সিলেট বিভাগে আ.লীগের ঘরে জয়, স্তম্বিত বিএনপি
প্রকাশিত হয়েছে : ৩০ ডিসেম্বর ২০১৫ ইং, ১০:৫৮ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ১৪২৫ বার পঠিত
ডেইলি বিশ্বনাথ ডেস্ক:; সিলেটের ১৬ পৌরসভা নির্বাচনে ‘এক তরফা’ জয় পেয়েছে আওয়ামীলীগ। বিভাগের তিন জেলার ১১ পৌরসভার একটিতেও জিততে পারেনি বিএনপি। শুধু হবিগঞ্জের পাঁচটি পৌরসভার তিনটিতে জয় পেয়েছে দলটি। বাকি দু’টিতে জয়ী হয়েছে আওয়ামীলীগ।
১৬ পৌরসভার মধ্যে ১০টিতে আওয়ামীলীগ, তিনটিতে বিএনপি ও তিনটিতে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। এরমধ্যে সিলেটের জেলার তিনটি পৌরসভার একটিতে জয় পেয়েছে আওয়ামীলীগ, দুইটিতে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী, সুনামগঞ্জ জেলার চারটিতেই জয় পেয়েছে আওয়ামীলীগ। মৌলভীবাজার জেলার তিনটিতে আওয়ামীলীগ ও একটিতে দলটির বিদ্রোহী প্রার্থী এবং হবিগঞ্জের তিনটিতে বিএনপি ও দুইটিতে আওয়ামীলীগের প্রার্থী জয়ী হয়েছেন।
এই জয়ে আওয়ামীলীগের ঘরে উল্লাস দেখা দিলেও স্তম্বিত হয়ে পড়েছে বিএনপি। এত বড় ব্যবধান কিছুতেই মানতে পারছে না দলটি।
সিলেট
সিলেটের তিনটি পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। পৌরসভাগুলো হলো গোলাপগঞ্জ, কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ। এরমধ্যে দুটিতে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী ও একটিতে আওয়ামীলীগের প্রার্থী মেয়র পদে বিজয়ী হয়েছেন।
গোলাপগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সিরাজুল জব্বার (মোবাইল ফোন) বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ৪ হাজার ৪৪৫ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী আমিনুর রহমান লিপন (নারকেল গাছ) ৩ হাজার ২০৫ ভোট। এছাড়া বিএনপির গোলাম কিবরিয়া শাহিন পেয়ছেন ২ হাজার ৭৭১ ভোট ও আওয়ামীলীগের প্রার্থী বর্তমান মেয়র জাকারিয়া আহমদ পাপলু পেয়েছেন ২ হাজার ৪৪৭ ।
কানাইঘাট পৌরসভার আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী নিজাম উদ্দিন আল মিজান (নারকেল গাছ) ৩ হাজার ৩৭৮ ভোট পেয়ে বেসরকারি ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামীলীগের প্রার্থী বর্তমান মেয়র মো. লুৎফুর রহমান (নৌকা) প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ২৮৯৭ ভোট।
জকিগঞ্জ পৌরসভা আওয়ামীলীগের প্রার্থী হাজী খলিল উদ্দিন (নৌকা) ১ হাজার ৫৩০ ভোট পেয়ে বেসরকারীভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম হয়েছেন আঞ্জুমানে আল ইসলাহ সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী হিফজুর রহমান (মোবাইল ফোন) পেয়েছেন ১ হাজার ৩৭১। ১৫৯ ভোটের ব্যবধানে হাজী খলিল বিজয়ী হয়েছেন। এছাড়া আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ফারুক আহমদ (জগ) ১ হাজার ৩৪৩, খেলাফত মজলিসের জাফরুল ইসলাম (দেয়ালঘড়ি) ১ হাজার ২৫৩, জাপার প্রার্থী বর্তমান মেয়র আব্দুল মালেক ফারুক (লাঙ্গল) ১ হাজার ২৪৮, বিএনপির অধ্যাপক বদরুল হক বাদল (ধানের শীষ) পেয়েছেন ১ হাজার ২০৩ ভোট।
সুনামগঞ্জ
সুনামগঞ্জের চারটি পৌরসভায় ভোট গ্রহণ হয়েছে। এরমধ্যে সবকটিতেই বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামীলীগের প্রার্থীরা।
সুনামগঞ্জ সদর পৌরসভায় আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী আয়ুব বখত জগলুল (নৌকা) পেয়েছেন ১৪ হাজার ৫৩৩ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি স্বতন্ত্র প্রার্থী দেওয়ান গণিউল সালাদিন (মোবাইল) পেয়েছেন ১০৪৩৪ ভোট। বেসরকারিভাবে জগলুল বিজয়ী হয়েছেন।
