ভোটারদের অভিমত আজ সারা রাত জেগে থাকবো…
প্রকাশিত হয়েছে : ২৯ ডিসেম্বর ২০১৫ ইং, ৯:৪৭ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ১০৩৯ বার পঠিত
ওয়াহিদুর রহমান ওয়াহিদ::সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ৩০ ডিসেম্বর বুধবার জগন্নাথপুর পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আজকের অগ্নি পরীায় কে উত্তীর্ণ হচ্ছেন। কে হচ্ছেন আগামী ৫ বছরের জন্য পৌর পিতা এবং নির্দিষ্ট ওয়ার্ডের অভিভাবক। কার গলায় পড়বে জয়ের মালা। তা এখন সময়ের ব্যাপার। নব-নির্বাচিতদের বরণ করে নিতে অধির আগ্রহ নিয়ে অপোর প্রহর গুণছেন সমর্থকরা। নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে নির্বাচনী উত্তাপ। নিজেদের বিজয় নিশ্চিত করতে প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা সর্বশক্তি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। তাই যে কোন মূল্যে তারা নির্বাচিত হতে চান। এবারের নির্বাচনে মেয়র পদে ৩ প্রার্থী রয়েছেন মুল আলোচনায়। কেউ কারো থেকে কোন অংশে কম নয়। লড়াই হবে সমানে সমান। ৩ প্রার্থীই প্রবাসী হওয়ায় টাকার জোরে কেউ কারো থেকে পিছিয়ে নেই। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এক শ্রেণির ভোটাররা রয়েছেন টাকা লুটের ধান্ধায়। তারা দলবেধে টাকার জন্য প্রার্থীদের দ্বারেদ্বারে ঘুরছেন। প্রার্থীরাও তাদের নিরাশ করছেন না।
স্থানীয় ভোটারদের ভাষায় আজ রাত কালো রাত। এ রাতেই নির্ধারণ হবে, কে হচ্ছেন পৌর পিতা ও নির্দিষ্ট ওয়ার্ডের অভিভাবক। তাই আজ অর্থাৎ মঙ্গলবার সারা রাত জেগে থাকতে হবে। এ রাতে অনেক কিছুই হয়ে থাকে। পাল্টে যায় ভোটের হিসাব-নিকাশ। ভোটাররা সারা রাত জেগে থাকেন প্রার্থীদের কাছ থেকে টাকা পাওয়ার আশায়। কখন কোন প্রার্থীর লোক খামে ভর্তি টাকা নিয়ে আসবেন। মেয়র প্রার্থীরা তাদের পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী নিজস্ব লোকের মাধ্যমে রাতের আধারে অত্যান্ত কৌশলে ভোটারদের মধ্যে টাকা বিতরণ করিয়ে থাকেন। সেই সাথে কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে অনেকে তাদের নির্দিষ্ট ওয়ার্ড এলাকার ভোটারদের মধ্যে সাধ্য অনুযায়ী টাকা বিতরণ করেন। আবার অনেক প্রার্থীরা তাদের নির্দিষ্ট এলাকায় পাহারা বসিয়ে থাকেন। যাতে অন্য কোন প্রার্থীর লোকজন এসে টাকা বিতরণ না করতে পারেন। এসব টাকা বিতরণের নাটকীয়তায় কেটে যায় পুরো রাত। সকালে শুরু হয় নতুন কৌশল। অনেক প্রার্থী তাদের নিজস্ব লোক দিয়ে ভোটারদের বাড়ি থেকে নিজ যাতায়াত খরছে ভোট কেন্দ্রে নিয়ে আসেন। ভোট না দেয়ার আগ পর্যন্ত ভোটারদের কদরের শেষ নেই। তবে ভোট দেয়ার পর তাদের সকল কদর পুরিয়ে যায়। পরবর্তী ৫ বছরে কেউ কারো খোঁজ রাখেন না। জগন্নাথপুর পৌরসভা নির্বাচনের আগের রাত ও নির্বাচনের দিন সকালে এরকই ঘটনা ঘটে থাকে বলে পূর্ব অভিজ্ঞার কথা তুলে ধরে জানান স্থানীয় ভোটাররা।
