বিজয়ের আনন্দে ভাসছে বাংলাদেশ
প্রকাশিত হয়েছে : ১৬ ডিসেম্বর ২০১৫ ইং, ১১:৫৬ পূর্বাহ্ণ | সংবাদটি ৮৪৪ বার পঠিত

আর এই মহান বিজয় দিবসের আনুষ্ঠানিকতা বুধবার ভোরে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে শুরু হয়। সেই সঙ্গে ভোর ৬টা ৩৫ মিনিটে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে মুক্তিসেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। শহীদদের স্মরণে বিউগলে বাজানো হয় করুণ সুর। এ সময় কিছুটা সময় নীরবে দাঁড়িয়ে একাত্তরের সেই শহীদদের স্মরণ করেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। আর এভাবেই সাড়া বাংলাদেশে উদযাপন শুরু হয় বিজয়ের আনন্দ। মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী শ্রদ্ধা জানানোর পর জাতীয় স্মৃতিসৌধ খুলে দেয়া হয় সবার জন্য। আর সঙ্গে সঙ্গে পতাকা, ফুল হাতে জনতার ঢল নামে সৌধ প্রাঙ্গণে। ফুলে ফুলে ভরে ওঠে শহীদের স্মৃতির মিনার।
বরাবরের মতো এবারও মহান বিজয় দিবস পালনের বিভিন্ন কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। সরকারি এক তথ্যবিবরণীতে বলা হয়েছে, মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আজ সকাল ১০টায় জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে বিজয় দিবস কুচকাওয়াজ হবে। এতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন।
এ ছাড়া বিজয় দিবস উপলক্ষে হাসপাতাল, শিশুসদন ও কারাগারগুলোতে পরিবেশন করা হবে বিশেষ খাবার। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে রাজধানীসহ সারা দেশে বিজয় শোভাযাত্রাসহ নানা কর্মসূচি পালন করা হবে। বিএনপি ঢাকায় বিজয় শোভাযাত্রা করবে। জাতীয় পার্টি, ওয়ার্কার্স পার্টি, সিপিবিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকেও নানা কর্মসূচি নেয়া হয়েছে।
এ দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি আয়োজন করেছে ‘রোড টু ইন্ডিপেন্ডেন্স ১৯৭১’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনী। ১৭৫৭ থেকে শুরু করে ১৯৭১ পর্যন্ত বিভিন্ন আলোকচিত্রের এ প্রদর্শনী চলবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক এর উদ্বোধন করেন। এ ছাড়া বিজয় দিবসের সকালে টিএসসি থেকে সাইক্লিং ক্লাবের বিজয় র্যালি শুরু হয়। এর আগে মঙ্গলবার রাত ১১টা ৫৯ মিনিটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য চত্বর ও টিএসসিতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রীক বিভিন্ন সংগঠন। এ সময়ে টিএসসি এলাকায় ছিল স্লোগান ৭১ এর আতশবাজির আয়োজন। আকাশে উড়ানো হয় ফানুস।
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয় আমাদের এই বিজয়। বিশ্বের মানচিত্রে অঙ্কিত হয় বাংলাদেশের নাম। এই দিনেই ঢাকার তৎকালীন রেসকোর্স (এখন সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ময়দানে মুক্তিবাহিনী ও ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় সেনা কমান্ডের যৌথ নেতৃত্বের কাছে আত্মসমর্পণ করেন পাক বাহিনীর নেতৃত্ব দেয়া লেফটেন্যান্ট জেনারেল আমীর আব্দুল্লাহ খান নিয়াজী। আর এর মাধ্যমেই বাঙালী ফিরে পায় লাল-সবুজের বাংলাদেশ।