রামসুন্দর উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৯৯৪ সালের প্রাক্তন ছাত্রদের ঈদ পুনর্মিলনী
প্রকাশিত হয়েছে : ১১ আগস্ট ২০১৫ ইং, ১২:২৮ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ১৭৯৬ বার পঠিত
সিলেট জেলার বিশ্বনাথ উপজেলার শত বৎসরের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ রাম সুন্দর উচ্চ বিদ্যালয়ের যুক্তরাজ্যে বসবাসরত ১৯৯৪ সালের প্রাক্তন ছাত্রদের উদ্যোগে গত ৯ই আগস্ট বার্মিংহামে এক ঈদ পুনর্মিলনী এবং স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠান অনুষ্টিত হয়।
প্রাক্তন ছাত্র এমদাদুর রহমানের কোরআন তেলাওয়াত মাধ্যমে শুরু অনুষ্টানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রাক্তন ছাত্র মোস্তাফিজুর রহমান সেলিম, মুহা: আব্দুল হামিদ টিপু, মকলুছ আলী।
বক্তারা বলেন, মানুষ গড়ার কারখানা ঐতিহ্যবাহী রাম সুন্দর উচ্চ বিদ্যালয় শত বছর ধরে অনেক জ্ঞানী গুনী ব্যক্তির জন্ম দিয়ে আসছে। সুনামধন্য এই বিদ্যাপীঠের ছাত্র হতে পেরে আমরা নিজেদেরকে ধন্য মনে করি। এই বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ যেমন ছিলেন শিক্ষক তেমনি ছিলেন অভিভাবক। তাঁরা ছাত্রদের কে পাঠ দানের পাশাপাশি ভালো মানের মানুষ হওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন। তার স্বাক্ষর হিসাবে অনেক মন্ত্রী, এম.পি, সচিব,সেনা কর্মকর্তা,বিজ্ঞানী, ল’য়ার, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, সাংবাদিক সহ বিভিন্ন পেশার মানুষ তৈরী করেছেন। বিশ্বের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা গুনি জ্ঞানীরাই তার স্বাক্ষর। রাম সুন্দর উচ্চ বিদ্যালয় শুধু বাংলাদেশে নয়, এর সুনাম বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তরে ছড়িয়ে আছে।
বক্তারা আরো বলেন, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা আর অতীতের শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে বিস্তর ফারাক। আগে যেমন ছিল শিক্ষার মান, তেমনি ছিল শিক্ষকদের প্রতি পরম শ্রদ্দ্বা আর ভালবাসা। আজকাল তা পাওয়া যায় না। অনুষ্টানের এক পর্যায়ে স্কুলের শ্রদ্ধাভাজন এবং জনপ্রিয় সাবেক শিক্ষক শামসুজ্জামান জামান ( জামাল স্যার ) স্যারের আকস্মিক উপস্থিতি সকলের মাঝে এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি করে।
জামালা স্যার তাঁর বক্তব্য বলেন, শিক্ষক হিসাবে তখনই স্বার্তকতা আসে ,যখন দেখেন তাঁর ছাত্ররা যোগ্যতাবলে স্ব স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্টিত হয় । ছাত্ররা তাদের অতীত না ভুলে আজ ২১ বছর পর সহপাঠীদের মায়ার টানে একে অপরকে আলিঙ্গন করার জন্য সমবেত হতে পেরেছে, এটা দেখে তিনি মুগ্ধ। আজকাল এটা সত্যিই বিরল। এই অনুষ্টানের পিছনে যাদের অবদান তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানান, পাশাপাশি বাংলাদেশের কাঁদা চূড়াছুড়ি রাজনীতি যেন সহপাটিকে আলাদা না করতে পারে তার জন্য সবাই কে বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে বিরত থাকার জন্য আহ্বান জানান।
তিনি আরো বলেন, আমি আরো খুশি হবো তখনই, যখন দেখবো রাম সুন্দরের ছাত্ররা একদিন ব্রিটিশ রাজনীতিতে অবদান রেখে এই দেশের কাউন্সিল থেকে পার্লামেন্ট পর্যন্ত তাদের যুগ্যতার স্বাক্ষর রাখবে।
অনুষ্টানের দ্বিতীয় পর্বে সহপাটিদের মধ্যে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অনেকের কাছ থেকে আবেগময় স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য বেড়িয়ে আসে। বক্তারা বলেন, ১৯৮৯ সাল থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত আমরা একটা পরিবারের মধ্যে বড় হয়েছি। জীবনের সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আমরা যেমন পেয়েছিলাম একটি ঐতিহ্য়বাহী বিদ্যাপীঠ,তেমনি পেয়েছিলাম অভিজ্ঞ শিক্ষকবৃন্দ। যাদের স্নেহ, ভালবাসা আর শিক্ষাদান আমাদের জন্য পাথেয়। বক্তারা সকল প্রয়াত শিক্ষকবৃন্দের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং যারা বেঁচে আছেন তাদের সুসাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন এবং শিক্ষকদের সুখে দুখে পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, গত মার্চ মাসে প্রাক্তন এক ছাত্রের উদ্যোগে ওয়ারস আপে ”স্মৃতির ক্যানভাসে এসএসসি ৯৪” নামে গ্রূপ মাধ্যমে প্রাক্তন ছাত্রদের একত্রিত করার লক্ষ্যে এই সংগঠনের যাত্রা শুরু । এতে দেশে বিদেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্রায় শতাধিক ছাত্র এই গ্রুপ এ যুক্ত হন। এই ব্যাচের মাধ্যমে সম্প্রতি বিশ্বনাথে ইফতার মাহফিল এবং ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্টিত হয়। এদিকে, ভবিষ্যতে রামসুন্দর তথা বিশ্বনাথে আর্ত মানবতা, শিক্ষা এবং সামাজিক উন্নয়নে ১৯৯৪ সালের প্রাক্তন ছাত্রদের উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের অভিপ্রায় ব্যক্ত করা হয়।
এসময় বক্তব্য অংশগ্রহন করেন, সাবেক ছাত্র শাহ সুহেল আমিন, সালেক মিয়া , দেলোয়ার হোসেন, আব্দুল কুদ্দুস মাসুদ, খলিলুর রহমান, আনোয়ার হোসেন ,কামরুল ইসলাম, শেখ ছালেকুর রহমান, আমিনুর রহমান শিশু, মুহিবুর রহমান, আব্দুল মোমিন,নজরুল ইসলাম,বাবুল মিয়া, আব্দুস সবুর, আশিকুর রহমান, জাহাঙ্গীর হোসেন, মিজানুর রহমান খান,আমিনুল হক , আব্দুস সামাদ, আবুল হোসেন, হেলাল মিয়া, আব্দুন নুর, হাফিজুর রহমান, হাফিজুর রহমান পাপলু সহ প্রমুখ । প্রীতি ভোজের মাধমে শেষ হওয়া অনুষ্টানে একে অন্যের সাথে কুশল বিনিময়ের পাশাপাশি ছবি আর সেলফি তুলার মাধ্যমে অনুষ্ঠানকে আরো আকর্ষনীয় এবং আবেগময় করে তুলেন এবং ভবিষতে আবার ও মিলিত হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বিজ্ঞপ্তি


