বিশ্বনাথে সাবেক এমপির গ্রামের খেলার মাঠ ও গোচর ভূমি দখলের অভিযোগ
প্রকাশিত হয়েছে : ০৪ নভেম্বর ২০১৫ ইং, ৫:৪৩ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ৯৮২ বার পঠিত
সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার দশঘর ইউনিয়নের চান্দভরাং গ্রামের খেলার মাঠ ও গোচর ভূমি রাতের আধারে ভাড়াটে সন্ত্রাসী নিয়ে দখল করে নিয়েছে একটি ভূমিখেকো ও জালিয়াত চক্র। প্রায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের ওই জায়গা দখল করে তারা অস্থায়ী ঘর নির্মাণ ও বৃক্ষরোপন করেছে। মাঠ ও গোচর রক্ষা উদ্ধার না করলে গ্রামবাসী নিজেই আইনহাতে তুলে নিতে বাধ্য হবে।
বুধবার চান্দভরাং গ্রামবাসীর পক্ষে সিলেট জেলা প্রেস ক্লাবে জনকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এমন তথ্য উপস্থাপন করেন মো. বেদার উদ্দিন চৌধুরী জন্টি। তিনি জানান, মাঠের সংযোগ সড়কের রাস্তার ব্রিজ নির্মাণে ও মাঠের উন্নয়নে গ্রামের বাসিন্দা সাবেক এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী ১০ লাখ টাকা ব্যয় করেছেন। এছাড়া মাঠের পাশের রাস্তার উন্নয়নে জনপ্রতিনিধিরা অবদান রেখেছেন। মাঠ ও গোচর ভূমি দখল করে নেওয়ায় গ্রামবাসী তা ব্যবহার করতে পারছেন না। তিনি মাঠ উদ্ধার করে দখলবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনে প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।
লিখিত বক্তব্যে জন্টি উল্লেখ করেন, চান্দভরাং গ্রামের খেলার মাঠ ও গোচর ভুমি যুগ যুগ ধরে গ্রামবাসী ব্যবহার করে আসছেন। জায়গার পরিমাণ ৪ একর ২৭ শতক। চান্দভরাং মৌজার জেএল নং- ১০৩ ও এসএ দাগ নং-৪৩১৩ ও বিএস দাগ নং-৪১৬৮। এরমধ্যে মাঠের অবস্থান প্রায় ২ একর জায়গাজুড়ে। বাকি জায়গা গোচর ভুমি। ওই জায়গার এসএ রেকর্ডের মালিক ছিলেন গ্রামের মরহুম সুহেল উদ্দিন চৌধুরী ও মুছন আলী গং। তারা মাঠ ও গোচর ভুমি হিসেবে ১৯৬৫/৬৬ সালে গ্রামের ১৮ জন ব্যক্তির নামে পৃথক দানপত্র করে দেন। যাতে কেউ ওই জায়গা বেদখল ও বিক্রি করতে না পারে। কিন্তু পরবর্তীতে গ্রামের গুটি কয়েক ব্যক্তি জায়গা নিজেদের নামে করে নিতে গোপনে তৎপরতা শুরু করে।
এর মধ্যে একজন হচ্ছেন, আনোয়ার হোসেন আঙ্গুর। সাথে রয়েছে তার সন্ত্রাসী ছেলে ছাত্রদল ক্যাডার সাহেল সামাদ। ১৯৯২ সালে আঙ্গুর মাঠের ৬৮ শতক জায়গা ভুয়া দলিল দেখিয়ে নিজের নামে রেকর্ড করে নেন। বাস্তবে তিনি যে দলিল উলে¬খ করেন তা রামপাশা ইউনিয়নের অন্য ব্যক্তির। সেই থেকে তৎপরতা শুরু করেন তিনি।
বক্তব্যে জানানো হয়, একাধিকবার আনোয়ার হোসেন আঙ্গুর জায়গা দখল ও বিক্রির চেষ্টা করেন। কিন্তু গ্রামবাসী সব সময়ই সোচ্চার থাকায় তা পারেননি। ২০০১ সালে তিনি গোপনে গ্রামের তোরণ মিয়া ও খলিল রহমানের কাছে ৩০ শতক জায়গা বিক্রি করেন। তারা জায়গা ক্রয় করলেও দখল নেয়নি এলাকাবাসীর স্বার্থ বিবেচনা করে। গত জুলাই মাসে মাঠ দখলের চেষ্টা করলে গ্রামবাসী তাদের প্রতিহত করে। এ নিয়ে গ্রামের সালিশ ডাকা হলে তিনি উপস্থিত হননি।
বিষয়টি গত ২৮ জুলাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিশ্বনাথ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়। অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিশ্বনাথ থানা পুলিশ ১৮ আগষ্ট উভয় পক্ষকে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য নোটিশ প্রদান করে। গত ১৭ অক্টোবর থানা পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে গ্রামবাসীর পক্ষে প্রতিবেদন দাখিল করে। নোটিশ ও প্রতিবেদন উপেক্ষা করে গত ২৮ অক্টোবর রাতের আধাঁরে আঙ্গুর ও তার ছেলে ছাত্রদল ক্যাডার সাহেল সামাদ এবং ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর রহমান এর নেতৃত্বে ভাড়াটিয়া লোকজন নিয়ে মাঠ দখল করে। তারা ওই সময় দেশীয় অস্ত্র ছাড়াও বন্দুক ব্যবহার করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছলে দখলবাজরা পালিয়ে যায়। পুলিশ তাদের ফেলে যাওয়া দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে। এমতবস্থায় গ্রামবাসী আতঙ্কের মধ্যে দিন পার করছে।
এক প্রশ্নের জবাবে বেদার উদ্দিন চৌধুরী জন্টি জানান, মাঠের মূল রেকর্ডীয় মালিক তার বড়বাপ মরহুম সুহেল উদ্দিন চৌধুরী। কিন্তু উত্তরাধীকাররা মালিকানা দাবি করেননি বা করবেন না। কারণ খেলার মাঠ ও গোচর ভূমির মালিকানা দাবি করলে গ্রামবাসীর যাবে কোথায়? খেলাধুলা ও গরু ছাগল চরানো কোথায় তারা করবে। আজ আঙ্গুর চক্র জালজালিয়াতি করে মাঠের মালিকানা দাবি, বিক্রিসহ তা দখল করে নিয়েছে। দখলবাজদের উচ্ছেদ করে খেলার মাঠ ও গোচর ভূমি উদ্ধারে গ্রামবাসী প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, গ্রামের বিশিষ্ট মুরব্বি সজা উদ্দিন ধলু, ফজর আলী, কালা মিয়া, ইউসুফ আলী, জিতু মিয়া, আচা মিয়া, ইলিয়াছ আলী, ইছরাখ আলী, ছালেহ আহমদ, আলী হোসেন, সিদ্দেক আলী, রাজু আহমদ, ছাদিকুর রহমান, কালা মিয়া প্রমুখ।-বিজ্ঞপ্তি


