পদ্মা পাড়ে উচ্ছ্বাস, শনিবার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
প্রকাশিত হয়েছে : ১১ ডিসেম্বর ২০১৫ ইং, ৭:৪৩ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ১১৯৬ বার পঠিত

প্রধানমন্ত্রীর আগমনের খবরে এ এলাকার মানুষের মনে বইছে আনন্দের হাওয়া। তাদের প্রাণের দাবি পদ্মা সেতুর মূল কাজের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। তাই প্রধানমন্ত্রীকে সম্মান ও স্বাগত জানাতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে এলাকাবাসী।
সব মিলিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দলীয় নেতা-কর্মীদের যেন দম ফেলার সুযোগ নেই। আগামীকাল সকালে শরীয়তপুরের জাজিরা পয়েন্টে পদ্মা বহুমুখী সেতুর নদীশাসন কাজের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে লৌহজংয়ের মাওয়া পয়েন্টে পদ্মা বহুমুখী সেতুর মূল পাইলিংয়েরে কাজ উদ্বোধন করবেন। এর পর বিকেলে লৌহজংয়ের খানবাড়ি মাঠে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণ দেবেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও জনসভার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। প্রস্তুত করা হয়েছে মঞ্চ। দুই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার জন্য ২ সহস্রাধিক পুলিশ সদস্য রয়েছে। এ ছাড়া র্যাব, সেনাবাহিনীসহ সাদা পোশাকে বিভিন্ন বাহিনীর সদস্য রয়েছে। সব ভেন্যুতেই থাকবে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মুন্সীগঞ্জে আগমন উপলক্ষে জেলার লৌহজংয়ে সাজ সাজ রব উঠেছে। মাওয়া থেকে দোগাছি পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটার এলাকা নান্দনিকভাবে সাজানো হয়েছে। খানবাড়ি এলাকায় ৭ একর জায়গা জুড়ে জনসভা হবে। ঢাকা-মাওয়া সড়কে তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে। লাগানো হয়েছে ছোট-বড় ব্যানার ও ফেস্টুন। স্থানীয় আওয়ামী লীগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের বিভিন্ন দফতর কাজ করে যাচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে এএসপি (সার্কেল) সামুসজ্জামান বাবু বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতুর মূল কাজ উদ্বোধন উপলক্ষে আসবেন। তাই নিরাপত্তা প্রস্তুতি গ্রহণ করা। এখানে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। পুরো এলাকায় ফোর্স নিয়োগ করেছি। কয়েকটি ভেন্যু আছে। সব জায়গায় ১৫/২০ দিন আগে থেকেই ফোর্স নিয়োজিত রয়েছে। যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুপুর ১২টায় লৌহজংয়ের মাওয়া পয়েন্টে পদ্মা বহুমুখী সেতুর মূল পাইলিং কাজের উদ্বোধন করবেন। আধা ঘণ্টার এই অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী দোগাছি সার্ভিস এরিয়া-১ এ নামাজ আদায় ও মধাহ্নভোজ করবেন। পরে দুপুর আড়াইটায় মাওয়া চৌরাস্তা গোল চত্বর সংলগ্ন মেদেনীমণ্ডল খানবাড়ি এলাকায় আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় ভাষণ দেবেন। ভাষণ শেষে বিকাল সোয়া ৪টার দিকে প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারযোগে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন।
পদ্মার মাওয়া পাড় থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার দূরত্বে নদীর মধ্যে অবস্থিত ৭ নম্বর ব্লক। যেটিকে পুরোপুরি প্রস্তুত করে তোলা হয়েছে মূল পাইলিংয়ের জন্য। ইতোমধ্যে নদীতে নিয়ে আসা হয়েছে ১৩৫ মিটার দৈর্ঘ্যের পাইল। নদীর পাড়ে জড়ো করা হয়েছে অন্য পাইলগুলোও।
৭ নম্বর সংখ্যাটিকে সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। আর পদ্মা সেতু যেহেতু দেশের দক্ষিণাঞ্চলের কোটি মানুষের জন্য সৌভাগ্যের প্রতীক হয়ে আসছে। তাই হয়তো এই ৭ নম্বর ব্লককে নির্ধারণ করা হয়েছে আনুষ্ঠানিক মূল পাইলিংয়ের জন্য। আর এ রকম ৬টি পাইলের ওপর নির্মাণ করা হবে এক একটি পিলার। যেটি করতে সময় দরকার হবে ১ মাসেরও বেশি। আর পর্যায়ক্রমে এ রকম আরো ৪১টি পিলারের ওপর নির্মাণ করা হবে ৬ দশমিক এক পাঁচ কিলোমিটারের পদ্মা সেতু।