মহাসড়ক শূন্য অটোরিকশা চরম দূর্ভোগে যাত্রীরা
প্রকাশিত হয়েছে : ০১ আগস্ট ২০১৫ ইং, ৮:৩৮ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ১২৮৯ বার পঠিত
শিপন আহমদ,ওসমানীনগর:: মহাসড়কে অটোরিক্শা নিষিদ্ধ হওয়ার প্রথম দিনে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় অংশে মহাসড়কসহ সংযোগ রাস্তাগুলোতে সিএনজি চালিত অটোরিকশা শূন্য হয়ে পড়েছে। ফলে যাত্রী সাধারণের চরম দূভোগ পোহাতে হচ্ছে। শনিবার সকালে বেশ কিছু সিএনজি মহাসড়কে অবস্থান নিলেও পুলিশি বাঁধায় চলাচল করতে পারেনি। তবে ওসমানীনগর উপজেলা অংশ ছাড়া পাশ্ববর্তী অন্যান্য উপজেলার অংশে অটোরিকশা চলতে দেখা গেছে। এ উপজেলাটি মহাসড়ক বেষ্টিত হওয়ায় মহাসড়কে ছোট যানবাহন চলাচলে নিষেধজ্ঞা থাকায় চলাচলে সাধারণ মানুষ দূর্ভোগের স্বীকার হচ্ছেন। রিকশাসহ অন্যান্য ছোট যানবাহনগুলোও শনিবার পুলিশি বাঁধায় মহাসড়কে উঠতে পারেনি। কোন প্রকার যানবাহন না পেয়ে যাত্রীরা পায়ে হেঁটে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে দেখা গেছে। অন্য দিকে এ নিষেধজ্ঞাকে পূঁজি করে কিছু অসাধু চালক ছোট সড়কে অটোরিকশা চালালেও পূর্বে যেখানে ১০ টাকা ভাড়া ছিল সেখানে যাত্রীদের কাছ থেকে ৪০/৫০ হারে টাকা আদায় করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সাদীপুর এলাকার শাহ ইয়াহ্ইয়া বলেন, এ এলাকায় প্রয়োজনের তুলনায় লকাল বাসের সংখ্যা খুবই কম। তাই উপজেলার বাসিন্দাদের চলাচলে সিএনজির চালিত অটোরিকশাই একমাত্র ভরসা। শনিবার থেকে সিএনজি না থাকায় মানুষ প্রায় গৃহবন্দী হয়ে আছে।
খাদিমপুর এলাকার সফায়েত উল্ল্যা জানান, মহাসড়কের নিষেধজ্ঞাকে পূঁজি করে গ্রাম্য রাস্তাগুলোতে সিএনজি চালাচ্ছেন না চালকরা। ফলে শনিবার প্রায় ৭ কিলোমিটার জায়গা পায়ে হেঁটে গোয়ালাবাজারে আসতে হয়েছে।
নয়াবন্দর এলাকার আব্দুল করিম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকার মহাসড়কে সিএনজি চলাচল বন্ধ করায় এর শাস্তি আমরা সাধারণ যাত্রীরা ভোগ করছি। শনিবার গোয়ালা বাজার থেকে নয়াবন্দরে যেতে ৪০ টাকার স্থলে ১০০ টাকা করে ভাড়া গুনতে হয়েছে।
সিএনজি চালক জসিম,মকদ্দুস আলী জানান শনিবার সকালে সিএনজি নিয়ে গোয়ালাবাজার এলাকায় যাওয়ার র্প পুলিশি বাঁধার কারনে গাড়িটি বন্ধ করে চলে আসতে হয়েছে।
একাধিক চালকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের এলাকা মহাসড়ক সংলগ্ন এ ক্ষেত্রে আমরা গাড়ি নিয়ে বাড়ি থেকে বের হতে হলেও মহাসড়ক ছাড়া বিকল্প কোন রাস্তা নেই। অন্য দিকে অটোরিকশা গুলো সিএনজি চালিত হওয়ায় গ্যাসের জন্য মহাসড়ক হয়ে মৌলভীবাজার অথবা সিলেট জেলা শহরে যেতে হয়। শনিবার সকালে মহাসড়কে কর্মরত শেরপুর হাইওয়ে পুলিশকে চাঁদার পরিমান বাড়িয়ে দিয়ে একাধিক চালকরা গ্যাস নিয়ে আসলেও পরবর্তীতে ওসমানীনগর থানা পুলিশের বাঁধায় অটোরিকশা বন্ধ করে রাখতে হয়েছে।
সিএনজি চালিত অটোরিকশা মালিক গেদা মিয়াসহ অনেকেই জানান, এ উপজেলাটি মহাসড়ক বেষ্টিত হওয়ায় মহাসড়ক না হয়ে এক স্থানে থেকে অন্য স্থানে যাওয়ার বিকল্প নেই। সুতরং মহাসড়কে অটোরিকশা নিষিদ্ধ হলে এ উপজেলার প্রায় ৭/৮ হাজার সিএনজি চালিত অটোরিকশা বন্ধ করে রাখতে হবে। অন্যদিকে পরিবারের সদস্যদেও নিয়ে না খেয়ে মরতে হবে উপজেলার প্রায় ১০ হাজার চালকদের।
সিলেট জেলা অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন (৭০৭) এর কার্যকরী পরিষদের সহসভাপতি সুন্দও আলী খান বলেন ইতিমধ্যে আমরা নিষেধজ্ঞা প্রত্যাহার করার জন্য প্রধানমন্ত্রী বরাবরে লিখিত স্বারক লিপি প্রদান করেছি। বিষয়টি নিয়ে সংঘবদ্ধ ভাবে আজ (শনিবার) মিটিংয়ে বসেছি। মিটিংয়ে আলোচনার মাধ্যমে আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নিব।
ওসমানীনগর উপজেলা অটোরিকশা শ্রমিক নেতা আনোয়ার উদ্দিন জানান, সিলেটের অনান্য উপজেলায় কিছু কিছু অটোরিকশা শনিবার চলাচল করতে পারলেও ওসমানীনগর উপজেলায় শুধু মাত্র পুলিশি বাঁধার কারনে চালকরা সকালে গাড়ি বের করলে পরবর্তীতে অটোরিকশা বন্ধ করে বাড়ি ফিরে যেতে হয়েছে। বিষয়ে আমরা আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছি।
এ ব্যাপারে শেরপুর হাইওয়ে থানার ওসি নুরুন্নবী বলেন, উর্ধ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী দেশের অনান্য স্থানের মতো মহাসড়কের এ অংশে শনিবার থেকে অটো রিকশা চলাচলে নিষেধজ্ঞা জারি করেছি। গ্যাসের জন্য জেলা শহরে যেতে হলেও মহাসড়ক দিয়ে যাওয়া ছাড়া এ এলাকার সিএনজি চালিত অটোরিকশার বিকল্প কোন ব্যবস্থা না থাকার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা সরকারের নিদের্শ পালন করছি। এ ব্যাপারে এখন কিছু বলতে পারব না।


