বিশ্বনাথে দুই ইউনিয়নবাসির সাঁকোই ভরসা
প্রকাশিত হয়েছে : ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ইং, ৫:৩৪ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ১১৯৩ বার পঠিত
তজম্মুল আলী রাজু ::বিশ্বনাথ উপজেলার অন্যতম একটি প্রধান নদী মাকুন্দা। এককালে খড়¯্রােতা নদী। এখন এটি প্রায় মৃত। উপজেলার রামপাশা ও খাজাঞ্চী ইউনিয়নের সংযোগস্থল আশুগঞ্জবাজার এলাকায় প্রায় ১৫০ ফুট প্রস্থের নদীর উপর একটি সেতু নির্মানের দাবি এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের।
সেতু নির্মান না হওয়ার ফলে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ এলাকার নয়টি গ্রামের প্রায় ছয় হাজার মানুষকে প্রতিনিয়ত নিজেদের প্রয়োজনে ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো দিয়েই পারাপার করতে হয়। এতে প্রতিনিয়তই ঘটে অনেক দুর্ঘটনা। ফলে বাড়ছে জনদুর্ভোগ। আর সব চেয়ে বেশি দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে শিক্ষার্থীরাই।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দুই ইউনিয়নের সংযোগ স্থাপনকারী সাঁকোর স্থলে একটি সেতু নির্মিত হলে এলাকাবাসীর দুর্ভোগ কমার পাশাপাশি বাড়ত শিক্ষিতের হার। কিন্তু সংশ্লিস্ট কর্তৃপক্ষ ও এলাকার জনপ্রতিনিধিরা এব্যাপারে কার্যকরী কোন পদক্ষেপ গ্রহন করছেন না। রোগীদের নিয়ে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসিকে। তাছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো পারাপারের ক্ষেত্রে অনেক সময় অনেক শিক্ষার্থীর হাত থেকে বই-খাতা নদীর পানিতে ছিটকে পড়ে হচ্ছে নষ্ঠ।
এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, প্রতি বছর সাঁকোটি নির্মান করতে প্রায় ৩০ হাজার টাকা ব্যয় হয়। আর তা এলাকাবাসি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রদান করা চাঁদা থেকে নির্মান করা হয়। সরকারি কোন সহযোগীতা না থাকায় এলাকার গরীব জনসাধারণের জন্য তা কষ্ঠকর বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। আর্থিক সংকঠের কারণে তাই সাঁকো নির্মান করা হয় শুধু মাত্র সরু বাঁশ দিয়ে। তাতে বাঁশের ছাটাই দেওয়া সম্ভব হয় না। ছাটাই না থাকলে ঝুঁকি আরোও বেড়ে যায়।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিলপার, বাবুনগর, মাওনপুর, তেঘরী, কান্দিগাঁও, জয়নগর, নোয়াপাড়া, ভাটপাড়া, তেলিকোনা (একাংশ) গ্রামের জনসাধারণকে খাজাঞ্চী নদীতে থাকা সাঁকো পার হয়ে আসতে হয় আশুগঞ্জ বাজারে, স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসাসহ নিজেদেও গত্যব্যস্থানে। প্রতি শনি ও মঙ্গলবার আশুগঞ্জ বাজারে হাট থাকে। তখন একদিনে প্রায় দুই হাজার মানুষকে সাঁকো দিয়ে চলাচল করতে হয়। এছাড়া ওই এলাকার প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থীকে প্রতিদিন বাধ্যতামূলকভাবে সাঁকো ব্যবহার করে আসতে হয় ‘আশুগঞ্জ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, দোহাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও হলিচাইল্ড কিন্টার গার্ডেনে’ শিক্ষার্জন করতে।
এলাকার রংমালা বিবি বলেন, নাতী-নাতনিরা একা একা সাঁকো পারাপারে ভয় পায় বলেই প্রতিদিন তাঁদের সঙ্গে পরিবারের বড় কাউকে আসতে হয়। আবার স্কুল ছুটির পর আবারও কাউকে এসে নিতে হয়। তা না হলে ওরা স্কুলেই যায় না।
দোহাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী গোবিন্দ মালাকার (৪র্থ), ছাবিয়া বেগম (৩য়), সীমান্তা সীমা (৪র্থ), রাজন দাশ (৫ম) বলেন, প্রতিদিন আমাদেরকে অন্যের সাহায্য নিয়ে সাঁকো পারাপারের হতে হয়। অনেক সময় আবার একা একাই। এক্ষেত্রে অনেকের (সহপাঠী) হাত থেকে বই-খাতা ছিটকে পানিতে পড়ে নষ্ঠ হয়ে যায়। অনেকে (শিক্ষার্থী) আবার সাঁকো থেকে পড়ে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকারও হয়।
আশুগঞ্জ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জুয়েল আহমদ (৯ম), রুহুল আমীন (৭ম), মমতা দাশ (৬ষ্ঠ) ও হলিচাইল্ড কিন্টার গার্ডেনের শিক্ষার্থী আবুল হোসেন (৭ম), ইয়াসমিন বেগম (৬ষ্ঠ) বলেন, আমাদের কথা (শিক্ষার্থী) চিন্তা করে হলেও এখানে একটি সেতু নির্মাণ করা অত্যন্ত জরুরী। সেতু নির্মান করা হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠাগুলোতে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা আরোও বৃদ্ধি পাবে। এলাকাবাসীর দুর্ভোগও কমে যাবে।
দুহাল গ্রামের সমাজসেবক, পীর সিরাজুল ইসলাম বলেন, একটি সেতুর অভাবে আমাদের এলাকার ওই গ্রামগুলোর মানুষদেরকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে কেউ অসুস্থ হলে তাঁকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যেতে আমাদের কঠিন পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে হয়।
রামচন্দ্রপুর গ্রামের সেবুল মিয়া বলেন, সাঁকোর পরিবর্তে এখানে সেতু নির্মাণ করা হলে দুইটি ইউনিয়নের মানুষের যোগাযোগ বৃদ্ধির পাশাপাশি এলাকাও উন্নত হবে। আর এলাকাবাসীকেও নিজেদের মৌলিক ও নাগরিক সুবিধা পেতে দুর্ভোগ পোহাতে হবে না।
রামাপাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার খান বলেন, এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবিটি পূরণের জন্য খাজাঞ্চী নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের জন্য সংশ্লিস্ট কর্তৃপক্ষের সাথে দীর্ঘদিন ধরে যোগাযোগ করে যাওয়া হচ্ছে। সকলের সার্বিক সহযোগীতায় আশা করি শীঘ্রই এলাকাবাসীর দাবি পূরনে প্রদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।
খাজাঞ্চী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নিজামসিদ্দিকী বলেন, উপজেলা ও জেলা সদরের সাথে যোগাযোগ করতে হলে বাধ্যতামূলক ভাবে ওই গ্রামগুলোর বাসিন্দাদেরকে ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো পার হতে হয়। শিক্ষার্থী ও রোগী পারাপারের ক্ষেত্রেও এলাকাবাসীকে পোহাতে হয় চরম দুর্ভোগ। এখানে একটি সেতু নির্মান অত্যন্ত জরুরী। আর তা যত দ্রুত সম্ভব হবে ততই লাভবান হবেন এলাকাবাসী।
উপজেলা স্থানীয় প্রকৌশলী খোন্দকার গোলাম শওকত বলেন, সেতু নির্মাণের প্রস্তাবটি মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। প্রস্তাবটি মন্ত্রণালয় থেকে পাশ হলে আমাদেরকে জানানো হবে। এরপর সেতু নির্মাণের কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে শুরু হবে।


