শ্রীরামসি আঞ্চলিক গণহত্যা দিবস সোমবার
প্রকাশিত হয়েছে : ২৯ আগস্ট ২০১৫ ইং, ৯:৫৭ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ৭৮২ বার পঠিত
ওয়াহিদুর রহমান ওয়াহিদ,জগন্নাথপুর:: আগামীকাল ৩১ আগস্ট সোমবার সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার শ্রীরামসি আঞ্চলিক গণহত্যা দিবস। দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনের লক্ষ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।
জানাগেছে, ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীনের জন্য পাক হানাদার বাহিনীর সাথে সারা দেশে মুক্তিযোদ্ধারা তুমূল যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছিছিলেন। দেশে স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে স্থানীয় রাজাকারদের প্ররোচনায় প্রথমে নৌকাযোগে সিলেট থেকে পাক হানাদার বাহিনী জগন্নাথপুরে আসে। পাক বাহিনী জগন্নাথপুর এসেই জগন্নাথপুর থানা ভবনসহ সব কিছু দখল করে নেয়। জগন্নাথপুর থানা ভবন ও থানার পার্শ্ববর্তী ব্যারিষ্টার মির্জা আব্দুল মতিনের বাড়িতে পাক বাহিনীর ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। এ সময় পাক বাহিনী স্থানীয় রাজাকাদের দিয়ে কমিটি করে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সাব অফিস বানিয়ে দেয়। এসব অফিস নিয়ন্ত্রন করা হতো ক্যাম্প থেকে। রাজাকাররা এসব অফিস থেকে সব সময় মুক্তিযোদ্ধাদের খবর পাক বাহিনীর কাছে আদান প্রদান করতো। এসব রাজারদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে নির্মম হত্যাযঞ্জ চালাতো পাক বাহিনী ।
এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালের ৩১ আগস্ট স্থানীয় রাজাকারদের প্ররোচনায় জগন্নাথপুর ক্যাম্প থেকে নৌকাযোগে পাক হানাদার বাহিনী উপজেলার মিরপুর ইউনিয়নের শ্রীরামসি বাজারে যায়। সেখানে গিয়ে শান্তি কমিটির আহবানে এলাকার সর্বস্তরের নিরীহ লোকদের রাজাকারদের মাধ্যমে ডেকে এনে বাজারে জড়ো করে। এক পর্যায়ে এসব সমবেত নিরীহ লোকদের বাজারের পার্শ্ববর্তী ২ টি বাড়িতে নিয়ে যায় পাক বাহিনী। সেখানে নিয়ে সবাইকে পিচমোড়া দিয়ে হাত বেধে লাইন ধরিয়ে পৃথকভাবে প্রায় শতাধিক নিরীহ লোকজনের উপর নির্বিচারে গুলি করে নির্মম হত্যাযঞ্জ চালায় মানুষরুপী পাষণ্ড নরপশুরা। হত্যার পর তাদের লাশ বাড়ির পুকুরে ফেলে এসে শ্রীরামসি বাজার পুড়িয়ে দেয় পাক বাহিনী। এ সময় গুলিবিদ্ধ কয়েক জন মরে যাওয়ার ছল করে বেঁচে গিয়েছিলেন। এ নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর পুরো উপজেলায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। লোকজন নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে বিভিন্ন স্থানে চলে যান। প্রায় মানব শূন্য হয়ে পড়ে জগন্নাথপুর।
দেশ স্বাধীনের পর এসব শহীদদের গণকবরে পৃথকভাবে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়। সেই সাথে এসব শহীদদের স্বরণে প্রতি বছরের এই দিনে শ্রীরামসি আঞ্চলিক গণহত্যা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। শ্রীরামসি শহীদ স্মৃতি সংসদ নামের একটি সামাজিক সংগঠন রয়েছে। এ সংগঠনের উদ্যোগে প্রতি বছর এ দিবসটি পালিত হয়ে থাকে।
শ্রীরামসি শহীদ স্মৃতি সংসদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন জানান, ১৯৮৭ সাল থেকে শ্রীরামসি আঞ্চলিক গণহত্যা দিবস পালন হয়ে আসছে। প্রতি বছরের মতো এবারো দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। প্রথমে শহীদদের স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধঞ্জলি অর্পন, শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল, শহীদদের স্বরণে স্বরণসভা, মেধাবৃত্তি পরীক্ষার পুরস্কার বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে।


