ওসমানীনগরে দেবোত্তর সম্পত্তি প্রভাবশালীদের দখলের চেষ্ঠা : হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা
প্রকাশিত হয়েছে : ১২ ডিসেম্বর ২০১৫ ইং, ৭:৩২ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ৬৭৩ বার পঠিত
শিপন আহমদ,ওসমানীনগর:: সিলেটের ওসমানীনগরে ইলাশপুর এলাকার শিব ও দূর্গা মন্দিরের জায়গা প্রভাবশালী কর্তৃক দখলের চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সাম্প্রদায়িক শতবছরী মন্দিরটি রক্ষার জন্য মন্দির পরিচালনা কমিটির সদস্যরা সিলেট জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগসহ আদালতে মামলাও দায়ের করেছেন। মামলা নং ৩৫৮। এ দিকে আদালত বন্ধ থাকায় মামলার কার্যক্রম স্থগিত থাকার সুযোগে তড়িগড়ি করে ইলাশপুর গ্রামের কাজল দাস গং মন্দিরের জায়গাটি ভূঁয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে নামজারী করে নেয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ ঘটনায় এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের মধ্যে টান-টান উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোন সময় রক্তক্ষয়ি সংঘর্ষের আশংঙ্কা রয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ওসমানীনগর উপজেলার ইলাশপুর গ্রামের রমেশ চন্দ্র গুপ্ত ইলাশ পুর মৌজার ৭৯ নং জে এল এর ৩৮৬,৬৮০, ৬৭৭ নং খাতিয়ানের ৫২৩, ৫২৪ দাগের প্রায় দুই একর জায়গার মধ্যে প্রায় দুইশত বছর পূর্বে শিব মন্দির স্থাপন করেন। ১৯৬৫ সালে রমেশ চন্দ্র গুপ্ত স্থায়ী ভাবে বসবাসের জন্য ভারতে চলে যান। সেই থেকে এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন পরিচালনা কমিটির গঠনপূর্বক উক্ত শিব ও দূর্গা মন্দিরে রুপান্তরিত করে সম্মেলিতভাবে পূজা অর্চনার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। সরকারি ও বেসরকারি অনুদানের মাধ্যমে মন্দিরটিকে আধুনিকয়ানও করা হয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে মন্দিরের সংস্কার কাজ শুরু হলেও মন্দিরের জায়গাটি নিজের দাবি করে সংস্কার কাজে আপত্তি করেন ইলাশপুর গ্রামের কাজল দাস গং। এ সময় মন্দির পরিচালনা কমিটির লোকজন কাজল দাসকে তাঁর কাগজ পত্র দেখতে চাইলেও তিনি সঠিক কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেন নি। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় একাধিকবার গ্রাম্য শালিস বৈঠক হলেও কোন সমাধান হয়নি। মন্দিরটি রক্ষার স্বার্থে চলতি মাসের এক তারিখে মন্দির পরিচালনা কমিটির সদস্যরা বাদি হয়ে ইলাশপুর গ্রামের কাজল দাস,বিমল চন্দ্র দাস,বিজয় লাল দাসকে অভিযুক্ত করে যুগ্ন জেলা জজ আদালত সিলেটে মামলা দায়ের করেন। বর্তমানে আদালত বন্ধ থাকায় সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তড়িগড়ি করে মন্দিরের জায়গাগুলো দখলে নেয়ার জন্য কাজল দাস গংরা ভূয়া কাগজপত্র দিয়ে জায়গাটি তাদের নিজেদের নামে রেকর্ড নেয়ার জন্য উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবরে নামজারীর আবেদন করেছেন। মন্দির পরিচালনা কমিটি বিষয়টি জানতে পেরে গত ৮ ডিসেম্বর উক্ত নামজারীর কাযক্রম বন্ধের জন্য উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে উকিল নোটিশ প্রেরন করেছেন। উক্ত শিব মন্দিরের জায়গা দখলকে কেন্দ্র করে এলাকায় টান-টান উত্তেজনা রয়েছে।
মন্দির পরিচালনা কমিটির কোষাধ্যক্ষ ভানু লাল জানান,আমাদের পূর্ব পুরষ থেকে উক্ত শিব ও দূর্গা মন্দিরে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন পূজাঁ-পার্বণ করে আসছেন। বর্তমানে ভূয়া কাগজের মাধ্যমে মন্দিরের জায়গাগুলো দখলের চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছেন কাজল দাস তাঁর সহযোগিরা। বিষয়টি নিয়ে আমরা সম্মেলিত ভাবে কাজল দাসকে মন্দিরের জায়গা দখলের চেষ্ঠা থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ করে ও লাভ হয়নি। তাই সম্প্রদায়িক স্বার্থে মন্দিরটি রক্ষার জন্য আদালতে মামলা দায়ের করেছি।
ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশানার (ভূমি) দায়িত্বে থাকা মো:শওকত আলী বলেন,আদালত কর্তৃক এ সংক্রান্ত কোন আদেশ আমরা পাইনি তবে একটি উকিল নোটিশ পেয়েছি। বিষয়টির সুষ্ট তদন্তের মাধ্যমে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।


