বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হলেন সায়রা মহসিন
প্রকাশিত হয়েছে : ২৩ নভেম্বর ২০১৫ ইং, ১২:২২ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ১৩৬৪ বার পঠিত

সহকারী রিটানিং অফিসার ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কাজি ইস্তাফিজুল হক আকন্দ এতথ্য নিশ্চিত করে জানান, মনোননয়ন পত্র বাছাইয়ের দিনে ৫ প্রার্থীর মধ্যে সৈয়দা সায়রা মহসিন ছাড়া অন্য ৪ প্রার্থীর মনোনয়ন নানা কারণে অবৈধ ঘোষণা করা হয়। রোববার প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিনে কোনো প্রার্থী ওই ৪ প্রার্থী তাদের মনোনয়ন বহালে নির্বাচন কমিশনে আপিল না করায় একমাত্র সোমবার একমাত্র বৈধ প্রর্থী সৈয়দা সায়রা মহসিনকে নির্বাচিত ঘোষণা করে এ গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।
যে কারণে ৪ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হলো? এ প্রশ্নের জবাবে সহকারী রিটানিং অফিসার ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কাজি ইস্তাফিজুল হক আকন্দ জানান, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ খুরশীদ ও সুহেল আহমদের সমর্থনে নির্বাচনী আইন মোতাবেক দেয়া নির্বাচনী এলাকার এক শতাংশ ভোটারের মধ্যে কমিশনের নির্ধারিত ১০ জনের স্বাক্ষর সঠিক পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে জাতীয় পার্টি (এরশাদ)-সমর্থিত প্রার্থীর মনোনয়নপত্রের সঙ্গে বিধান অনুযায়ী চেয়ারম্যান, মহাসচিব অথবা সমমর্যাদা সম্পন্ন ব্যক্তির স্বাক্ষরিত মনোনয়নের স্বপক্ষে লিখিত কাগজ পাওয়া যায়নি ।
আর বাংলাদেশ ন্যাশন্যালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ) প্রার্থী নিজে ছিলেন অনুপস্থিত। এ সময় তার প্রস্তাবকারী ও সমর্থকরা উপস্থিত হয়ে হলফনামা দিয়ে বলেছেন তারা কোনো দল করেন না এবং কোনো প্রার্থীর পক্ষে প্রস্তাব বা সমর্থন করেননি। ফলে সরকারি কৌঁসুলীদের উপস্থিতিতে এবং লিখিত মতামতের ভিত্তিতে তার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়।
উল্লেখ্য, এ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত জাতীয় সংসদের সমাজকল্যাণ মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলী গত ১৪ই সেপ্টেম্বর মারা যাওয়ার পর শূণ্য আসনে উপনির্বাচনের ঘোষণা দেয় নির্বাচন কমিশন।
কে এই মহিয়সী নারী সৈয়দা সায়রা মহসিন
পরিচয় খুঁজতে গিয়ে জানা গেলো অনেক অজানা তথ্য। সৈয়দা সায়রা মহসীন ১৯৬৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম মরহুম সৈয়দ বদরউদ্দিন ও মাতা মরহুমা সৈয়দা রাবেয়া খাতুন। তার বাবার বাড়ি সিলেট শহরের কাজী ইলিয়াছ, জিন্দাবাজারে। সৈয়দা সায়রা মহসীনের দাদা মরহুম সৈয়দ মাহমুদ আহমেদের বাবা মরহুম খান বাহাদুর সৈয়দ আব্দুল মজিদ কাপ্তান মিয়া ছিলেন আসামের শিক্ষামন্ত্রী। সেসময়ে শিক্ষানুরাগী কাপ্তান মিয়া সিলেট মুরারী চাঁদ কলেজের (এমসি) জন্য জমি দান করেছিলেন।
সৈয়দা সায়রা মহসীনের আপন চাচা হলেন ঢাকার অপরাজেয় বাংলার ভাস্কর্য শিল্পী সৈয়দ আব্দুল্লাহ খালেদ এবং তার মামা সৈয়দ মুর্শেদ কামাল ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর এলাকার সংসদ সদস্য।
১৯৮১ সালে এই মহিয়সী নারী বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হন তৎকালীন পৌরসভা চেয়ারম্যান সৈয়দ মহসীন আলীর সঙ্গে। এরপর থেকেই তাঁর অন্যজীবন শুরু হয়। স্বামীকে অনুপ্রেরণা দেয়ার পাশাপাশি তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের উৎসাহে রাজনীতি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হয়ে পড়েন। তিনি মৌলভীবাজার মহিলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি, আজীবন সদস্য ও সহ-সভাপতি মহিলা সমিতি মৌলভীবাজার, আজীবন সদস্য রেডক্রিসেন্ট মৌলভীবাজার, আজীবন সদস্য রোগী কল্যাণ সমিতি মৌলভীবাজার। ১৯৯৬ সালে মৌলভীবাজার-হবিগঞ্জ আসনের সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থী ছিলেন। তাঁর তিন কন্যা সন্তান সৈয়দা সায়লা শারমিন, সৈয়দা সানজিদা শারমিন, সৈয়দা সাবরিনা শারমিন।