জগন্নাথপুরে যে কারণে নৌকার বিজয় ঠেকাতে পারেনি…
প্রকাশিত হয়েছে : ০১ জানুয়ারি ২০১৬ ইং, ৯:৫৭ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ৭১৪ বার পঠিত
ওয়াহিদুর রহমান ওয়াহিদ::গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জগন্নাথপুর পৌরসভা নির্বাচনে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্ধি না থাকায় আলহাজ্ব আব্দুল মনাফের সহজ জয় হয়েছে। নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব আব্দুল মনাফ, বিএনপির প্রার্থী রাজু আহমদ, স্বতন্ত্র প্রার্থী আলহাজ্ব শাহ নুরুল করিম প্রতিদ্বন্ধিতা করেন। এর মধ্যে আলহাজ্ব আব্দুল মনাফ হেভিওয়েট প্রার্থী ছিলেন।
আলহাজ্ব আব্দুল মনাফ জগন্নাথপুর পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে এ নিয়ে ৪ বার অংশ গ্রহন করে ২ বার নির্বাচিত হয়েছেন। ২ বার স্বতন্ত্র ও ২ বার আওয়ামীলীগের দলীয় প্রার্থী হন। ১ বার স্বতন্ত্র ও ১ বার দলীয় প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।
একটানা ৪ বার নির্বাচনে অংশ গ্রহন করায় এলাকায় তাঁর ব্যাপক পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা রয়েছে। এবারের নির্বাচনে আব্দুল মনাফ স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেও বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি ছিল। এর মধ্যে দলীয় প্রতীক নৌকা পাওয়ায় বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা শতভাগ নিশ্চিত হয়ে যায়। যদিও দলীয় গ্রুপিংয়ের কারণে কিছুটা শঙ্কা ছিল।
অবশেষে তিনি বিশাল ব্যবধানে নির্বাচিত হয়েছেন। আলহাজ্ব আব্দুল মনাফের মতো একজন হেভিওয়েট প্রার্থীর সামনে মোকাবেলা করতে হলে আরেকজন হেভিওয়েট প্রার্থীর প্রয়োজন ছিল। কিন্তু এবার তা হয়নি। এবারের নির্বাচনে অংশ গ্রহনকারি অন্য দুই প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থীরা বিভিন্ন দিক থেকে মনাফের চেয়ে পিছিয়ে ছিলেন। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী যুক্তরাজ্য প্রবাসী রাজু আহমদ ছিলেন নতুন মুখ।
তিনি দীর্ঘদিন এলাকায় না থাকায় পরিচিতি ও জনপ্রিয়তার দিক থেকে পিছিয়ে ছিলেন। তিনি যে পরিমাণ ভোট পেয়েছেন তার অধিকাংশ ভোট দলীয় প্রতীক ধানের শীষের কারণে পেয়েছেন। আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী যুক্তরাজ্য প্রবাসী আলহাজ্ব শাহ নুরুল করিম এ নিয়ে ২ বার নির্বাচনে অংশ গ্রহন করায় এলাকায় তাঁর পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা থাকলেও দলীয় প্রার্থী না হওয়ায় তিনি পিছিয়ে ছিলেন। তিনি যে পরিমাণ ভোট পেয়েছেন, শুধু ব্যক্তি ইমেজে পেয়েছেন।
হেভিওয়েট প্রার্থী আব্দুল মনাফের সাথে হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্ধিতা করতে হলে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী বর্তমান পৌর মেয়র আক্তার হোসেন ও আওয়ামীলীগের আরেক হেভিওয়েট প্রার্থী সাবেক পৌর চেয়ারম্যান মিজানুর রশীদ ভূইয়ার মতো ব্যক্তির প্রয়োজন ছিল। কিন্তু এবার তারা নির্বাচনে অংশ গ্রহন না করায় আব্দুল মনাফের সহজ জয় হয়েছে। এছাড়া আব্দুল মনাফের সহজ জয়ের আরেকটি কারণ রয়েছে। বর্তমানে পৌর নাগরিকরা পৌরসভার উন্নয়ন চায়। বর্তমান মেয়র আক্তার হোসেন বিএনপির লোক হওয়ায় তাঁর শতভাগ আন্তরিকতা ও সদিচ্ছা থাকা সত্বেও সরকার দল আওয়ামীলীগ থাকায় বিগত দিনে পৌরসভার কাঙ্খিত উন্নয়ন হয়নি।
হয়তো সরকার দলের মেয়র হলে পৌরসভার কাঙ্খিত উন্নয়ন হতে পারে, সম্ভবতো সেই কারণে সরকার দলের প্রার্থীকে জনগণ নির্বাচিত করেছেন। নির্বাচন পরবর্তী পৌর এলাকার সচেতন নাগরিকদের মধ্যে অনেকে এমনভাবে বিশ্লেষণ করে তাদের মতামত ব্যক্ত করে জানিয়েছেন। এবারের পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী সাবেক পৌর মেয়র আলহাজ্ব আব্দুল মনাফ (নৌকা) প্রতীক নিয়ে মোট ৯ হাজার ৩২৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রাজু আহমদ (ধানের শীষ) প্রতীক নিয়ে মোট ৫ হাজার ৬৯১ ভোট পেয়েছেন। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী আলহাজ্ব শাহ নুরুল করিম (পানির জগ) প্রতীকে মোট ১ হাজার ৭১১ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন।