এবার জগন্নাথপুর পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে ৩, নারী কাউন্সিলর পদে ১০ ও পুরুষ কাউন্সিলর পদে ৩৪ সহ মোট ৪৭ জন প্রার্থী অংশ নিয়েছেন। তারা হচ্ছেন, আওয়ামীলীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী সাবেক পৌর মেয়র আলহাজ্ব আব্দুল মনাফ (নৌকা), বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী যুক্তরাজ্য প্রবাসী রাজু আহমদ (ধানের শীষ) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী যুক্তরাজ্য প্রবাসী আলহাজ্ব শাহ নুরুল করিম (পানির জগ)। সংরতি নারী কাউন্সিলর পদে ১, ২, ৩ নং ওয়ার্ডের বর্তমান নারী কাউন্সিলর আয়ারুন্নেছা (কাঁচি) ও সুফিয়া খানম (মৌমাছি), ৪, ৫, ৬ নং ওয়ার্ডের বর্তমান নারী কাউন্সিলর বাহারজান বিবি (ভ্যানিটি ব্যাগ), সাবেক নারী কাউন্সিলর মিনা রাণী পাল (মৌমাছি), সাবেক কাউন্সিলর ফারজানা বেগম (পুতুল), ডলি বেগম (কাঁচি) ও রাবিয়া বেগম (আঙ্গুর), ৭, ৮, ৯ নং ওয়ার্ডের বর্তমান নারী কাউন্সিলর সুবর্ণা রাণী শর্মা (পুতুল), খালেদা বেগম (আঙ্গুর) ও নার্গিস ইয়াসমিন (কাঁচি)। পুরুষ কাউন্সিলর পদে ১ নং ওয়ার্ডের বর্তমান পৌর কাউন্সিলর খলিলুর রহমান (পানির বোতল), আব্দুল ওয়াহাব (পাঞ্জাবী) ও শাহিনুর রহমান (উটপাখি), ২ নং ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর মামুন আহমদ (পাঞ্জাবী) ও নিজামুল করিম (উটপাখি), ৩ নং ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর তাজিবুর রহমান (উটপাখি), আফরোজ আলী (পাঞ্জাবী), লিটন মিয়া (পানির বোতল) ও লেবু মিয়া (ব্রিজ), ৪ নং ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর সুহেল আমিন (উটপাখি), কামাল হোসেন (টেবিল ল্যাম্প), দিলোয়ার হোসেন (পানির বোতল) ও হেলাল আহমদ (পাঞ্জাবী), ৫ নং ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর শফিকুল হক (উটপাখি) ও আব্দুল কাইয়ূম (পানির বোতল), ৬ নং ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর গিয়াস উদ্দিন মুন্না (পানির বোতল), সাবেক পৌর কাউন্সিলর আবু সুফিয়ান ঝুনু (উটপাখি), গোবিন্দ দেব (পাঞ্জাবী) ও অ্যাডভোকেট আমিরুল হক এনাম (টেবিল ল্যাম্প), ৭ নং ওয়ার্ডের ব্যবসায়ী খলিলুর রহমান (পাঞ্জাবী), সুহেল আহমদ (উটপাখি) ও জাকির হোসেন (পানির বোতল), ৮ নং ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর আবাব মিয়া (উটপাখি), আকমল হোসেন (পাঞ্জাবী), সাফরোজ ইসলাম মুন্না (পানির বোতল) ও শামীম আহমদ (ডালিম), ৯ নং ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর মঈন উদ্দিন (টেবিল ল্যাম্প), রুপন মিয়া (পাঞ্জাবী), দ্বীপক কান্তি গোপ (ব্যাক বোর্ড), আবুল বাহার চৌধুরী (উটপাখি), হাফিজুর রহমান (পানির বোতল), নুরুল ইসলাম (গাঁজর), আনহার মিয়া (ডালিম) ও ছমির উদ্দিন (ব্রিজ) প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন।


