তিন বছরে উদ্ধার হয়নি অপহৃত শিশু কন্যা জয়ী
প্রকাশিত হয়েছে : ০৭ ডিসেম্বর ২০১৫ ইং, ১২:৫৯ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ৬৮০ বার পঠিত
শিপন আহমদ,ওসমানীনগর:: সুন্দর,শান্ত শিষ্ট ও ফুটফুটে চার বছর বয়সী অপহৃত শিশু স্নিগ্ধা দেব জয়ী প্রায় তিন বছরেও উদ্ধার হয়নি। মেয়ের শোকে দিশেহারা হয়ে আছেন পরিবারের লোকজন। এ ব্যাপারে থানায় মামলা দায়ের করার পর দুই জনকে আটক করে পুলিশ। আটককৃত আসামিদের স্বীকারোক্তীমূলক জবানবন্দিতে উদ্ধার কাজ এগিয়ে গেলেও এখনও শিশুটিকে উদ্ধারের কোনো সূরাহ হচ্ছে না। সম্প্রতি জয়ীকে উদ্ধারের জন্য প্রধানমন্ত্রী বরাবরে লিখিতভাবে আবেদনও করেছেন শিশুর পরিবার।
জানা যায়, ২০১৩ সালের ২১ জুলাই সিলেট নগরীর ভাঙ্গাটিকর নবীন ৩৪/৩নং বিজন বিহারী দামের বাসায় মা-বাবার সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে অপহরণের স্বীকার হয় সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার ইলাশ পুর গ্রামের শিক্ষক সন্তোষ কুমার দেব ও সিলেট জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অফিস সহকারী শর্বানী দেব তুলি এক মাত্র সন্তান স্নিগ্ধা দেব জয়ী। এ ব্যাপারে কতোয়ালী থানায় মামলা করেন জয়ী’র পিতা। দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত বছরের ২৪ আগষ্ট সিলেটের কাজির বাজার এলাকার মাছ বিক্রেতা সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সোলেমানপুর গ্রামের আমির উদ্দিনের পুত্র রবিউলকে আটক পুলিশ। আটককৃত রবিউলের স্বীকারোক্তিতে পুলিশ আটক করে শেখঘাট ভাঙ্গাটিকর এলাকার বিনোদ বিহারী দামের ছেলে শঙ্কর দামকে। রবিউল শঙ্করের দেয়া অপহরণের ঘটনার স্বীকারোক্তির ভিত্তিত্বে ও মোবাইল ফোনের কল লিস্টের সূত্র ধরে ২০১৪ সালের ৮ নভেম্বর শ্রীমঙ্গলের সীমান্তবর্তী আমরইল রাবার বাগান এলাকা থেকে পুলিশ আটক করে নর্থইস্ট হাসপাতালের সাবেক নার্স অনিতাকে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতের মাধ্যমে পুলিশি রিমান্ডে নেয়ার পর অনিতার স্বামী কিশোর ভট্টাচার্য অভিযোগ করেন, কোতোয়ালি থানার দুই কর্মকর্তা রিমান্ডে শারীরিক নির্যাতন করেছেন তার স্ত্রী অনিতাকে।
এদিকে অনিতার স্বামীর রিমান্ডের নির্যাতনে অভিযোগটিও উচ্চ আদালতে মিথ্যা প্রমানিত হওয়ার পর এক মাসের মধ্যে জয়ীকে উদ্ধারের নির্দেশ দিয়ে চলতি বছরের ১৩ এপ্রিল সিআইডিতে প্রেরন করে উচ্চ আদালত। সেই থেকে বর্তমানে মামলাটি সিআইডিতে তদন্তাধিন থাকলেও জয়ীকে উদ্ধারের কোনো সূরাহা হচ্ছে না।
জয়ীর মা-বাবা কান্নাজনিত কন্ঠে ডেইলি বিশ্বনাথ ডটকম কে বলেন, গ্রেফতারকৃত অনিতা ও শঙ্কর কে যথাযথভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে জয়ীকে উদ্ধার করা সম্ভব। অপহরণের বিষয়টি ধামা-চাপা দেয়ার জন্য রিমান্ডে নির্যাতন নাটক সাজিঁয়েছে ওরা। অনিতাকে আবারও পুলিশি রিমান্ডে নিয়ে সঠিক ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই ঘটনার সকল রহস্য বের হবে। আমরা ফিরে পাব আমাদের সন্তানকে। এ ব্যাপারে আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সু-দৃষ্টি কামনা করছি।
এ ব্যাপারে সিআইডি সিলেটের পরিদর্শক আবদুল আহাদ বলেন,জয়ী অপহরনরে সঙ্গে অনিতা,শংকরসহ আটককৃত তিন জনের জাবানবন্দী রের্কড আছে। সেই জবানবন্দীর সূত্র থেকে আমরা উদ্ধার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। জেল হাজাতে থাকা আসামিদের আবারও রিমান্ডে আনার জন্য আদালতে আবেদন করেছি।


