ব্রিটিশ শিক্ষকের মাত্র ৩ ঘন্টার ক্লাসে দারুন মুগ্ধ বিশ্বনাথের পল্লীগাঁয়ের দেড় শতাধিক শিশু
প্রকাশিত হয়েছে : ০৭ নভেম্বর ২০১৫ ইং, ১২:৪৩ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ৭১৪ বার পঠিত
নিজস্ব সংবাদদাতা:: ব্রিটিশ স্কুল শিক্ষক পউলা জোনস বৃহস্পতিবার কানেকটিং প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে ক্লাস নিতে এসেছিলেন বিশ্বনাথের পল্লী গ্রাম বল্লভপুরে। ক্লাস নিয়েছেন মাত্র ৩ ঘন্টা, তাতেই দারুন মুগ্ধ ঐ স্কুলের প্রায় শতাধিক শিশু। জীবনে এই প্রথম কোন ভিনদেশি মানুষের সাথে ভিন্ন ভাষায় ক্লাস করে দারুন উৎপুল্ল তারা। শিশুদের জন্য এ এক মজার অভিজ্ঞতা । ভবিষ্যত জীবনে লেখাপড়ার প্রতি আরো মনযোগী করতে এ অভিজ্ঞতা খুবই অনুপ্রেরণা যোগাব তাদের । এর সাথে কোন বিদেশী নাগরিকের কাছ থেকে পুরস্কার পাওয়া তাদের অনেকের কাছে চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে বহুকাল এ কথা অনেকেই জানিয়েছে।
বিশ্বনাথের বল্লভপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ব্রিটেনের সাউথ ওয়ালসের পেনীরেনগ্লীন কমিউনিটি প্রাইমারী স্কুলের মধ্যে কানেকটিং ক্লাসরুম পার্টনারশীপ প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে গত ৩রা নভেম্বর বল্লভপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আসে ২৭ সদস্যের ব্রিটিশ শিক্ষক ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল। ঐ দিন সফরকারীদের দলকে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে উষ্ন অভ্যর্থনা জানানো হয় । বৃহস্পতিবার কানেকটিং স্কুলের শিক্ষক পউলা জোনস বিদ্যালয়ে আসেন ক্লাস নিতে। এদিন তার একমাত্র সফর সঙ্গী হিসেবে আসেন কার্ডিফ সিটি কাউন্সিলের সাবেক ডেপুটি লর্ড মেয়র ও বতর্মান কাউন্সিলর সিলেটের কৃতিসন্তান আলী আহমদ। এসময় তাদেরকে স্বাগত জানান স্থানীয় কো-অর্ডিনেটর ও বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম জুবায়ের,বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোঃ দিলু মিয়া,বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা রাহেলা আক্তার ও অন্যান্য শিক্ষকমন্ডলী।
ব্রিটিশ এই শিক্ষিকা বিদ্যালয়ের সব কয়টি ক্লাসে ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে আন্তরিক পরিবেশে সকাল ১১টা থেকে ২টা পর্যন্ত একনাগাড়ে তিন ঘন্টা সময় কাটান। তিনি আই প্যাড ও বই দিয়ে ছবি সহ তার স্কুলের পরিচিতি, সেখানকার স্কুলে লেখাপড়া প্রদানের দরন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য যেমন জানান এর পাশাপাশি এখানকার লেখাপড়ার দরন জেনে যান এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে এখানকার শিক্ষকদের কিছু পরামর্শও প্রদান করেন । এর ফাঁকে ফাঁকে প্রতিটি ক্লাস রুমের ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে হাসি মুখে নানান জাতের ছবি আই প্যাড ও ক্যামেরার সাহায্যে তুলেন। শুধু তাই নয় সূদূর ওয়ালস থেকে এ বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য আনা নানান জাতের কলম,পেন্সিল ও কালারিং পেন্সিল তিনি নিজে প্রত্যেকের হাতে উপহার তুলে দেন। পউলা জোনস প্রতিটি ক্লাসে সর্বোচ্চ ৩০ মিনিট সময় দিয়েছেন আর তাতেই দারুন মুগ্ধ ঐ স্কুলের প্রায় শতাধিক শিশু। জীবনে এই প্রথম কোন ভিনদেশি মানুষের সাথে ভিন্ন ভাষায় ক্লাস করে দারুন উৎপুল্ল তারা। শিশুদের জন্য এ এক মজার অভিজ্ঞতা । ভবিষ্যত জীবনে লেখাপড়ার প্রতি আরো মনযোগী করতে এ অভিজ্ঞতা তাদেরকে খুবই খুবই অনুপ্রেরণা যোগাবে বলে তারা বিভিন্ন মিডিয়ার কাছে জানায়। এর সাথে কোন বিদেশী নাগরিকের কাছ থেকে পুরস্কার পাওয়া তাদের অনেকের কাছে চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে বহুকাল এ কথা অনেকেই জানিয়েছে । ব্রিটিশ শিক্ষিকা পউলা জোনস প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রীদেরকে কেবল একটি করে উপহার দিয়ে থেমে থাকেননি । উপহার দিয়েছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদেরও। আর বিদায় বেলায় স্মৃতির নিদর্শন হিসেবে দিয়ে গেছেন তার নিজ দেশের পতাকা , তার স্কুলের ইউনিফর্ম, এবং আসন্ন বার্ষিক পরীক্ষা উপলক্ষে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য ব্যাগভর্তি কলম , পেন্সিল এবং নানান জাতের গল্পের বই। আর স্মৃতির অংশ হিসেবে নিয়ে গেছেন বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা।


