আনোয়ারুজ্জামান-মুহিবকে পেয়ে বিশ্বনাথ আ.লীগের পদবঞ্চিতরা ফুরফুরে!
প্রকাশিত হয়েছে : ২৬ ডিসেম্বর ২০১৫ ইং, ৯:২৪ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ২২৩৮ বার পঠিত

মোহাম্মদ আলী শিপন:: যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী ও আওয়ামী লীগ নেতা মুহিবুর রহমানকে পেয়ে বিশ্বনাথ উপজেলা আওয়ামী লীগের পদবঞ্চিতরা ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন বলে জানাগেছে। গত ১৩ ডিসেম্বর যুক্তরাজ্য থেকে এক সঙ্গে দেশে আসেন আনোয়ারুজ্জামান ও মুহিবুর রহমান। ওইদিন রশিদপুর পয়েন্ট বিশ্বনাথ আ.লীগের পদবঞ্চিত নেতারা তাদের সংবর্ধনা প্রদান করেন। ইতিমধ্যে তাদের সঙ্গে বিভিন্ন সময় পদবঞ্চিত নেতারা মতবিনিময় করেছেন বলে সূত্রে জানাগেছে।
এদিকে, বিশ্বনাথ উপজেলা সদরে আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীকে গণ সংবর্ধনা দিতে আ.লীগের পদবঞ্চিত নেতারা ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহন করছেন বলে অনেক নেতা জানান। সংবর্ধনা অনুষ্ঠান সফলের লক্ষে শনিবার বিকেলে মুহিবুর রহমানের বাসভবনে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক কোষাধ্যক্ষ ও বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মুহিবুর রহমান বলেছেন, পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সিলেটের ভূমিকা ছিল খুব বেশী। কিন্ত কালের স্্েরাতে নীতি আদর্শহীন রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ায় সিলেটবাসী এখন জাতীয় রাজনীতির শূন্যতা যখন অনভব করছেন, ঠিক তখনই আমাদের সিলেটবাসীর তরুণ নেতা আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী জাতীয় রাজনীতিতে সিলেটের শূন্যতা পূরন করছেন বলে আমি মনে করি।
তিনি বলেন, দলমত নির্বিশেষে সকলে মিলে আনোয়ারুজ্জামানের হাতকে শক্তিশালী করতে হবে। যারা অর্থ দিয়ে রাজনীতির করে দলের আদর্শ ত্যাগী নেতাকর্মীদের দূরে রাখে তাদের বিদায়ের পালা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। মুহিবুর রহমান বিশ্বনাথে আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর গণসংবর্ধনা সভায় যোগদানের জন্য সকলের প্রতি আহবান জানান।
তিনি শনিবার বিকেলে বিশ্বনাথ নতুন বাজারস্থ নিজ বাসবভনে উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত গণসংবর্ধনার প্রস্তুতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন- যুক্তরাজ্য প্রবাসী সবজুল আলী, মাস্টার ফখর উদ্দিন, ফয়জুল ইসলাম, ওয়াব আলী, ইউনুছ আলী, রফিকুল ইসলাম, রুস্তুম আলী, মাসুক মিয়া, মাস্টার হানিফ আলী, আব্দুর রব, সুহেল আহমদ, শাহ আলম খোকন, লিয়াকত আলী, আখতার হোসেন, আফরোজ আলী, পার্থ সারতী দাস পাপ্পু প্রমূখ। সভায় গণসংবর্ধনা সফলের লক্ষ্যে ছয়ফুল হককে আহবায়ক ও ফখরুল আহমদ মতছিনকে সদস্য সচিব করে ৭ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়।
