শিশু রাজন হত্যা মামলার রায় রোববার
প্রকাশিত হয়েছে : ০৭ নভেম্বর ২০১৫ ইং, ৪:০৫ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ১০৮৭ বার পঠিত
ডেইলি বিশ্বনাথ ডটকম ডেস্ক:: সিলেটে শিশু শেখ সামিউল আলম রাজন (১৩) হত্যা মামলার রায় ঘোষণার নির্ধারিত তারিখ রোববার। সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আকবর হোসেন মৃধা আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করেছেন শনিবার। সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট মফুর আলী শিশু রাজন হত্যা মামলায় আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।প্রসঙ্গত, গত ৮ জুলাই সিলেট নগরীর কুমারগাঁওয়ে চোর অপবাদ দিয়ে শিশু রাজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। রাজনকে নির্যাতনের দৃশ্য ভিডিও ধারণ করে ঘাতকরা ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়। এ ঘটনায় দেশে বিদেশে তোলপাড় শুরু হয়।
জানা গেছে, গত ৮ জুলাই রাজনকে হত্যার পর দুপুরে লাশ গুম করতে গিয়ে স্থানীয়দের হাতে আটক হন সিলেট সদর উপজেলার জালালাবাদ থানার কুমারগাঁও এলাকার শেখপাড়া গ্রামের মৃত আবদুল মালেকের ছেলে মুহিত। স্থানীয়দের দাবি একই সময় তারা সৌদি প্রবাসী কামরুল ইসলামকে ধাওয়া করেন। কিন্তু পরে সে সৌদি আরবে পালিয়ে যায়। ওই ঘটনায় কামরুলসহ অভিযুক্তদের নামে মামলা করতে গেলে এসএমপির জালালাবাদ থানা পুলিশ শিশু রাজনের বাবার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে। এমন অভিযোগে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এসএম রোকন উদ্দিনকে প্রধান করে গত ১৪ জুলাই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। বর্ধিত সময়ে গত ২৪ জুলাই ৪২৪ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন দাখিল করে তদন্ত কমিটি। দায়িত্বে অবহেলার কারণে ওই থানার ওসি (তদন্ত) আলমগীর হোসেন, মামলার বাদী এসআই আমিনুল ইসলাম, এসআই জাকির হোসেনকে বরখাস্ত করা হয়। আলমগীরকে ২৭ জুলাই ও দুই এসআইকে ২৪ জুলাই বরখাস্ত করা হয়।
সূত্র জানায়, গত ৯ জুলাই সৌদির উদ্দেশে যাত্রা করে কামরুল। ১০ জুলাই সেখানে পৌছে আত্মগোপন করেন। এর মধ্যে রাজন হত্যার নির্মম ভিডিওচিত্রে তোলপাড় শুরু হয় বিশ্বব্যাপি। রাজনকে পৈশাচিক কায়দায় নির্যাতনকারী কামরুল সৌদিতে পালিয়ে গেছে এমন খবরে ক্ষোভ বাড়ে সৌদি প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে। গত ১৩ জুলাই প্রবাসীরা কামরুলকে আটক করে সৌদি পুলিশের হেফাজতে দেন। ইন্টারপোলের মাধ্যমে গত ১৫ অক্টোবর কামরুলকে দেশে নিয়ে আসা হয়।
সূত্র জানায়, গত ৯ জুলাই সৌদির উদ্দেশে যাত্রা করে কামরুল। ১০ জুলাই সেখানে পৌছে আত্মগোপন করেন। এর মধ্যে রাজন হত্যার নির্মম ভিডিওচিত্রে তোলপাড় শুরু হয় বিশ্বব্যাপি। রাজনকে পৈশাচিক কায়দায় নির্যাতনকারী কামরুল সৌদিতে পালিয়ে গেছে এমন খবরে ক্ষোভ বাড়ে সৌদি প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে। গত ১৩ জুলাই প্রবাসীরা কামরুলকে আটক করে সৌদি পুলিশের হেফাজতে দেন। ইন্টারপোলের মাধ্যমে গত ১৫ অক্টোবর কামরুলকে দেশে নিয়ে আসা হয়।
গত ১৬ আগস্ট সিলেট মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক সুরঞ্জিত তালুকদার ১৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। এদের মধ্যে কামরুল ইসলাম, শামীম আহমদ ও পাভেলকে পলাতক দেখানো হয়। এ মামলায় চার্জশিটভূক্ত আসামিরা হলেন, সিলেট সদর উপজেলার জালালাবাদ থানার কুমারগাঁও এলাকার শেখপাড়া গ্রামের মৃত আবদুল মালেকের ছেলে ও কামরুলের সহোদর মুহিত আলম, আলী হায়দার ওরফে আলী, শামীম আহমদ, সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ঘাগটিয়া গ্রামের অলিউর রহমান ওরফে অলি উল্লাহর ছেলে মো. জাকির হোসেন পাভেল ওরফে রাজু, জালালাবাদ থানার পীরপুর গ্রামের মৃত মব উল্লাহর ছেলে সাদিক আহমদ ময়না ওরফে বড় ময়না, পূর্ব জাঙ্গাইল গ্রামের মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিনের ছেলে ভিডিওচিত্র ধারণকারী নূর আহমদ ওরফে নুর মিয়া, শেখপাড়া গ্রামের মৃত আলাউদ্দিন আহমদের ছেলে দুলাল আহমদ, সুনামগঞ্জের দোয়ারা উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের জাহাঙ্গীরগাঁওয়ের মোস্তফা আলীর ছেলে আয়াজ আলী, শেখপাড়া গ্রামের সুলতান মিয়ার ছেলে তাজউদ্দিন আহমদ ওরফে বাদল, সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার দোলারবাজার ইউনিয়নের দক্ষিণ কুর্শি ইসলামপুর গ্রামের মৃত মজিদ উল্লাহর ছেলে মো. ফিরোজ আলী, কুমারগাঁওয়ের (মোল্লাবাড়ি) মৃত সেলিম উল্লাহর ছেলে মো. আজমত উল্লাহ ও হায়দরপুর গ্রামের মৃত সাহাব উদ্দিনের ছেলে রুহুল আমিন রুহেল। রাজন হত্যা মামলায় ৮ জন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে।
আদালত চার্জশিট গ্রহণ করে মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য এক সঙ্গে ৯টি সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করেন। পরবর্তীতে আবারো ১৫ সাক্ষীর পুনরায় সাক্ষ্যগ্রহণের আবেদন করলে আদালত ১১ জনের পুনরায় সাক্ষ্যগ্রহণের অনুমতি দেন। টানা ৩ দিন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে গত ২৭ অক্টোবর আদালত মামলার রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করেন।


