ওসমানীনগরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে শিক্ষার্থীরা
প্রকাশিত হয়েছে : ০৬ ডিসেম্বর ২০১৫ ইং, ৫:০৫ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ৬০৫ বার পঠিত
ওসমানীনগর প্রতিনিধি:: সিলেটের ওসমানীনগরের ইকবাল আহমদ স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের টিসি দিয়ে বের করে দেয়ার হুমকি এবং এক শিক্ষার্থীকে গলা ধাক্ষা দেয়া ও অতিরিক্ত ফি আদায়সহ বিভিন্ন অনিয়ম দূর্নীতির অভিযোগে প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। গতকাল শনিবার শিক্ষার্থীদের শ্রেণীকক্ষ থেকে বের করে দিলে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এর আগে গত ১ ডিসেম্বর কলেজ সেকশনের শিক্ষার্থীরা তাকে তালাবন্ধ করে রাখার ঘটনাও ঘটেছে। এছাড়াও প্রভাব খাটিয়ে অনিয়মের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানে স্বজনদের নিয়োগের অভিযোগও উঠেছে এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানে কলেজ সেকশন চালু হওয়ার পর প্রতিষ্ঠাতাদের প্রতিশ্রুতির প্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীরা অবৈতনিক শিক্ষা গ্রহণ করে আসছিল। কিন্তু গত নভেম্বর মাসে প্রতিষ্ঠান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শিক্ষার্থীদের ওপর মাসিক বেতন ও পরীক্ষার ফি ধার্য্য করলে শিক্ষার্থীরা তা প্রত্যাহারের জন্য লিখিত আবেদন জানায়। কিন্তু আবেদন নাকোচ করে দিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে তাদের টিসি দিয়ে বের করে দেয়ার হুমকি দেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম।
এর পর গত ১ ডিসেম্বর শিক্ষার্থীরা তার অফিসে গিয়ে সকলের টিসি চাইলে এক শিক্ষার্থীকে তিনি গলাধাক্ষা দিয়েও বের করে দেন। এসময় শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে ভিতরে আটকে রেখে অফিসে তালা দেয়। শনিবার শিক্ষার্থীরা ক্লাসে গেলে তিনি তাদের ক্লাস থেকে বের করে দেন। এতে শিক্ষার্থীরা কলেজ মাঠে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। বিষয়টি নিয়ে শনিবার সন্ধ্যায় ম্যানেজিং কমিটির সদস্যসহ এলাকার অভিভাবকরা এক সভায় মিলিত হয়ে শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন।
এদিকে প্রভাব খাটিয়ে ঐ ভারপ্রাপ্ত প্রধানের বিরুদ্ধে অনিয়মের মাধ্যমে স্ত্রী, শ্যালকসহ কয়েকজন আত্মীয়কে নিয়োগ, অতিরিক্ত ফি আদায়সহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে।
গত ২৫ নভেম্বর অতিরিক্ত ফি আদায়ের ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেছেন এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর অভিভাক স্থানীয় আহমেদুর রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, বোর্ডের নির্ধাতি ফি না নিয়ে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৪হাজার ১’শ থেকে ৪ হাজার ২’শ টাকা পর্যন্ত ফ্রি আদায় করা হয়েছে। আবেদনের প্রেক্ষিতে বিষয়টি তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দেয়ার জন্য উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মোঃ সাদেক মিয়াকে দায়িত্ব দেয়া হলে গত ৩ ডিসেম্বর তিনি সরেজমিন বিষয়টি তদন্ত করেন।
অভিযোগকারী অভিভাবক আহমদুর রহমানসহ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অভিভাবক জানান, অতিরিক্ত ফি আদায়সহ বিদ্যালয়ে বিভিন্ন ধরণের অনিয়ম দূর্নীতি করে আসছেন ঐ ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানে স্ত্রী, শ্যালকসহ একাধিক আত্মীয়কে চাকরিও দিয়েছেন।
ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মো. সইদুর রহমান চৌধুরী বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সমস্যার বিষয়ে আমরা সাধারণ সভায় বসেছিলাম। ম্যানেজিং কমিটির পরবর্তী সভায় বিষয়টি নিস্পত্তি করা হবে।
এব্যাপারে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শফিকুল ইসলাম এব্যাপারে আমি কিছু বলতে চাইনা, দুটি বিষয় নিয়েই তদন্ত চলতেছে বলে তিনি জানান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শওকত আলী বলেন, অতিরিক্ত ফি আদায়ের বিষয়টি দতন্তধীন রয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।