জানাগেছে, চলিত বছরের ৮জুন উপজেলা আ.লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে কণ্ঠভোটে পংকি খান সভাপতি ও পূণরায় বাবুল আখতার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। কিন্তু ওই কমিটি মেনে নিতে নাজার পদবঞ্চিত নেতারা। তারা ওই কমিটি প্রত্যাখান করেন। কিন্তু কমিটি গঠনের পর পদবঞ্চিত নেতারা বিভিন্ন সময়ে ঘরোয়াভাবে বৈকঠ করে আসছেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত রাজপথে তাদের কোনো অবস্থান দেখা যায়নি। বর্তমান আওয়ামী লীগের কমিটির বিরুদ্ধে পদবঞ্চিত নেতারা জেলা ও কেন্দ্রীয় বিভিন্ন অভিযোগও প্রেরণ করেছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়। পদবঞ্চিত নেতাদের অভিযোগের ওপর নির্ভরশীল ছিল সকল কর্মসূচি। জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে অভিযোগের ফলে উপজেলা আ.লীগের পূর্নাঙ্গ কমিটি গঠন হচ্ছেনা বলে তারা দাবি করে আসছেন পদবঞ্চিত নেতারা। কিন্তু সম্প্রতি আ.লীগ নেতা আনোয়ারুজ্জামান ও মুহিবুর রহমান দেশে অবস্থানের ফলে আ.লীগের পদবঞ্চিত নেতারা রাজপথে অবস্থান নেয়ার পরিকল্পনা করছেন বলে অনেক নেতা জানান। এতে উপজেলা আ.লীগের পদবঞ্চিত নেতারা অনেক ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন।
এব্যাপারে উপজেলা আ.লীগ নেতা ছয়ফুল হক বলেন, উপজেলা আ.লীগের যে কমিটি ঘোষনা করা হয়েছে,এটা দলের গঠনতন্ত্র মোতাবেক হয়নি। যার ফলে পূর্নাঙ্গ কমিটির তারা অনুমোধন আনতে পারেনি। আমরা পূর্বের কমিটিই এখনও পর্যন্ত বহাল রয়েছে বলে মনে করি। সেই কমিটির সভাপতি (মজম্মিল আলী) আমাদের সাথে রয়েছেন।
উপজেলা সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক এইচ এম ফিরোজ আলী বলেন, উপজেলা আ.লীগের সম্মেলনের ২য় অধিবেশনে জেলা আ.লীগে যে দায়িত্ব ছিল, জেলা আ.লীগ ওই দুই জনের নাম ঘোষনা করেনি। দুইজন দিয়ে আ.লীগের কমিটি হয়না। এরা দলের কেউ নয়,অন্য দলের মানুষ।
তিনি বলেন, উপজেলা আ.লীগ কে আরও শক্তিশালী করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আ.লীগ নেতা আনোয়ারুজ্জামান কে গণ সংবর্ধনা প্রদানের ব্যাপারে আলাপ-আলোচনা চলছে। তিনি দলের যুগ্ম-সম্পাদক রয়েছেন বলেও দাবি করেন।
উপজেলা আওয়া মীলীগের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার বলেন, উপজেলা আ.লীগের সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে জেলা কমিটির ১৯জন নেতা উপস্থিত ছিলেন। কণ্ঠভোটে সমর্থন দেয়ার পর এই ভোট নিয়ে অযোগ্য,দূর্বলরাই সমালোচনা করে কথা বলে, সাহস থাকলে সেইদিন কণ্ঠ ভোটের বিরোধীতা করল না কেন? এরা সব সময়ই দলের কোন্দল সৃষ্টি করে বিএনপি ও জামায়াত কে শক্তিশালী করার অপচেষ্টায় লিপ্ত থাকে, অতীতেও ছিল আজও আছে।
তিনি বলেন, আমাকে সাধারণ সম্পাদক ও পংকি খানকে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দিয়ে সম্মেলন উপস্থিত জেলার ১৯ জন নেতা সাক্ষর করেছিলেন।
তিনি বলেন, যথা সময়ে উপজেলা কমিটির অনুমোধন হবে। বিশ্বনাথ উপজেলা আ.লীগের সম্মেলনের পূর্বে সিলেট জেলার আরও চারটি উপজেলা আ.লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু কোনো উপজেলার কমিটি এখনও অনুমোধন পায়নি বিদায় আমাদের কমিটির জন্য উত্তাপন করা হয় নাই। যখন উত্তাপন করা হবে তখনই কমিটি অনুমোধন লাভ করবে।
যারা অভিযোগ করে তারা বিএনপি-জামাত কে শক্তিশালী করতে চেষ্টা করে, কারণ তারা কোনোদিন জাতির পিতার জন্মদিন,বিজয় দিবস,স্বাধীনতা দিবস, শহীদ মিনারে ফুল দেয় না বলে তিনি জানান।


