শাহ্জালাল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাইকিং করে বিকালে পরীক্ষা
প্রকাশিত হয়েছে : ০৩ আগস্ট ২০১৫ ইং, ৫:২৫ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ১৪২৮ বার পঠিত
শিপন আহমদ,ওসমানীনগর:: সিলেটের ওসমানীনগরে শাহজালার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা অবশেষে গতকাল রোববার বিকালে ৪টায় বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে রুটিন প্রদান ছাড়া আড়াই শতাধিক শিক্ষার্থীও মধ্যে ১৫/২০ জন শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে পরীক্ষা সম্পূন্ন করেছেন। গত এক সপ্তাহ বন্ধ রাখার পর গতকাল রোববার সিলেটের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক যোগে শুরু হওয়া ২য় সাময়িক পরিক্ষার দিনেও ঐ বিদ্যালয়টি বন্ধ ছিল। এমনকি উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে পাওয়া পরীক্ষার রুটিন শিক্ষার্থীদের প্রদান করার প্রয়োজন মনে করেনি শিক্ষকরা। পরবর্তীতে উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিকরা গতকাল রোববার দুপুরে ঐ বিদ্যালয় পরিদর্শনে গেলে টনক নড়ে উঠে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ শিক্ষকদের। বিকাল সাড়ে তিনটায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জয়া রানী ও সহকারী শিক্ষক প্রবিত্র কুমার বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে গ্রামের মসজিদের মাইকে ঘোষনা দিয়ে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে উপস্থিত হওয়ার আহব্বান জানান। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে বিদ্যালয়ের আড়াই শতাধিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১৫/২০ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত হলে শুরু হয় পরীক্ষা।
শিক্ষার্থী জাহিদ মিয়া, সুজেল মিয়া জানায়, সকালে আমরা বিদ্যালয়ে গিয়ে বিদ্যালয় বন্ধ পাই। বিকালে মসজিদের মাইকে শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে যাওয়ার জন্য আহ্বান জানান। আমরা ৪/৫ জন বিদ্যালয়ে গেলে স্যার আমাদের ইংরেজী বিষয়ের প্রশ্ন দিয়ে বলেন লেখ।
প্রঞ্চম শ্রেনীর শিক্ষার্থী শাকিব মিয়া,জিবা বেগম জানায়,আমরা ২য় সাময়িক কোনো রুটিন পাইনি। রোববার বিদ্যালয় বন্ধ ছিল পরবর্তীতে জানতে পারি মাগরিবের কিছুক্ষন আগে আমাদের কিছু সহপাটিরা বিদ্যালয়ে গিয়ে পরীক্ষা দিয়েছে। কিন্তু আমরা অধিকাংশ শিক্ষার্থীরাই পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করতে পারি নাই।
অভিভাবকরা জানান, শিক্ষকরা যদি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্ত করতেন তাহলে রোববারের পরীক্ষাটি অন্য কোনো দিন ধার্য্য করে সকল শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে পরীক্ষা সম্পূর্ণ করতে পারতেন। নিয়ম নিতীর তোয়াক্কা না করে বিদ্যালয় বন্ধ রেখে সাংবাদিকরা চলে যাওয়ার পর কৌশল অবলম্ভন করে বিকালে শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে এসে সন্ধার কিছুক্ষন আগে ১৫/২০ জন শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নিয়ে এটা আরও চরম অমানবিক কাজ করেছেন।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি গনি মিয়া মাইকিং করে কিছু শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেয়ার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কিছু শিক্ষার্থী ইংরেজী বিষয়ের পরীক্ষা রোববার বিকালের নিয়েছেন শিক্ষকরা। পরবর্তীতে এমন ভুল না করার জন্য আমরা শিক্ষকদের সতর্ক করে দিয়েছি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুজ্জামান বলেন, বিদ্যালয় বন্ধ ও শিক্ষর্থীদের রুটিন বিতরণ না করাসহ সার্বিক দিক নিয়েই ঐ বিদ্যালয়ের কর্মরত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শ্রীঘ্রই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।


