ওসমানীনগরের আলোর ফেরিওয়ালা আয়শা!
প্রকাশিত হয়েছে : ১৫ নভেম্বর ২০১৫ ইং, ৩:১৪ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ৭৯৩ বার পঠিত
শিপন আহমদ,ওসমানীনগর:: সমাজে খাঁটি মানুষের আকাল যুগে সিলেটের ওসমানীনগরের এক নারী ‘অস্ত্র নয় কলম ধর-শিক্ষা নিয়ে জীবন গড়’ এই শ্লোগানকে পুঁজি করে সমাজকে সুশিক্ষিত করার ব্রতে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রচার বিমুখ এ মহিলা একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সামাজিক কর্মকান্ডের দায়িত্বে নিয়োজিত থাকলেও নিজেকে রেখেছেন নিভৃতচারী হিসেবে।
তিনি উপজেলার উমরপুর ইউনিয়নের মোল্লাপাড়া গ্রামের খালিকুর রহমানের স্ত্রী আয়শা খানম। ১৯৭০ সালে এসএসসি পাশ করার পর পারিবারিক কারনে তিনি উচ্চ শিক্ষা লাভের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হলেও এলাকার শিক্ষার আলো বিকিরণে তিনি দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে চষে বেড়িয়ে যাচ্ছেন। শিক্ষার কল্যানে নিয়োজিত হয়ে যুক্ত হয়েছেন একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনের সাথে। রাজনীতি বিমুখ আয়শা খানম ইতিমধ্যে আইন সহায়তা কেন্দ্র (আসক) ফাউন্ডেশনের মহিলা সম্পাদিকা, সিলেট বিভাগ জন স্বার্থ সংরক্ষন কেন্দ্রীয় কমিটিসহ এলাকার অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির দ্বায়িত্ব ও একাধিক সমাজিক সংগঠনের সাথে যুক্ত হয়েছেন। শিক্ষা বিস্তারে আয়শা খানমের এ অবদান ইতিহাসের পাতায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে আশাবাদী স্থানীয়রা।
দক্ষিন সুরমা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গকুল চন্দ্র দেবনাথ জানান,এ উপজেলায় চাকুরী করার সুবাধে আমি দেখেছি উপজেলার প্রায় প্রতি বিদ্যালয়ে নিজ উদ্যোগে গিয়ে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সাথে আলোচনা করে কিভাবে ছোট ছেলে-মেয়েদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলা যায় সে লক্ষে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। নিভৃতচারী আয়শা খানমের শিক্ষা বিস্তারে লড়াই অবশ্যই সমাজ ও জাতির কাছে স্বরনীয় হয়ে থাকবে।
আলাপ কালে আয়শা খানম জানান, কোন প্রাপ্তির আশায় নয়, নিজস্ব দায়বোধ থেকেই শিক্ষা বিস্তারে কাজ করে যাচ্ছি। শিক্ষার প্রসারে তিনি তার পরিবারের সবার উৎসাহ ও সামাজিক ক্ষেত্রে অনেক মানুষের সাহায্য পেয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, কোন উদ্যোগ কখনোই ব্যর্থ হয় না, যদি উদ্যোক্তার উদ্যোগটি ভুল না হয়। তিনি মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত সমাজের শিক্ষা বিস্তারে কাজ করে যাওয়ায় জন্য সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন। এই নিভৃতচারী আয়শা খানম ১৯৫৬ সালের ১৯ নভেম্বর থানা পাঁচপাড়া গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন। তাঁর পিতার নাম শাহ আব্দুস সামাদ ও মাতার নাম হালিমুন নেছ্ছা খাতুন।


