বলাৎকারের সংবাদ প্রকাশে তোলপাড়, গ্রেফতার আতংকে শিক্ষকরা!
প্রকাশিত হয়েছে : ২৮ জানুয়ারি ২০১৬ ইং, ১০:৪৯ পূর্বাহ্ণ | সংবাদটি ১৭৫৫ বার পঠিত
মোহাম্মদ আলী শিপন:: বিশ্বনাথে মাদরাসা ছাত্র সালমান কে বলাৎকারের প্রতিবাদ করায় হত্যা করা হয়েছে এমন সংবাদ বিভিন্ন গণ মাধ্যমে প্রকাশে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এনিয়ে এলাকায় মানুষের মধ্যে কানাঘোষা চলছে।
এদিকে, সালমান হত্যা মামলায় গ্রেফতার আতংকে রয়েছেন মাদরাসা শিক্ষকরা এমন খবর বিভিন্ন সূত্রে জানাযায়। মাদরাসা ছাত্র সালমান হত্যার পর পুলিশ মাদরাসার প্রায় ৫জন শিক্ষক ও এক ছাত্রকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। পরে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের ছেড়ে দেয় পুলিশ। এতে উপজেলা সদরের মাদানিয়া মাদরাসার ছাত্র সালমান হত্যা মামলায় গ্রেফতার আতংকে রয়েছেন মাদরাসার শিক্ষকরা। ফলে মাদরাসার শিক্ষা ক্ষেত্রে ঘটছে ব্যাঘাত। এমটাই জানা গেছে মাদরাসার কয়েকজন শিক্ষকের সঙ্গে আলাপকালে।
অপরদিকে, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে মাদরাসার প্রিন্সিপালের অনুপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে মাদরাসার ৫৭তম মহা সম্মেলন।
তারা বলেন, সালমান হত্যার প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেফতার করে দৃষ্ঠান্তমূলক শাস্তি হউক। যাতে এ হত্যার মূল রহস্য জনতা জানতে পারে। প্রকৃত হত্যাকারীকে আড়াল করে যেন নিরহ কোনো শিক্ষক ছাত্রকে হয়রানী না করা হয়। সেজন্য প্রশাসনের প্রতি তারা জোর দাবি জানান। অপরাধী যেই হউক তার শাস্তির দাবিও জানান তারা।
সূত্রে জানাযায়, গ্রেফতার হওয়ার ভয়ে মাদরাসার কয়েকজন শিক্ষক পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে ওই সূত্র জানায়। মাদরাসার অনেক ছাত্রও আতংকে রয়েছেন। তাদের অভিভাবকদের মধ্যে বিরাজ করছে অজানা আতংক। মাদরাসার প্রিন্সিপাল গ্রেফতারের পর থেকে মাদরাসার শিক্ষকরা রয়েছেন বেতন ভাতা থেকে বঞ্চিত। তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে রয়েছেন বিপাকে। ফলে শিক্ষকরা প্রিন্সিপালের মুক্তির দাবি জানান।
বুধবার দুপুরে স্থানীয় সাংবাদিকদের সালমান হত্যার বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য পুলিশ খুলে বলে। যা তাৎক্ষনিক বিভিন্ন অনলাইনে প্রকাশ পায়। এনিয়ে মাদরাসায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। গতকাল বুধবার দুপুর থেকে এনিয়ে মাদরাসার শিক্ষক ও ছাত্রদের মধ্যে কানাঘোষা চলতে শুনা যায়। চলে দিনভর আলোচনা-সমালোচনা।
জানাগেছে, গত ৩০ ডিসেম্বর উপজেলা সদরের নতুন বাজারস্থ একটি বাসার সামন থেকে সালমানের লাশ উদ্ধার করা হয়। তাৎক্ষনিক নিহতের সহপাঠী মহসিন আহমদ নাঈমকে আটক করে পুলিশ। পরে তাকে সালমান হত্যার ঘটনায় আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করে পুলিশ। পরে সে জামিনে বের হয়ে আসে। এরপর পৃথকভাবে মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা শিব্বির আহমদ, শিক্ষক বশির আহমদসহ আরও ৪ যুবককে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারের পর সালমান হত্যা মামলায় তাদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। প্রিন্সিপাল গ্রেফতার ও সালমান হত্যার প্রতিবাদে মাদরাসা কর্তৃপক্ষের ব্যানারে উপজেলা সদরের মানববন্ধন কর্মসূচি ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মাদরাসার কর্তৃপক্ষ সংবাদ সম্মেলন করে।
মাদরাসার কর্তৃপক্ষ দাবি করেন, সালমান হত্যাকান্ডকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য একটি মহল উঠে পড়ে লেগেছে। যার ফলে মাদরাসার মানক্ষুন্ন ও ঐতিহ্য বিনষ্ট হচ্ছে বলে তারা জানান। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে সালমান হত্যার রহস্য উদঘাটন করার জন্য পুলিশ প্রশাসনের প্রতি তারা দাবি জানান। মাদরাসার লেখা-পড়া যাতে বিঘœ না ঘটে সে দিকে নজর রাখার জন্য এলাকাবাসীর প্রতি আহবান জানান।
এব্যাপারে বিশ্বনাথ থানার ওসি আবদুল হাই বলেন, মাদরাসার শিক্ষকদের আতংকে থাকার কোনো কারণ নেই। হত্যার সঙ্গে যারা জড়িত তাদেরকে তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি জানান। নিরীহ কোনো মানুষ হয়রানি করা হচ্ছেনা বলে তিনি জানান।


