বিশ্বনাথে সম্বনয় সভা আহবানকে কেন্দ্র করে দিনভর উত্তেজনা : সভা স্থগিত
প্রকাশিত হয়েছে : ৩০ নভেম্বর ২০১৫ ইং, ২:৫৪ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ১১৬৩ বার পঠিত
নিজস্ব সংবাদদাতা:: সিলেটের বিশ্বনাথে উপজেলা চেয়ারম্যানের ওপর হামালার ঘটনায় পন্ডু হওয়া উপজেলা পরিষদের মাসিক সম্বনয় সভা সোমবার বেলা ৩টায় আহবান করা হয়। এ সভাকে কেন্দ্র করে উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস-চেয়ারম্যান পক্ষে মুখোমুখি অবস্থান নেয়। ফলে দিনভর উপজেলায় উত্তেজনা বিরাজ করে। এমন খবরে পুলিশ প্রশাসন শক্ত অবস্থান গ্রহন করে। উপজেলা সদরের বিভিন্ন জায়গায় দুপুর থেকে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। অবশেষে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আহবানে ওই সভা সোমবার বেলা আড়াইটায় স্থগিত করা হয়েছে বলে সূত্রে জানাযায়। সভা স্থগিতের বিষয়টি নিশ্চিত করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আসাদুল হক।
জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার উপজেলা পরিষদের সম্বনয় সভায় বিভিন্ন প্রকল্প রেজুলেশনে ‘অন্তর্ভূক্তি ও বাতিল’ করা নিয়ে উপজেলা পরিষদের সম্বন্বয় কমিটির সভায় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপি নেতা সুহেল আহমদ চৌধুরী এবং ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপি নেতা আহমেদ-নুর উদ্দিনের মধ্যে বাগবিতন্ডা হয়। এসময় সভায় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে উপজেলা চেয়ারম্যানসহ অন্তন ৫জন আহত হন। ফলে পন্ডু হয় ঐ সম্বনয় সভা। হামলার ঘটনার জের ধরে বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস-চেয়ারম্যান লোকজনের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এঘটনায় উভয় পক্ষ পাল্টা-পাল্টি মামলা দায়ের করে। উপজেলা চেয়ারম্যানের সিও গোলাম কিবরিয়া শুক্রবার রাতে বাদি হয়ে ভাইস চেয়ারম্যানকে প্রধান আসামি রেখে ১১ জনের নাম উল্লেখ্য রেখে মামলা দায়ের করেন। রোববার রাতে ভাইস চেয়ারম্যান আহমদ নূর উদ্দিন বাদি হয়ে উপজেলা চেয়ারম্যানকে প্রধান আসামি রেখে ১১জনের নাম উল্লেখ্য করে অপর মামলা দায়ের করেন। তবে উভয় মামলায় পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
উপজেলা চেয়ারম্যান পন্ডু হওয়া সভাটি পুনরায় সোমবার বেলা ৩টায় পরিষদের হল রুমে আহবান করেন। আর এই সভায় ভাইস চেয়ারম্যান পক্ষও অংশগ্রহনের জন্য প্রস্তুতি নেয়। ফলে দু’পক্ষ মুখোমুখি হলে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা রয়েছে এমন খবর এলাকায় জড়িয়ে পড়ে। পুলিশ প্রশাসনের শক্ত অবস্থানের কারণে কোনো ওই সভা আর হয়নি।
থানার ওসি রফিকুল হোসেন বলেন, হামলার ঘটনায় পন্ডু হওয়া সভা সোমবার আবারও ডাকা হয়েছিল। ফলে দু’পক্ষ মুখোমুখি হলে সংঘাত-সংঘর্ষের আশংকা রয়েছিল। ফলে উপজেলা সদরের বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
উপজেলা চেয়ারম্যান সুহেল আহমদ চৌধুরী বলেন, মামলার হাজির দিতে আদালতে গিয়ে বিলম্ব হওয়ায় এবং প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আহবানে ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সোমবার সম্বনয় সভা স্থগিত করা হয়েছে।


