শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস আজ
প্রকাশিত হয়েছে : ১৪ ডিসেম্বর ২০১৫ ইং, ১১:০৮ পূর্বাহ্ণ | সংবাদটি ১১৪১ বার পঠিত
নিউজ ডেস্ক:: আজ ১৪ ডিসেম্বর মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে রক্তেভেজা একটি বেদনাবিধূর দিন। পাকিস্তান হানাদার বাহিনী এবং তাদের সহযোগীরা এই দিনে দেশের খ্যাতিমান বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে। মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয় প্রক্কালে মাত্র দু’দিন আগে ১৯৭১ সালের এই দিনে বুদ্ধিজীবীদের উপর হত্যাযজ্ঞ চলে।
হায়েনারা রাতের অন্ধকারে বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে হামলা চালিয়ে শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, সাংবাদিকসহ দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের ধরে নিয়ে হত্যা করে। পরাজয়ের অন্তিম মুহুর্তে দখলদার বাহিনীর নির্মম-নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞ গোটা মানুষকে স্তম্ভিত করে তুলেছিল। গোপন অজ্ঞাত স্থানে হত্যাকাণ্ড চালানোর পর অনেকের লাশ ফেলে রাখা হয়েছিল মিরপুরসহ রায়েরবাজারের বধ্যভূমিতে।
লাশের স্তুপে কারও চোখ ছিল না, কারও মাথা ছিল না, কারও হাত-পা ছিল না। বেয়নেটের খোঁচায় অনেকের পেটের নারী-ভুরি বেরিয়ে গিয়েছিল। এ কারণে অনেকে তাদের প্রিয়জনের লাশ সনাক্ত করতে পারেননি।
ইতিহাসে এ নিষ্ঠুরতার শিকার হয়েছিলেন, অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী, অধ্যাপক জিসি দেব, অধ্যাপক মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী, অধ্যাপক জ্যোতির্ময় গুহ ঠাকুরতা, অধ্যাপক গিয়াস উদ্দিন, অধ্যাপক মনিরুজ্জামান, অধ্যাপক আনোয়ার পাশা, সন্তোষ ভট্টাচার্য, সাংবাদিক সাহিত্যিক শহীদুল্লাহ কায়সার, সিরাজুদ্দীন হোসেন, আনম গোলাম মোস্তাফা, নাজমুল হক লাতু ভাই, খন্দকার আবু তালেব, আবুল খায়ের, রাশিদুল হাসান, ডা. আলীম চৌধুরী, ডা. রাব্বী, ডা. আজাদ, চলচ্চিত্রকার জহির রায়হান প্রমুখ।
এ হত্যাকাণ্ডের কথা স্মরণ করে প্রতিবছর১৪ ডিসেম্বর পালিত হয় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে নির্মিত হয়বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ। এটি ঢাকার মিরপুরে অবস্থিত। পাকিস্তানী সেনাবাহিনী, রাজাকার ও আল-বদর বাহিনীর সহায়তায় বাংলাদেশের বহুসংখ্যক বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে তাদের মিরপুর এলাকায় ফেলে রাখে। সেই সকল বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে সেই স্থানে বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ নির্মিত হয়। এছাড়া জাতির সূর্যসন্তানদের স্মরণে ঢাকার রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে নির্মাণ করা হয়েছে ‘শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ’।
প্রতিবছর ১৪ ডিসেম্বর বিনম্র শ্রদ্ধায় রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মরণ করেন।