ওসমানীনগরে আ.লীগ ও যুবলীগের সমাবেশ স্থলে ১৪৪ ধারা জারি
প্রকাশিত হয়েছে : ০২ ডিসেম্বর ২০১৫ ইং, ৬:৩৮ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ১১২৭ বার পঠিত
ওসমানীনগর প্রতিনিধি:: সিলেটের ওসমানীনগরে বুধবার আবারও ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন। আ’লীগের বিরোধমান দুটি গ্রুপ কর্মসূচী আহ্বান করায় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে উপজেলার গোয়ালাবাজার, তাজপুর ও কদমতলাসহ এর আশপাশ এলাকায় সবধরণের সভা-সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোহাম্মদ শওকত আলী। বুধবার দুপুর ১টা থেকে জারি করা ১৪৪ ধারা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তা বলবৎ থাকবে। এর আগে আ’লীগের দলীয় কোন্দল ও সংঘর্ষের জেরে গত মাসে দুইবার বার ১৪৪ ধারা জারি হয়েছিল। সব ধরণের অপ্রীতিক ঘটনা এড়াতে সিলেটের সহকারী পুলিশ সুপার (সদর দক্ষিণ সার্কেল) আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে তাজপুর ও গোয়ালাবাজার এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
জানা যায়, বুধবার যুক্তরাজ্য আ’লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী অনুসারী উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আলতাফুর রহমান সোহেলের নেতৃত্বে পূর্ব ঘোষিত বিজয় র্যালী করতে কয়েক সহস্রাধিক নেতাকর্মী ওসমানীনগর থানা সংলগ্ন এলাকায় এসে জড়ো হয়। অপরদিকে জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সাংসদ শফিকুর রহমান চৌধুরী অনুসারী উপজেলা আ’লীগের সভাপতি আতাউর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান চৌধুরী নাজলুর নেতৃত্বে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গৃহিত প্রতিবাদ কর্মসূচী বাস্তবায়নের জন্য তাজপুর এলাকায় নেতাকর্মীরা অবস্থান নেয়। এমন অবস্থায় চারদিকে কারণে চারদিকে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। এতে দুই গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে দাঙ্গাহাঙ্গামার আশংকা দেখা দেয়ায় এলাকায় ১৪৪ধারা জারি করে মাইকিযোগে প্রচার করে পুলিশ প্রশাসন। যার কারণে দুই পক্ষের কর্মসূচী পন্ড হয়ে যায়।
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার রাতে প্রতিবাদ সভা ও মিছিল কর্মসূচী প্রচারের মাইক ও গাড়ি প্রতিপক্ষ নেতাকর্মীদ্বারা ভাংচুরের অভিযোগে রাত ৮ থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত তাজপুর এলাকায় সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে শফিক চৌধুরী অনুসারীরা। অবরোধেরকালে একটি গাড়ি ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। এসময় মহাসড়কের দু’দিকে শতশত যানবাহন আটকা পড়লে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হয় সাধারণ যাত্রীসহ পরিবহনের সাথে সংশ্লি¬ষ্টদের। এঘটনার পর থেকে এলাকায় দুটি গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করে।
ওসমানীনগর থানার ওসি মুরসালিন বলেন, দুই পক্ষের কর্মসূচী ও নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ থাকায় এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। সব ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সার্কেল স্যারের নেতৃত্বে এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ রয়েছে।
প্রসঙ্গত, বিগত ২১ নভেম্বর বিকালে গোয়ালাবাজারস্থ শাদীমহল কমিউনিটি সেন্টারে শ্রমিক লীগের সম্মেলন চলাকালে আওয়ামীলীগ নেতা নাজলু ও যুবলীগ নেতা সোহেলের মধ্যে কথা কাটাকাটির জের ধরে ওই দিন সন্ধ্যায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে নাজলু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, অফিসসহ বেশক’টি মোটরসাইকেল ভাংচুর করা হয়। এর প্রতিবাদে আওয়ামীলীগ গতকাল বুধবার গোয়ালাবাজার মাইক্রবাস স্ট্যান্ডে সমাবেসের ডাক দেয়।


