পিছিয়ে থাকা বালাগঞ্জের ‘কাশিপুর’ গ্রামে এক বছরের প্রকল্প গ্রহন
প্রকাশিত হয়েছে : ০৭ নভেম্বর ২০১৫ ইং, ৪:২৯ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ১০১৪ বার পঠিত
শামীম আহমদ,বালাগঞ্জ:: সচেতনতার অভাব, ঘনবসতি, বেকারত্ব সমস্যা আর শিক্ষা ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকা গ্রামটির নাম কাশিপুর। গ্রামবাসীদের সহযোগিতায় সরকারী নিবন্ধিত দু’টি সেচ্ছাসেবী সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে এক জরিপ পরিচালনা করা হয়। গ্রামের সব ক’টি পরিবারের মধ্যে পরিচালিত জরিফের ফলাফল থেকে গ্রামের বিভিন্ন সমস্যার চিত্র উঠে এসেছে। এই দুই সংগঠনের উদ্যোগে কাশিপুর গ্রামটির সার্বিক উন্নয়নে ১ বছর মেয়াদী “উন্নয়ন ও ডিজিটালের পথে কাশিপুর” নামে একটি প্রকল্প গ্রহন করা হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় রয়েছে, ঝরে পড়া সকল শিশুদেরকে স্কুলে ভর্তি করা, শিক্ষার মান উন্নয়ন, বয়স্কদের স্বাক্ষর-জ্ঞান শেখানো, গ্রামে বিদ্যালয় স্থাপন। তাছাড়া ধুমপান ও তামাক মুক্ত পরিবার গঠন, টিকা, পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা, স্যানিটেশন ব্যবস্থা, বয়সন্ধিকালিন যতœ, মা-শিশুর মৃত্যু রোধে গর্ভকালিন যতœ, স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা মূলক কার্যক্রম, বেকার সমস্যা দূরী করনে বিভিন্ন প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা, পারিবারিক আইন, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ, যৌতুক-যৌন হয়রানী ও মানবাধিকার বিষয়ে ধারনা প্রদান। সালিস ব্যবস্থা জোরদার করা, শিশু বিয়ে প্রতিরোধ, এইডস সর্ম্পকে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার প্রভৃতি বিষয়ে কাজ করার পরিকল্পনা গ্রহন করা হয়েছে। বিগত ২ মাসে কাশিপুর গ্রামে খানা ভিত্তিক জরিফ পরিচালনা করে সমস্যা চিহ্নিত করন, তামাক বিরুধী বোর্ড স্থাপন, বৃক্ষ রোপন, শিশু বিয়ে সংক্রান্ত কর্মশালা, তামাক মুক্ত দিবস পালন, তরুন-তরুনীদের মধ্যে প্রশিক্ষন প্রদান, উঠান বৈঠক সহ গ্রামের রাস্তা মেরামত করা হয়েছে।
বালাগঞ্জ সদর ইউপির চেয়ারম্যান এমএ মতিন বলেন, তাদের এ কাজ সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। তরুনদের এ উদ্যোগ দেখে আমি মুগ্ধ। সরকারী চাকুরীজীবি কাশিপুর গ্রামের বাসিন্ধা আব্দুস সালাম বলেন, গ্রামে সরকারী টাকায় নির্মিত কালভার্টের দু’পাশ থেকে বন্যার কারনে মাটি সরে গিয়েছিল। সেচ্ছাসেবী সংগঠন গুলোর উদ্যোগে গ্রামের লোকজনকে সাথে নিয়ে পুনরায় মাটি ভরাট করায় এখন আর লোকজনের চলাচলে কোন সমস্যা হবে না।
সরকার নিবন্ধিত ‘নিরাপদ সমাজ উন্নয়ন সংস্থা’ ও ‘ধূমপানে নিরুৎসাহিত করা (ধূনিক)’ এই সংগঠন গুলোর উদ্যোক্তা শাহাব উদ্দিন শাহীন বলেন, কাশিপুর গ্রামের অধিকাংশ লোকই দারিদ্র সীমার নীচে। সংগঠন গুলোর পক্ষ থেকে এক বছরের একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে এই প্রকল্পের আওতায় বিগত ২ মাসে গ্রামে অনেক কাজ হয়েছে।


