জগন্নাথপুরে দুই ডাকাতকে পুলিশে দিল জনতা
প্রকাশিত হয়েছে : ১৫ অক্টোবর ২০১৫ ইং, ৭:২৬ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ৪৯৩ বার পঠিত
ওয়াহিদুর রহমান ওয়াহিদ,জগন্নাথপুর:: জগন্নাথপুরে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দুই ডাকাতকে আটক করে থানা পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় জনতা। ঘটনাটি ঘটেছে জগন্নাথপুর উপজেলার পাটলি ইউনিয়নের রসুলপুর-লাউতলা গ্রামে। আটককৃত ডাকাতরা হচ্ছে, রসুলপুর-লাউতলা গ্রামের চান মিয়ার ছেলে হিরা মিয়া (৩০) ও উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের সুনুয়াখাই গ্রামের কদর আলীর ছেলে কয়রুল ইসলাম (৫৫)।
স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে,বুধবার রাত ১১ টার দিকে রসুলপুর-লাউতলা গ্রামের বাসিন্দা মুহিব মিয়ার বাড়িতে ১০/১২ জনের ডাকাতদল হানা দেয়। ডাকাতরা বাড়ির লোহার গ্রীল ভেঙে ঘরে প্রবেশ করতে চাইলে বাড়ির লোকজন গ্রীল ভাঙ্গার শব্দ পেয়ে জেগে যান। এ সময় বাড়িতে ডাকাত এসেছে বলে চিৎকার শুরু করেন। এক পর্যায়ে এলাকার মসজিদে মাইকিং করে ঘটনাটি এলাকাবাসীকে জানানো হলে গ্রামের লোকজন জড়ো হয়ে ডাকাতদের পাকড়াও করতে ধাওয়া করেন। এ সময় অন্যান্য ডাকাতরা পালিয়ে গেলেও তাদের মধ্যে দুই ডাকাত গ্রামের যুক্তরাজ্য প্রবাসি মিজানুর রহমানের বাড়িতে গিয়ে লুকিয়ে পড়ে। তখন উত্তেজিত জনতা ডাকাতদের চারদিকে ঘিরে রেখে থানা পুলিশে খবর দেন। খবর রাতেই জগন্নাথপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জনতার কবল থেকে দুই ডাকাত হিরা মিয়া ও কয়রুল ইসলামকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। বৃহস্পতিবার ধৃত ডাকাতদের সুনামগঞ্জ জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
গৃহকর্তা মুহিব মিয়া জানান, অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ১০/১২ জনের ডাকাতদল আমার বাড়িতে এসে লোহার গ্রীল ভেঙে ঘরে ঢুকতে চাইলে আমাদের আর্তচিৎকারে ও মসজিদে মাইকিং হলে গ্রামের লোকজন এসে আমাদেরকে রক্ষা করেন এবং ডাকাতদের মধ্যে দুই জনকে পুলিশে দেয়া হয়। যুক্তরাজ্য প্রবাসি মিজানুর রহমান জানান, ঘটনার সময় আমি সিলেটে ছিলাম। মুহিব মিয়ার সাথে আমাদের পূর্ব বিরোধ আছে। আমার ব্যক্তি উদ্যোগে গ্রামে ইট সলিং রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে। যাদেরকে আটক করা হয়, তারা এ রাস্তার কাজের ঠিকাদার ছিল।
জগন্নাথপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আসাদুজ্জামান জানান, ধৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে থানায় পূর্বের ডাকাতি, ডাকাতির প্রস্তুতি, ধর্ষণসহ বিভিন্ন মামলা রয়েছে। তাদেরকে পূর্বের মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে সুনামগঞ্জ জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। তবে এখানে কোন ডাকাতির ঘটনা ঘটেনি। তারা রাস্তার কাজ করছিল। দুই পক্ষের পূর্বের বিরোধের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে।


