বিশ্বনাথ উপজেলার চেয়ারম্যানের ভাই হওয়ার কারণে প্রবাসে থেকেও মামলার আসামী!
প্রকাশিত হয়েছে : ১৫ ডিসেম্বর ২০১৫ ইং, ৫:২৭ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ১৩৮৭ বার পঠিত
রফিকুল ইসলাম জুবায়ের :: বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ সুহেল আহমদ চৌধুরীর আপন ভাই হওয়ার কারণে প্রবাসে থেকেও বিশ্বনাথ থানায় দায়ের করা মামলায় আসামী হয়েছেন বাংলাদেশী বংশদ্ভোত এক ব্রিটিশ নাগরিক । তার নাম সুমন পারভেজ চৌধুরী । তিনি বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ সুহেল আহমদ চৌধুরীর আপন ছোট ভাই। এই ঘটনা দেশে ও প্রবাসে মানুষের মধ্যে নানান আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
প্রসংঙ্গত গত ২৬ নভেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভায় পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ সুহেল আহমদ চৌধুরীর বক্তব্যের সময় একই পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ নুর উদ্দিন বাধা প্রদান প্রদান করেন । এ সময় উপজেলা চেয়ারম্যান তার বক্তব্যকালে বাধা না দেওয়ার জন্য ভাইস চেয়ারম্যানকে আহবান জানান। এ সময় মূহূর্তের মধ্যে বহিরাগতরা দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যানের উপর হামলা চালায়, তখন সমন্বয় সভার অনেকেই চেয়ারম্যানকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসলে তাদের অনেকেই আহত হন। এর মধ্যে অলংকারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লিলু মিয়া অন্যতম। যা ঘটনার পর দিন একাধিক সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয় এবং উপস্থিত জনপ্রতিনিধি একাধিক মাধ্যমে সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন।
সেদিন হামলার ঘটনায় পরিষদের চেয়ারম্যানের সিএ গোলাম কিবরিয়া বাদী হয়ে উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ নুর উদ্দিনকে প্রধান আসামী করে বিশ্বনাথ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এর অংশ হিসেবে ভাইস চেয়ারম্যান বাদী হয়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ সুহেল আহমদ চৌধুরীকে প্রধান আসামী করে বিশ্বনাথ থানায় আরেকটি মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে উপজেলা চেয়ারম্যানের পক্ষ হয়ে তার গ্রামের নিজাম উদ্দিন বাদী হয়ে ভাইস চেয়ারম্যান প্রধান আসামি রেখে ৭ জনের নাম উল্লেখ্য একই থানায় অপর আরো একটি মামলা দায়ের করেন।
এর দুইদিন পর ভাইস চেয়ারম্যানের পক্ষ হয়ে তার গ্রাম (জানাইয়া ) এর মৃত মর্তুজ আলীর পুত্র জিতু মিয়া বাদী হয়ে বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সুহেল আহমদ চৌধুরীকে প্রধান আসামি রেখে এবং তার আপন কনিষ্ঠ ভাই বিশ্বনাথ উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক সুমন পারভেজ চৌধুরীকে উক্ত মামলার ১২ নং আসামী করে বিশ্বনাথ থানায় গত ১২ ডিসেম্বর একটি মামলা দায়ের করে । মামলা নং ৯।
অথচ মামলার এজাহারে উল্লেখিত ঘটনার দিনে স্বপরিবারে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছিলেন বাংলাদেশী বংশদ্ভোত ব্রিটিশ নাগরিক সুমন পারভেজ চৌধুরী । ঘটনার দিন যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত একজন প্রবাসী কি করে একটি মামলার ১২ নং আসামী হন তা নিয়ে জনমনে নানান প্রশ্ন দেখা দিয়েছে ।
খোজ নিয়ে জানা গেছে ২৬ নভেম্বর এর ঘটনা জেনে আহত ভাইকে দেখতে গত ১লা ডিসেম্বর মধ্যপ্রাচ্যের একটি বিমানযোগে বাংলাদেশে আসেন সুমন পারভেজ চৌধুরী। যার সত্যতা তার ব্রিটিশ পাসপোর্টের ১০নং পৃষ্টায় ঢাকার হযরত শাহজালাল (রঃ) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের এ্যারাইবেল শীলে ১ ডিসেম্বর ২০১৫ উল্লেখ রয়েছে ।


