ভারতীয় পাতার বিড়ি’ বালাগঞ্জে জনপ্রিয়!
প্রকাশিত হয়েছে : ২১ ডিসেম্বর ২০১৫ ইং, ৫:৫৩ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ১২৮১ বার পঠিত
শামীম আহমদ বালাগঞ্জ:: যুগ-যুগ ধরে বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পন্থায় বাংলাদেশে আসা ভারতীয় ‘পাতার বিড়ি’ বালাগঞ্জে আজও জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছে। গ্রামের সাধারন ধুমপায়ীদের কাছে এই পাতার বিড়ির চাহিদা ব্যাপক। তবে এই অঞ্চলের ব্যবসায়ী ও ধুমপায়ীদের কাছে এটি ‘নাসির বিড়ি’ নামে অত্যাধিক পরিচিত। শেখ নাসিরুদ্দিন বিড়ি-১৪ মার্চেন্ট, ৪২ ষ্ট্রান্ড রোড, কলিকাতার কোম্পানীতে তৈরী হওয়া এই বিড়ির একটি প্যাকেটের (২৫ শলার প্যাকেট) বর্তমান বাজার মুল্য ২০ থেকে ৩০ টাকার মধ্যে। তবে মাঝে-মধ্যে এর খুচরা মুল্য উঠা-নামা করে বলে ব্যবসায়ী ও ধুমপায়ীরা জানিয়েছেন।
অনেক শিক্ষিত ব্যক্তি ও প্রবাসে অবস্থানকারী ধুমপায়ীরা পাতার বিড়ি সেবন করেন। সীমান্তের চোরাকারবারী, পাইকারী বিক্রেতা ও খুচরা বিক্রেতাদের মাধ্যমে সাধারন ধুমপায়ীদের কাছে এটি সহজেই পৌছে দেয়া হয়। উপজেলার ছোট-বড় বাজার সহ গ্রামের দোকান গুলোতেও এই বিড়ি পাওয়া যায়। তবে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মাঝে-মধ্যে বিড়ির চালান আটক করে থাকেন। এমনকী পাইকারী বিক্রেতা ও খুচরা বিক্রেতাদের জেল-জরিমানা ও শাস্তি প্রদান করা হলেও এটি বিক্রি কিংবা সেবন বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না।
বড়দের দেখাদেখি ছোট বেলা থেকেই ‘পাতার বিড়ি’ সেবনে অভ্যস্থ ইছবর মিয়া নামের এক দিন মজুর বলেন, আমার বাবাও এই বিড়ি খেয়েছেন। ইছবর মিয়া প্রতিদিন তিন বান বিড়ি (তিন প্যাকেটে ৭৫ শলা) সেবন করার কথা উল্লেখ করে বলেন, এই বিড়ি সেবন না করলে আমার পেটে সমস্যা দেখা দেয় টয়লেট হয়না এবং রাতে ভাল করে ঘুম হয়ও না। গ্রামের দোকান গুলোতে ‘পাতার বিড়ি’ বিক্রি হওয়ায় বড়দের দেখাদেখি ছোট-ছোট শিশুদেরও বিড়ি সেবনের আসক্তি দেখা গেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ‘পাতার বিড়ি’ সেবনকারী সতের বছরের এক যুবক বলেন, আমার বাবা এই বিড়ি সেবন করেন, আমি বাবার দেখেই শিখেছি, মাঠে কাজে গেলে বাবা এবং আমি একসাথে বসেই এই বিড়ি সেবন করি। এতে লজ্জার কিছু নেই বলেও মন্তব্য করেন এই যুবক।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বালাগঞ্জ উপজেলার গ্রামাঞ্চলের ধুমপায়ীদের মধ্যে ৮০ থেকে ৯০ ভাগ ‘পাতার বিড়ি’ সেবনে অভ্যস্থ। বৃটিশ আমল থেকে বংশানুক্রমে এই এলাকার ধুমপায়ীরা এটি সেবন করে আসছেন। ফলে দেশীয় বিড়ি কোম্পানী গুলো প্রতিবছর ব্যবসায়ীক ক্ষতি সহ সরকার বঞ্চিত হচ্ছে বড় অঙ্কের রাজস্ব থেকে।
পাতার বিড়ি সেবন করেন এমন কয়েকজনের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, এই বিড়ি সেবনের অভ্যাসটি তারা বংশ পরম্পরায় শিখে আসছেন। ফলে এটি ছাড়া ধুমপায়ীদের এক দিনও চলে না। এক কথায় এই বিড়ি সেবনের অভ্যাসটি বৃহত্তর সিলেট তথা বালাগঞ্জের ধুমপায়ীদের সংস্কৃতির সাথে মিশে গেছে। কিন্তু এমন একটি জনপ্রিয় বিদেশী পন্য যুগ-যুগ ধরে অবৈধ পন্থায় বাংলাদেশে প্রবেশ করলেও আর্থিক ফায়দার বিনিময়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তৎপরতাহীন ভুমিকায় রয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাছাড়া পাতার বিড়ি চোরাই পথে আমদানী করতে সীমান্তে সৃষ্টি হয়েছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট। দু’দেশের সীমান্ত রক্ষিদের যোগসাজেসে এটি বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করছে। মাঝে-মধ্যে সীমান্ত রক্ষিদের হাতে ধরা পড়ছে অবৈধ পথে আসা বিড়ির চালান। বিড়ির চালান নামাতে গিয়ে অনেক সময় ভারতীয় সীমান্ত রক্ষিদের গুলিতে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের প্রানহানীর ঘটনা ও ঘটছে। বাংলাদেশে অবৈধ পথে আসা ভারতীয় পাতার বিড়ির প্যাকেটের ভিতরে লিখা রয়েছে “নকল হইতে সাবধান হইয়া খরিদ করিবেন”। তাদের কোম্পানীর বিড়ি নকল না করার জন্য প্যাকেটের গায়ে সতর্ক বানী লিখার পাশাপাশি জুতার ছবি দিয়ে এখানে অন্য কিছুর ইঙ্গিত করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে বালাগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ তরিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, যে কোন অবৈধ পন্যের বিক্রি বন্ধের ব্যাপারে আমরা সোচ্ছার। তবে চোরাকারবারীরা সীমান্ত রক্ষিদের চোখ ফাকি দিয়ে পাতার বিড়ির চালান নিয়ে আসে।
তিনি বলেন, আমার এলাকায় কোথাও বিড়ির চালান আসার সন্ধান পেলেই আমরা সাথে-সাথে আটক করার চেষ্টা করি এবং আইনানুগ শাস্তি প্রদান করি।