ছাতক পৌরসভায় আওয়ামীলীগের আবুল কালাম চৌধুরী (নৌকা) পেয়েছেন ১০ হাজার ৮২৬ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আ’লীগ বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুল ওয়াহিদ মজনু (মোবাইল) ৪ হাজার ৬৫১ ভোট। বেসরকারিভাবে কালাম চৌধুরী বিজয়ী হয়েছেন।
দিরাই পৌরসভায় আওয়ামীলীগের মোশারফ মিয়া (নৌকা) পেয়েছেন ৭ হাজার ৪৪২ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপি মঈন উদ্দিন চৌধুরী মাসুক (ধানের শীষ) পেয়েছেন ৬ হাজার ৫২৫ ভোট। বেসরকারীভাবে মোশারফ মিয়া বিজয়ী হয়েছেন।
জগন্নাথপুর পৌরসভায় আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী আব্দুল মনাফ (নৌকা) বেসরকারীভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা ৯ হাজার ৩২৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপির প্রার্থী রাজু আহমেদ (ধানের শীষ) পেয়েছেন ৫ হাজার ৬৯১ ভোট। এছাড়া এ পৌরসভার স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহ নুরুল করিম পেয়েছেন ১ হাজার ৭১১ ভোট।
মৌলভীবাজার
মৌলভীবাজার জেলার চার পৌরসভার তিনটিতে জয়ী হয়েছেন আওয়ামীলীগের প্রার্থীরা। একটিতে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী।
মৌলভীবাজার সদরে আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থী ফজলুর রহমান (নৌকা) ১২ হাজার ৩৯৯ ভোট পেয়ে বেসরকারি ভাবে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী অলিউর রহমান (ধানের শীষ) পেয়েছেন ৭২৪৮ ভোট।
কুলাউড়া পৌরসভাতে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী শফি উল আলম ইউনুস (নারকেল গাছ) ৪ হাজার ৩৩১ ভোট পেয়ে মেয়র পদে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির কামাল আহমদ জুনেদ (ধানের শীষ) পেয়েছেন ৪ হাজার ১৭৪ ভোট।
কমলগঞ্জ পৌরসভাতে আওয়ামীলীগ প্রার্থী জুয়েল আহমদ (নৌকা) ৩ হাজার ৯৯০ ভোট পেয়ে মেয়র পদে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী জাকারীয়া হাবিব বিপ্লব ২ হাজার ৮০৪ ভোট পেয়েছেন। বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী আবু ইব্রাহিম জমসেদ পেয়েছেন ২১৬৯ ভোট।
বড়লেখা পৌরসভাতে আওয়ামীলীগ প্রার্থী কামরান চৌধুরী ৪ হাজার ৪৭ ভোট পেয়ে মেয়র পদে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী খিজির আহমদ পেয়েছেন ২ হাজার ৫৭৭ ভোট।
হবিগঞ্জ
সিলেট বিভাগের তিন জেলায় ভড়াডুবি হলেও হবিগঞ্জ জেলায় সান্ত¡নার ফলাফল পেয়েছে বিএনপি। এ জেলার ৫টি পৌরসভার ৩টিতে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা।
হবিগঞ্জ সদরে কারান্তরীন জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক জিকে গউছ ১০ হাজার ৭৯৭ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী মিজানুর রহমান ৯ হাজার ২৬৪ ভোট এবং আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আতাউর রহমান সেলিম পেয়েছেন ৭ হাজার ৪০৩ ভোট।
চুনারুঘাটে বিএনপি’র নাজিম উদ্দিন শামসু বেসরকারিভাবে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রাপ্ত ভোট ৭ হাজার ৭৩৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের সাইফুল ইসলাম রুবেল পেয়েছেন ৪ হাজার ৭২১ ভোট।
নবীগঞ্জে বিএনপি সাবির হোসেন চৌধুরীর ৫ হাজার ৬২১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র তোফাজ্জল ইসলাম চৌধুরীর পেয়েছেন ৩ হাজার ৭৭৩ ভোট।
মাধবপুরে আওয়ামী লীগের হিরেন্দ্র লাল সাহা ৫ হাজার ৭১৩ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি’র হাবিবুর রহমান মানিক পেয়েছেন ৪ হাজার ৯৪০ ভোট।
শায়েস্তাগঞ্জে নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগের ছালেক মিয়া পেয়েছেন ৩ হাজার ৯৭৩ ভোট। ধানের শীষ প্রতীকে ফরিদ আহমদ ওলি পেয়েছেন ৩ হাজার ৮৯০ ভোট পেয়েছেন।
বুধবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ চলে এসব পৌরসভায়।সূত্র সিলেটের সকাল


