাপতি গ্রামের সমুহ সুযোগ সুবিদা বিশ্বনাথ উপজেলার খাজাঞ্জী ইউনিয়নের ৯নং ওর্য়াডের সাথে বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও জনসাধারনের অজান্তে সংঙ্গোপনে চতুরতার মাধ্যমে কর্মকলাপতি গ্রামকে দক্ষিণ সুরমা উপজেলার কামাল বাজার ইউনিয়নের ৫নং ওর্য়াডের সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে। যা সর্ম্পূণরূপে জনস্বার্থ বিরোধী। গ্রামের ঐতিহ্য এবং সুনাম ধ্বংস করার হীন উদ্দ্যেশে একটি কুচক্ররী মহলের ইন্ধনে এটি করা হয়েছে।
জনস্বার্থবিরোধী গেজেটের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অভিলম্বে ঐতিহ্যবাহী কর্মকলাপতি গ্রামটি প্রকাশিত গেজেট থেকে প্রত্যাহার করে কর্মকলাপাতি গ্রাম ও মৌজার ঐতিহ্য রক্ষায় এগিয়ে আসার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি জোর দাবী জানান গ্রামবাসী। অন্যতায় বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে বলেও হুশিয়ারী উচ্চারন করেন বক্তারা। এই দাবী বাস্থবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন কর্মসুচি ঘোষনা করে প্রতিবাদ সভার সমাপ্তি করা হয়।


