বলাৎকারের প্রতিবাদ করায় মাদরাসা ছাত্র সালমানকে হত্যা!
প্রকাশিত হয়েছে : ২৭ জানুয়ারি ২০১৬ ইং, ২:২৬ অপরাহ্ণ | সংবাদটি ২৮০৬ বার পঠিত
তজম্মুল আলী রাজু, মোহাম্মদ আলী শিপন:: সিলেটের বিশ্বনাথে মাদসারা ছাত্র সালমান হত্যার দীর্ঘ প্রায় ২৮দিন পর মুখ খুলে পুলিশ। বুধবার দুপুরে স্থানীয় সাংবাদিকদের সালমান হত্যার বিভিন্ন কারণ তুলে ধরেন থানার ওসি আবদুল হাই। শিক্ষক কর্তৃক বলাৎকারে বাঁধা দেয়ায় খুন করা হয়েছে উপজেলা সদরের জামেয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদানিয়া মাদরাসার ফজিলত ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী সালমান আহমদকে। এমন তথ্য দিয়েছেন ওসি। এছাড়া মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা শিব্বির আহমদের সৎ ভাই ও নিহতের সহপাঠী মহসিন উদ্দিন নাঈম’র বাসা থেকে ব্যবহৃত জুতা উদ্ধার করেছে পুলিশ।
থানার ওসি আবদুল হাই বলেন, নিহত মাদরাসা ছাত্র সালমানকে শিক্ষক বশির আহমদ কর্তৃক দুই বার বলাৎকারের স্বীকার হয়। এমন ভিডিও ফুটেজও রয়েছে। বলাৎকারের বিষয়টি প্রতিবাদ করায় সালমানকে হত্যা করা হতে পারে এমন ধারনা করা হয়েছে।
ওসি বলেন, নিহত মাদরাসা ছাত্র সালমানকে দিয়ে স্থানীয় একটি ব্যাংক থেকে তিন লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়। ওই টাকা নাঈমের যুক্তরাজ্য প্রবাসী এক ভাইয়ের। সালমান কে দিয়ে টাকা তোলার ব্যাংকের ক্লুজ সার্কিট ক্যামেরা ফুটেজও রয়েছে। এ টাকার তোলার কারণেও তাকে হত্যা করা হতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে। বলাৎকার ও টাকা তোলার কারনে সালমানকে হত্যা করা হতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে। এ দুটি তথ্যের ভিত্তিত্বে পুলিশ এই হত্যার রহস্য উদঘাটন করার চেষ্টা করছে। তবে খুবই শিগগিরই পুরো তথ্য বের হয়ে আসবে বলে তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, সালমানের জুতা নাঈমের ঘরেই পাওয়া গেছে। এছাড়াও তদন্তে আরো কিছু স্পর্শকাতর বিষয় ওঠে এসেছে। সঠিক সময়ে ঘটনার রহস্য বেরিয়ে আসবে।
পুলিশ সূত্রে জানাযায়, নিহত মাদরাসা ছাত্র সালমানের সহপাঠী মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা শিব্বির আহমদের ভাই মহসিন উদ্দিন নাঈমের বাসার সামনের রাস্তা থেকে গত ৩০ ডিসেম্বর সালমানের লাশ উদ্ধার করে। পরে নাঈমের ঘরে তল¬াশি চালায় পুলিশ। এসময় সালমানের ব্যবহৃত জুতা পেয়ে হেফাজতে নেয়া হয়। নাঈম তার ঘরে একা থাকলেও ওই সময় বিছানায় পাওয়া যায় একের অধিক লোক থাকার আলামত। পাশে পড়ে থাকা কুশন বিহীন সোফাও রহস্যের জন্মদেয় পুলিশের মনে। নাঈমের মা পুলিশকে জানান কুশন চুরে নিয়ে গেছে। আলামতের ওপর ভিত্তি করে এ ঘরেই হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
বিশ্বনাথ থানার ওসি (তদন্ত) মাসুদুর রহমান বলেন, হত্যার পরদিন উদ্ধার হওয়া জুতা সালমানের মা কুতুবি বেগম সনাক্ত করেছেন। ইতি মধ্যে ওই হত্যাকান্ডের বেশ কিছু তথ্য উদঘাটন করা হয়েছে। নিহত সালমান আহমদকে মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা শিব্বির আহমদের ভগ্নিপতি একই মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা বশির আহমদ বলাৎকার করেন। বলাৎকারের ঐ ভিডিও চিত্রটিও পুলিশের হাতে রয়েছে। পুলিশ ধারনা করছে বলাৎকারে বাঁধা দেয়ায় কারণেই খুন করা হয়েছে সালমানকে। এছাড়া আরো একাধিক কারণ রয়েছে বলেও ওসি সাংবাদিকদের জানান।
তিনি বলেন, সালমান হত্যা মামলায় এখনও পর্যন্ত মাদরাসা প্রিন্সিপালসহ ৭ জনকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। তবে গ্রেফতারকৃত নাঈম জামিনে বের হয়ে আসে বলে তিনি জানান।
এব্যাপারে মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল মাওলানা কামরুল ইসলাম ছমিরের সঙ্গে মুঠো ফোনে আলাপ হলে তিনি মাদরাসায় বাহিরে রয়েছে দাবি করে বলেন, মাদরাসায় এসে তিনি এ বিষয়ে কথা বলবেন।
প্রসঙ্গত, সালমান আহমদ সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার পূর্বগাঁও গ্রামের বাকপ্রতিবন্দি ছোটন মিয়া ও কুতুবি বেগম দম্পত্তির সন্তান। দীর্ঘদিন ধরে সে মাদরাসার বোডিং- থেকে লেখাপড়া করে আসছিল। ৩০ ডিসেম্বর সকালে উপজেলার নতুন বাজার এলাকার তফজ্জুল আলী কমপে¬ক্সের সামনে সালমান আহমদের লাশ পাওয়া যায়। পরদিন ৩১ ডিসেম্বর সালমানের মা বাদি হয়ে বিশ্বনাথ থানায় মামলা দায়ের করেন।


